নথি যাচাই করার প্রয়োজন নেই। যা আছে, তা-ই সঠিক বলে জানিয়ে দিতে হবে। ভাঙড়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শাহজাহান মোল্লার বিরুদ্ধে এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশও জানিয়েছেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজে নিযুক্ত কয়েক জন মাইক্রো অবজ়ার্ভার। তাঁদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই এলাকায় নিযুক্ত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (ইআরও) বিরুদ্ধেও তৃণমূল নেতার সুরে সুর মিলিয়ে পর্যবেক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ প্রায় শেষের পথে। অধিকাংশ এলাকাতেই শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। দু’একটি জেলার কিছু কিছু কেন্দ্রে এখনও শুনানি চলছে। বাকি অংশে শুনানিতে জমা পড়া নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা ওই সমস্ত নথি যাচাই করছেন। ভাঙড়ে সেই কাজ করতেই বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুনানিতে ভোটারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট নথি জমা নিয়েছেন ইআরও-রা। মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের বক্তব্য, ইআরও-দের শুনানির পরেও অনেক ভোটারের নথিতে অসঙ্গতি ছিল। সেগুলি যাচাই করে তাঁরা মতামত দিয়েছেন। তাতেই অসন্তুষ্ট শাহজাহান এবং সংশ্লিষ্ট ইআরও। তাঁদের দাবি, যাচাই না করেই নথিগুলি জমা করিয়ে দিতে হবে কমিশনের কাছে। অন্যথায় ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ‘‘অন্য লোকের ক্ষতি করলে আপনাদেরও ক্ষতি হবে।’’
আরও পড়ুন:
মাইক্রো অবজ়ার্ভারেরা জানিয়েছেন, ভাঙড়ের ওই এলাকায় ‘স্ট্রং ম্যান’ শাহজাহান। তিনি যথেষ্ট প্রভাবশালী। তাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কমিশনের ওই পর্যবেক্ষকেরা। এ বিষয়ে কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সিইও দফতর সূত্রে খবর, বিষয়টি জানানো হয়েছে কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকেও। এ প্রসঙ্গে কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি পেতে হবে।’’
এসআইআরের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল কমিশনের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা পিছিয়ে গিয়েছে। বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। শুনানিতে জমা পড়া নথি যাচাই করে দেখছে কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের কোনও যোগ নেই, তাঁদের পাশাপাশি তথ্যগত অসঙ্গতির কারণেও বহু ভোটারকে এসআইআরের শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, ভাঙড়ে এই তথ্যগত অসঙ্গতির ভোটারদের নথি যাচাইয়েই বাধা দিচ্ছেন তৃণমূল নেতা। ইআরও-র বিরদ্ধে ওঠা অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কমিশন।