পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন কত দফায় হবে, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যার উপরেই। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। সিইও দফতর এ রাজ্যে এক দফাতেই নির্বাচন আয়োজন করার পক্ষপাতী। তারা ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব দিল্লিতে পাঠিয়েছে। কমিশনের সদর দফতরে এ বিষয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা যাবে, কত কোম্পানি প্রয়োজন হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার পরেই ভোটের দফা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোট হয়েছিল সাত দফায়। রাজ্য প্রশাসনকে ইতিমধ্যে সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বুথগুলিকে চিহ্নিত করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। সিইও দফতরের ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘কমিশন সমস্ত জেলাকে সংবেদনশীল বুথ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বলেছে। সেই তালিকা পাওয়ার পরেই নির্বাচনের দফা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ কেন্দ্রীয় বাহিনী সব ভোটকেন্দ্রেই থাকে। তবে সংবেদনশীল বুথগুলিতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের এসআইআর পরিস্থিতি এবং বিধানসভা ভোট নিয়ে শুক্রবার একটি বৈঠক করবে কমিশনের সম্পূর্ণ বেঞ্চ। রাজ্য পুলিশ নির্বাচনের কাজের জন্য ৩৫ হাজার কর্মী দেবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে কমিশনের হিসাব, পশ্চিমবঙ্গে এক দফায় ভোট করাতে হলে ২০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করার কাজ নতুন নয়। তবে সাধারণত, সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়। এ বার তা করা যায়নি। এসআইআরের কাজের জন্য কমিশন ব্যস্ত ছিল। এখন এসআইআরের শুনানি পর্ব প্রায় শেষ। চার মাস আগে সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। জেলায় জেলায় গিয়েছে কমিশনের নির্দেশিকা। প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি দফায় ভোট করার কথা ভাবছে কমিশন। উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রগুলিতে এক দফায় এবং দক্ষিণবঙ্গের কেন্দ্রগুলিতে আরও দুই দফায়। তবে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত নয়।
অতীতে ভোটের সময় এবং ভোটপরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি বিবেচনা করে কমিশন পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলার দিকে বিশেষ নজর রেখেছে। সেই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদহ এবং বীরভূম। সপ্তাহখানেক আগে সমস্ত জেলাকে সাপ্তাহিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল কমিশন। সেই রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাচ্ছেন জেলাশাসকেরা। সূত্রের খবর, সংবেদনশীল বুথের তালিকা হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবে কমিশন। তার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গেও কথা বলবে কমিশন।