নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জন্য যে ১৩টি নথি নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে তার বাইরেও অনেকে অনেক নথি জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এমনকি, ভোটাধিকারের প্রমাণ হিসাবে জমা পড়েছে রক্তের সম্পর্কের শংসাপত্র। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারেরা (ইআরও) কী ভাবে এই সমস্ত নথি জমা নিলেন, প্রশ্ন উঠেছে। এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষে এখন অধিকাংশ কেন্দ্রেই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। পর্যবেক্ষকেরা ভিন্ন নথি দেখে বিস্মিত।
একাধিক কেন্দ্র থেকে রক্তের সম্পর্কের শংসাপত্র জমা পড়েছে এসআইআরের শুনানিতে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এই ধরনের নথি দেওয়া হয়। তা কী ভাবে এসআইআরের শুনানিতে গ্রাহ্য হতে পারে? প্রশ্ন উঠেছে। এই নথি যাঁরা দিয়েছেন, সেই সমস্ত ভোটারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাঁরা এই নথি জমা নিয়েছেন, সেই ইআরও-দেরও চিহ্নিত করছে কমিশন। তাঁদের জবাবদিহি করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
এসআইআরের শুনানির জন্য কমিশনের বেঁধে দেওয়া নথির তালিকায় রয়েছে জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতিগত শংসাপত্রের মতো নথি। যাচাই পর্বে সেই সমস্ত নথিতে অনেক গরমিল খুঁজে পাচ্ছেন কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা। কোথাও দেখা যাচ্ছে, জন্মের আগেই জন্মের শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার এনুমারেশন ফর্মে জন্মের তারিখই লেখেননি ভোটার। কী ভাবে সেই ফর্ম জমা নেওয়া হল, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। এই ধরনের গরমিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হতে পারে।
১৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কমিশন সেই তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই এসআইআরের শুনানি শেষ হয়েছে। দু’একটি জেলার কিছু কেন্দ্রে এখনও শুনানি চলছে। নথি যাচাই সম্পন্ন করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবে কমিশন।