Advertisement
E-Paper

মত্ত হয়ে বিবাদেই মৃত্যু বাঙালি শ্রমিকের, দাবি পুণে পুলিশের! সত্য ঢাকার চেষ্টা দেখছে তৃণমূল, নিহতের বাড়ি যাচ্ছেন অভিষেক

বাংলায় কথা বলার কারণে মহারাষ্ট্রে খুন হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন। এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের। পরিবারেরও একই অভিযোগ। তবে পুণে পুলিশের দাবি, মত্ত হয়ে বিবাদের জেরেই খুন হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া অন্য কোনও কারণ নেই।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৮
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

মহারাষ্ট্রে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনায় এ বার বিবৃতি দিল পুণের পুলিশ। তাদের দাবি, নিহত সুখেন মাহাতো মত্ত অবস্থায় ছিলেন। মত্ত অবস্থায় দু’জনের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন পুরুলিয়ার ওই পরিযায়ী শ্রমিক। সেই বিবাদের জেরেই সুখেন খুন হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে বলে দাবি মহারাষ্ট্রের পুলিশের। তবে মহারাষ্ট্র পুলিশের এই দাবি মানতে চাইছে না পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশ নিজের ‘মুখ বাঁচাতে’ এই তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তৃণমূলের। শুক্রবারই নিহতের পুরুলিয়ার বাড়িতে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত কয়েক মাসে মহারাষ্ট্র-সহ বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। খুনের অভিযোগও উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলা হচ্ছে। পুণের ঘটনাতেও পরিবারের তরফে সেই একই অভিযোগ তোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, এক যুবককে তাঁর ভাষা, পরিচয় এবং তাঁর শিকড়ের জন্য অত্যাচার করে হত্যা করা হল।

মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে এই পোস্ট করার পরে পুণে পুলিশও একটি বিবৃতি দেয়। পুলিশের দাবি, গত সোমবার রাতের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। সুখেন স্থানীয় এক সংস্থায় কাজ করতেন। ঘটনার দিন দুপুর ৩টে নাগাদ কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুখেন। কিন্তু তিনি কাজে যাননি বলেই জানাচ্ছে পুলিশ। তাদের দাবি, কাজে যাওয়ার বদলে পুণের কোরেগাঁও এলাকায় মত্ত হয়ে ঘুরছিলেন সুখেন।

পুণের শিখাপুর থানার ইনস্পেক্টর দীপরতন গায়কোয়াড়ের বক্তব্য, ঘটনার দিন মত্ত হয়ে দু’জনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সুখেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমাদের অনুমান, ওই বচসার পরেই দুই ব্যক্তির হাতে খুন হন তিনি। আমাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। যেখানে মৃত ব্যক্তি (সুখেন)-কে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দু’জনের সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখা যাচ্ছে। তবে হামলার ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়েনি। পরে দেখা যায়, ওই ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে রয়েছেন তিনি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়েছে তাঁকে।”

পুলিশের দাবি, মত্ত হয়ে বিবাদের জেরেই এই খুনটি হয়েছে। এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ নেই। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। পুণে পুলিশের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই জানা যায়, সুখেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবারই পুরুলিয়ায় যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। বস্তুত, সুখেনকে খুনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে বুধবার রাতেই তাঁর বান্দোয়ানের বাড়িতে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোও যান নিহতের বাড়িতে।

রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল যে এই ঘটনায় সুখেনের পাশে থাকবে, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। সকালে সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টেই তিনি লেখেন, “সুখেনের পরিবারের উদ্দেশে আমি বলছি, এই শোকার্ত সময়ে পশ্চিমবঙ্গ আপনাদের পাশে রয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সব রকম পদক্ষেপ করা হবে।” স্থানীয় বিধায়ক রাজীবলোচনের কথাতেও মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ অবস্থায় শুক্রবার পুরুলিয়ায় গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন অভিষেক।

পুণে পুলিশের এই বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের অন্যতম মহিলা মুখ তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “মহারাষ্ট্রে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ধারাবাহিক ভাবে গত কয়েক মাস ধরে বাংলা বলার অপরাধে বাঙালিদের বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্থা, হত্যা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ যখন আমরা তুলছি, তখন বিজেপিশাসিত মহরাষ্ট্র সরকারের পুলিশ মুখ বাঁচাতে একটা অন্য তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করছে। তাতে কোনও লাভ হবে না। সকলেই জানেন কী হচ্ছে।”

migrant worker Bengali Migrant Worker Maharashtra Pune Police Mamata Banerjee Abhishek Banerjee TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy