নিয়ম করে খাবার খাচ্ছেন। ওষুধও চলছে। তার পরেও সকাল হলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি দেখাচ্ছে? ডায়াবেটিকদের এমন সমস্যা নতুন নয়। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার বাদ দেওয়ার পরেও এমন কেন হচ্ছে?
ডায়াবিটিসের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার ওঠা-নামা শুধু খাদ্যাভ্যাসেই নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং হরমোনেরও গুরুতর ভূমিকা থাকে। ঠিকমতো ঘুম না হলে বা মানসিক চাপ থাকলে অনেক সময়ই কর্টিসল, গ্লুকাগন, অ্যাড্রিনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা সকালের দিকে বেড়ে যায়। ঠিক সেই কারণেই সাতসকালে বেড়ে যেতে পারে সুগার।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, যে রোগী নিয়ম করে পরিমিত খাবার খান, ভাজাভুজি বাদ দেন, তাঁরও সকালবেলা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তার কারণ হল বিপাকীয় স্বাস্থ্য। তা যদি ঠিক না থাকে, শরীরের নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই।
আরও পড়ুন:
সমাধানের ৫ উপায়
· ঘুম থেকে উঠেই ধড়ফড় করে কাজ নয়, বরং খানিকটা শান্ত হওয়া দরকার। এই সময় অনেকেরই কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ঘুম ভাঙার পর সোজা হয়ে বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়ার অভ্যাস করলে শরীর-মন শান্ত হবে। স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করবে শ্বাসের ব্যয়াম।
· ঘুম থেকে উঠে একটু থিতু হওয়ার পরে এক থেকে দু'কাপ জল খাওয়া জরুরি। শরীরে জলের অভাব হলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তা ছাড়া, সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য কিডনিরও পর্যাপ্ত জলের দরকার হয়। কিডনি শরীরে জমা অতিরিক্ত শর্করা বার করে দেয়।
· হালকা শরীরচর্চা জরুরি। হাঁটাহাটি, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ়, স্ট্রেচিং করলে শরীরের জমা গ্লুকোজ খরচ হয়। সেই সময় ইনসুলিনেরও দরকার হয় না। তবে খালি পেটে ভারী শরীরচর্চা করা ঠিক নয়।
· গায়ে রোদ লাগানো জরুরি। খোলা হাওয়ায় গেলে বা রোদে বেরোলে শরীরে সঙ্কেত পৌঁছোয়— এ বার কাজ শুরু করতে হবে। সূর্য ওঠা এবং অস্ত যাওয়ার সঙ্গে দেহঘড়িরও সম্পর্ক রয়েছে। রোদ লাগলে শরীর বুঝতে পারে, কোন কাজটি করতে হবে।
· প্রাতরাশে প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখা জরুরি। ডিম, টক দই, পনির, ডাল জাতীয় খাবার সেই তালিকায় রাখা যায়। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বদলে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার জাতীয় খাবারের সঠিক মিলমিশ রক্তে শর্করার মাত্রা বশে রাখতে সাহায্য করে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। ওষুধ খাওয়ার পরেও নিয়ম করে সকালে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।