শীতের শেষে এ বার দুয়ারে বসন্ত। মরসুম বদলের এই সময়ে বাড়বাড়ন্ত হয় ইনফ্লুয়েঞ্জার। উত্তর ভারতে জ্বরে আক্রান্তদের নমুনায় এইচ৩এন২ ইনফ্লুয়েঞ্জার স্ট্রেন পাওয়া যাচ্ছে। খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ইনফ্লুয়েঞ্জার বাড়বাড়ন্ত আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে চিকিৎসকদের কাছে। এক সময়ে কেবল শীতের মাসগুলোতেই ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়ত। কিন্তু এখন আবহাওয়ার ভোলবদলে এবং দূষণের জেরে বছরের যে কোনও সময়েই এই ভাইরাসের দাপট বাড়ছে।
ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাথমিক উপসর্গগুলিকে অনেকেই সাধারণ ঠান্ডা লাগার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। উভয় রোগের ক্ষেত্রেই প্রাথমিক উপসর্গ নাক দিয়ে জল পড়া বা গলা ব্যথা, কিন্তু পার্থক্য থাকে তীব্রতায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু)-র মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ-র এইচ৩এন২ স্ট্রেন, রাইনোভাইরাসের মতোই শ্বাসযন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। শ্বাসজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি হয়।
সাধারণ সর্দি-কাশির প্রভাব সাধারণত শরীরে ধীরে ধীরে শুরু হয়, তবে এইচ৩এন২ ইনফ্লুয়েঞ্জার ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই প্রবল জ্বর আসে, তীব্র কাঁপুনি এবং পেশিতে যন্ত্রণা শুরু হয়। এইচ৩এন২ কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রোগীকে সম্পূর্ণ কাহিল করে দিতে পারে।
মেডিসিনের চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, এইচ৩এন২ ইনফ্লুয়েঞ্জা ছোঁয়াচে। আক্রান্তের হাঁচি-কাশি, থুতু থেকে ছড়াতে পারে। সাধারণ উপসর্গগুলি অনেকটা ভাইরাল জ্বরের মতো। মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে জল ঝরা, কাশি এবং গায়ে-হাতে ব্যথা। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে বা কোনও কোমর্বিডিটি থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে শিশুদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রাণঘাতীও হতে পারে।