Advertisement
E-Paper

প্রস্রাবেই বিপদসঙ্কেত? ইউরিনারি ব্লাডার ক্যানসারের উপসর্গও ধরা পড়তে পারে, কী ভাবে বুঝবেন?

প্রস্রাব, যা আদতে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়ার একটি জৈব প্রক্রিয়া, তা শরীরের সুস্থতার ব্যপারে সঙ্কেত দিয়ে চলেছে প্রতি দিন। নজর করলে অনেক জটিল রোগের ব্যাপারে আগে থেকে সতর্ক হওয়া সম্ভব।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪০
সুস্থতার সঙ্কেত মিলবে প্রস্রাবের ধরনে?

সুস্থতার সঙ্কেত মিলবে প্রস্রাবের ধরনে? ছবি : সংগৃহীত।

শরীর কেমন আছে তা জানতে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু তা তো রোজ করা সম্ভব নয়! শরীরের ভিতরে কখন কী হচ্ছে, কোথাও কোনও কলকব্জা বিগড়োল কি না, তা দেরি হওয়ার আগে বুঝবেন কী করে? শরীর নিজেই সেই বন্দোবস্ত করে রেখেছে। প্রস্রাব, যা আদতে শরীর থেকে ময়লা বার করে দেওয়ার একটি জৈব প্রক্রিয়া, তা শরীরের সুস্থতার ব্যপারে সঙ্কেত দিয়ে চলেছে প্রতি দিন।

প্রস্রাবের রং, গন্ধ বা অভ্যাসের পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রাথমিক সঙ্কেত হিসেবে কাজ করে। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার পাশাপাশি কিডনি, লিভার এবং শরীরের আর্দ্রতার ব্যাপারেও জানান দিতে থাকে প্রস্রাব। এমনকি, প্রস্রাবের ধরণ এবং অভ্যাস থেকে ব্লাডার ক্যানসারের উপসর্গও বোঝা যেতে পারে।

১. রং পরিবর্তন

গাঢ় হলুদ রঙ দেখলে— তা শরীরে অত্যন্ত বেশি জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।

লালচে বা গোলাপি রং হলে— প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বেরোলে তার রং লাল বা গোলাপি দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে কোলা জাতীয় পানীয়ের মতোও হয় এর রং। একে বলা হয় হেমাচুরিয়া। এটি ইউরিনারি ব্লাডার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। তবে কিডনিতে পাথর, মূত্রনালীর সংক্রমণ বা প্রস্টেটের সমস্যা থাকলেও এমন হতে পারে।

গাঢ় বাদামি বা চা-এর মতো রঙ— লিভারের সমস্যা বা জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে।

ফ্যাকাশে বা বর্ণহীন হলে— অত্যধিক জল পান করলে এমন হয়। তবে সারা ক্ষণ এমন হলে তা ডায়াবিটিস ইনসিপিডাস-এর লক্ষণ হতে পারে।

২. ফেনা হওয়া

মাঝেমধ্যে প্রস্রাবের বেগ বেশি হলে সামান্য ফেনা হতে পারে। কিন্তু যদি নিয়মিত প্রস্রাবে অত্যধিক ফেনা থাকে, তবে বুঝতে হবে প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। এটি কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।

৩. তীব্র গন্ধ

প্রস্রাবে হালকা গন্ধ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র কটু বা পচা গন্ধ হয়, তবে তা মূত্রনালীর সংক্রমণ বা কোনো ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। আবার মিষ্টি গন্ধ পাওয়া গেলে তা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসের সঙ্কেত।

৪. প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা

প্রস্রাব করার সময় যদি তীব্র জ্বালা বোধ করেন বা তলপেটে ব্যথা অনুভব করেন, তবে সেটি সাধারণত মূত্রনালীর সংক্রমণ বা কোনও যৌনরোগের লক্ষণ হতে পারে। অবহেলা করলে সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

৫. প্রস্রাবের বেগ

যদি রাতে বার বার শৌচাগারে যেতে হয় বা জল কম খেয়েও যদি বার বার প্রস্রাবের বেগ আসে, তবে তা ডায়াবিটিস, মূত্রথলির সমস্যা বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। ইউরিনারি ব্লাডার বা মূত্রথলির ক্যানসারের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এমন উপসর্গ দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জল না খেলেও মাঝে মধ্যে মনে হতে পারে, প্রস্রাবের বেগ আসছে। আবার প্রস্রাব করার সময় তার বেগ কম হলে বা প্রস্রাব করতে সমস্যা হলেও তা মূত্রথলির ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে।

Urine Analysis Urine Problem Kidney Care Bladder Cancer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy