চার্জশিট পেশ করলেও সন্দীপ ঘোষ-সহ চার জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। সোমবার বিচার ভবনে আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল ইডি। ইডির তরফে নিম্ন আদালতে জানানো হয়েছে, সন্দীপের চার্জশিটের বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ‘প্রয়োজনীয় স্যাংশন’ (অনুমোদন) মেলেনি। ইডি সূত্রে খবর, এই কারণেই সন্দীপদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হলেও তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ এপ্রিল।
কেউ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সন্দীপের ক্ষেত্রে যেমন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন প্রয়োজন।
আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতির মামলায় সম্প্রতি বিচার ভবনে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি। সূত্র মারফত জানা যায়, ওই চার্জশিটে নাম রয়েছে আরজি কর হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপের। পাশাপাশি দুই ব্যবসায়ী বিপ্লব সিংহ এবং সুমন হাজরারও নাম রয়েছে তাতে। উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বস্তুত, আরজি কর দুর্নীতির মামলায় এটিই ইডির প্রথম চার্জশিট। এর আগে সিবিআই এই মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল।
প্রথম চার্জশিট জমা দেওয়ার পরে শুক্রবারই ইডি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ওই বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বলে, “আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা পরিকল্পিত ভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এবং, তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে চেক লেখা হয়েছে। তা দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে অথবা অন্য সহযোগী সংস্থায় সেই টাকা সরানো হয়েছে। পরে সেই নগদ তুলে নেওয়া হয়েছে।” বিবৃতিতে ইডির তরফে দাবি করা হয়, অপরাধের টাকাকে আড়াল করার জন্যই এই ভাবে তা সরানো হয়েছে।