জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ারে চন্দ্রভাগা নদীর উপরে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য ভারতের উদ্যোগের বিরোধিতায় সরব হল পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন (আইডব্লিউটি) চুক্তি ভেঙে ভারত পশ্চিমমুখী নদীগুলির জলের উপর দখলদারি কায়েম করতে চাইলে, কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক কিস্তওয়ারে চন্দ্রভাগা নদীর উপর ২৬০ মেগাওয়াটের দুলহস্তী স্টেজ-২ প্রকল্পের জন্য সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। ডিসেম্বরের শেষপর্বে পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি ৪৫তম বৈঠকে প্রকল্পটির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুমানিক ৩২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের বরাতের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই হুঁশিয়ারি এল ইসলামাবাদ থেকে।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে পাক বিদেশ দফতরের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি বলেন,‘‘আমরা চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদীর উপর দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে ভারতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলি দেখেছি। স্পষ্টতই, ওই প্রতিবেদনগুলি গুরুতর উদ্বেগের। কারণ, ওই প্রকল্প সম্পর্কে পাকিস্তানকে অবহিত করা হয়নি। কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আইডব্লিউটি-র অনুযায়ী ভারত পশ্চিমমুখী কোনও নদীতে একতরফা ভাবে কোনও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য তার ‘সীমাবদ্ধ অনুমতি’র অপব্যবহার করতে পারবে না।’’
প্রসঙ্গত, টানা ন’বছর আলোচনার পরে ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু নদীর জল বণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল। পাকিস্তানের করাচি শহরে গিয়ে এই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের তিনটি নদী, অর্থাৎ বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি) ও শতদ্রু (সতলেজ়)-র জলের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। অন্য দিকে, পশ্চিমমুখী সিন্ধু (ইন্ডাস), চন্দ্রভাগা (চেনাব) ও বিতস্তার (ঝিলম) জল ব্যবহার করতে পারবে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন:
জলের নিরিখে সিন্ধু এবং তার শাখা ও উপনদী মিলিয়ে ৩০ শতাংশ ভারত ও ৭০ শতাংশ পাকিস্তান পাবে বলে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তিতে বলা হয়েছিল। তবে পশ্চিমমুখী তিন নদীর জলের উপর অধিকার না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তা থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা নেই ভারতের। তাই চুক্তি মেনেই ওই নদীগুলির উপর অতীতেও বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর সেই বাঁধগুলির স্লুইস গেট বন্ধ করে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে নয়াদিল্লি। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাক বিদেশ দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সিন্ধু জল কমিশনার ভারতের কাছে দুলহস্তী স্টেজ-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন।