E-Paper

আগের প্রকল্পের কাজই শেষ হয়নি, এরই মধ্যে ডানকুনিতে আবার পণ্যবাহী করিডরের ঘোষণায় প্রশ্ন

রেল জানাচ্ছে, নতুন ঘোষিত পণ্যবাহী করিডর হবে ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি তৈরির জন্য ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর কর্পোরেশন’ (ডিএফসিসিএল)-কে দ্রুত তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২১
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

পূর্ব-পশ্চিম পণ্যবাহী করিডর লুধিয়ানা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার কথা জানিয়েছিল রেল। লুধিয়ানা থেকে বিহারের শোননগর পর্যন্ত তা চালু হয়েও গিয়েছে। পরে শোননগর থেকে রাজ্যের অন্ডাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অংশে করিডরের কাজ এখনও তেমন এগোয়নি। এই অবস্থায় এ মাসের গোড়ায় কেন্দ্রীয় বাজেটে মোদী সরকার নতুন আর একটি পণ্যবাহী করিডর তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। পশ্চিমে সুরাট থেকে সেটিও ওই ডানকুনি পর্যন্ত যাবে। রাজ্যে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, বহু দিন কেটে গেলেও এখনও পণ্যবাহী করিডরের মুখ দেখেনি রাজ্য। আগেরটি পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পুরোপুরি তৈরি হওয়ার আগেই নতুন আর একটি ঘোষণা হয়ে গেল। ফলে কবে সুরাট-ডানকুনি দিনের আলো দেখবে কিংবা আদৌ দেখবে কি না, সে ব্যাপারে সংশয় থাকছেই। রেল মন্ত্রক সূত্রের অবশ্য দাবি, নতুন করিডর নির্মাণের কাজে প্রতি সপ্তাহে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

রেল জানাচ্ছে, নতুন ঘোষিত পণ্যবাহী করিডর হবে ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি তৈরির জন্য ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর কর্পোরেশন’ (ডিএফসিসিএল)-কে দ্রুত তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। সেটি যাবে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের মধ্যে দিয়ে। কলকাতা বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান সম্রাট রাহী বলেন, ‘‘নতুন করিডর পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিভিন্ন শহরের দরজা কলকাতা বন্দরের জন্য খুলে দেবে।’’ রেলমন্ত্রী সেটিকে আধুনিকতম সিগন্যালিং প্রযুক্তিসম্পন্ন এবং লেভেল ক্রসিংবিহীন পথ হিসেবে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। রেল দুর্ঘটনা ঠেকানোর কবচ-সহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। করিডর কোন পথে কী ভাবে নির্মাণ করা হবে, তার রূপরেখা আগেই চূড়ান্ত হয়েছে। নির্দেশ, তৈরির কাজ ত্বরাণ্বিত করতে রেলের পক্ষ থেকে কোন অংশের জন্য কী ভাবে বরাত দেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হোক। সূত্রের দাবি, ঘণ্টায় গড়ে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছোটার উপযোগী করে তৈরি করা হবে ওই করিডরকে। সর্বোচ্চ ৩২.৫ টন অ্যাক্সল লোড এবং উপরে-নীচে একসঙ্গে দু’টি করে কন্টেনার বহনের মতো হবে ওই রেলপথ।

শিল্পের আশা, নতুন করিডর ডানকুনি এবং সুরাটের মধ্যে যোগাযোগ ছাড়াও পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের একাধিক বন্দরের মধ্যে যোগাযোগের পথ সুগম করবে। এর ফলে পণ্যবাহী কন্টেনার চাহিদামতো পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের বন্দরে পৌঁছে দেওয়া যাবে। মহারাষ্ট্রের পালঘরে নির্মীয়মান ভাদভান বন্দরে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই রেলপথ বিশেষ ভাবে কার্যকরী হবে। প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্মীয়মান ওই নতুনটি আগামী দিনে দেশের অন্যতম প্রধান বন্দর হতে চলেছে। এর পাশাপাশি নতুন পণ্যবাহী করিডরকে কেন্দ্র করে ডানকুনিতে বড় মাপের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার কেন্দ্র (লজিস্টিক হাব) গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, দাবি রেলের আধিকারিকদের। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, নতুন করিডর চালু হলে পশ্চিম ভারতগামী যাত্রিবাহী ট্রেনের পথে জট কমবে। ফলে দুর্নাম কাটিয়ে ঠিক সময়ে যাতায়াত করবে বহু ট্রেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

PM Narendra Modi West Bengal government dankuni Central Government schemes Rail Projects

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy