E-Paper

‘খাপ খাওয়াতে পারছি না’, তরুণ নেতার বিচ্ছেদ-আর্জি

রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ বসু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫১
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান।

দলের মধ্যে টানাপড়েন চলছিল অনেক দিন ধরেই। শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভোটের মুখে দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করতে চেয়ে চিঠি দিলেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে পাঠানো চিঠিতে প্রতীক-উর জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কালে দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। মানসিক দ্বন্দ্বে আছেন। তাই রাজ্য ও জেলা কমিটির পাশাপাশি দলের সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি নিচ্ছেন। তাঁর এই চিঠির পরে কী করণীয়, তা নিয়ে এই সপ্তাহেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী ও রাজ্য কমিটির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

প্রতীক-উরের ইস্তফা সংক্রান্ত প্রশ্নে সোমবার বহরমপুরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘আমি কী বলব? এটা দলের অভ্যন্তরীণ এবং সাংগঠনিক ব্যাপার। সাংগঠনিক বিষয়ে সমাজমাধ্যম, সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয় না। দলের কমিটির বৈঠকে হয়। আমাদের পরশু দিন বৈঠক, তার পরে রাজ্য কমিটির বৈঠক আছে, সেখানে আলোচনা হবে।’’

রাষ্ট্রপতি পদে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সমর্থনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রসেনজিৎ বসু। দলের গঠনতন্ত্রের কথা বলে সিপিএম তাঁকে বহিষ্কার করেছিল। আবার আরও আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৈফুদ্দিন চৌধুরী দল ছাড়তে চাওয়ায় তাঁর সঙ্গে ‘সম্মানজনক বিচ্ছেদ’ হয়েছিল। তরুণ নেতা প্রতীক-উরের ক্ষেত্রে কোন পথে হাঁটবে সিপিএম? সূত্রের খবর, দলের মধ্যে এই প্রশ্নে দ্বিমত আছে। ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি ছিলেন প্রতীক-উর, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কালে শাসক দলের হাতে সিপিএমের যে সব নেতা-কর্মী সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম তিনি। এমন এক তরুণ নেতার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর পক্ষপাতী দলের বড় অংশ। কিন্তু সমস্যা হল, প্রতীক-উর মাসদুয়েক দলের বৈঠকে আসছেন না, নেতাদের ফোনও ধরছেন না। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিগত জেলা সম্মেলনে যে অভ্যন্তরীণ বিবাদ দেখা দিয়েছিল, তার পরে ওই জেলা থেকে রাজ্য কমিটির সদস্যদের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ডেকে আলোচনায় বসেছিলেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। প্রতীক-উর সেখানেও আসেননি। দলের একটি সূত্রের বক্তব্য, ছাত্র সংগঠনের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব ছাড়ার পরে প্রতীক-উর দলে সে ভাবে কোনও কাজ পাননি, তা নিয়ে অভিমান জমেছিল দীর্ঘ দিন। তাঁর কথা তখন দলের রাজ্য নেতৃত্ব শুনতে চাননি বলে এখন তাঁদের ডাকে প্রতীক-উরও সাড়া দিচ্ছেন না। যদিও তাঁর চিঠি প্রকাশ্যে চলে আসা এবং তৃণমূল কংগ্রেস তা নিয়ে সরব হওয়ার পরে প্রতীক-উর বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’ কারও নেই। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা বলার, দলকেই বলেছেন।

এমতাবস্থায় দলের একাংশ চাইছে, প্রতীক-উর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় একান্তই রাজি না-হলে বহিষ্কার না-করে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রাক্তন ছাত্র-নেতা এখনও কোনও দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। প্রসঙ্গত, এই সপ্তাহে প্রথমে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক, তার পরের দু’দিন রাজ্য কমিটির বৈঠক রয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির উপস্থিত থাকার কথা রাজ্য কমিটিতে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 CPIM

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy