E-Paper

নতুন মাপকাঠিতে আসন-তথ্যের সমীক্ষা শুরু রাজ্য পুলিশের

প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় ভোট হবে ধরে নিয়ে সেখান থেকেই প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৭
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিধানসভা বা লোকসভা ভোট এলেই রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখা ও দফতরের তরফে আগাম সমীক্ষার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের রীতি। গোয়েন্দা দফতর, স্পেশাল ব্রাঞ্চের আসন সমীক্ষার রিপোর্ট থাকে সরকারি ভাবে। কিন্তু সে রিপোর্টের উপরে পুরোপুরি ভরসা করা হয় না। কারণ, তথ্যগত বিচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে। তাই সে প্রক্রিয়ার বাইরে এবার প্রতিটি থানা-ফাঁড়ির আইসি, ওসিদের মতামত নিয়ে সমীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় ভোট হবে ধরে নিয়ে সেখান থেকেই প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সে জন্য নির্ধারিত ‘ফরম্যাট’ গত সপ্তাহে জেলায় পৌঁছেছে। মার্চের মধ্যে সে গোপন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও গিয়েছে।

রাজ্য পুলিশের এডিজি পদমর্যাদার এক কর্তার কথায়, ‘‘ভোটে কী হতে পারে, তা আগেও পুলিশের শাখা বা গোয়েন্দা বিভাগ সমীক্ষা করেছে। কিন্তু এ বারের এই সমীক্ষায় সরাসরি রাজ্য পুলিশের কর্মীদের কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।’’

নতুন সমীক্ষার জন্য রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে আইসি, ওসিদের মোবাইলে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি ‘ফরম্যাট’ পাঠানো শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, ‘মাইক্রোসফট এক্সেল’ সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক সেই ‘ফরম্যাট’-এ দল হিসাবে কেবল তৃণমূল এবং বিজেপির নামই রয়েছে। অন্য দলের নাম নেই। রিপোর্টে প্রতিটি বিধানসভার নম্বর, নাম দিয়ে আলাদা আলাদা মন্তব্য বা লেখার জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। তবে এই রিপোর্টে কোনও সরকারি মেমো নম্বর থাকবে না। সেখানে কোন আসনে রাজ্যের শাসক এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে কে, কেন জিততে পারে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আসন জয় বা পরাজয়ের সম্ভাব্য কারণ কী-কী হতে পারে, কোন আসনে যুযুধানেরা ৫০-৫০ অবস্থায় রয়েছে, জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, বিশেষ কোনও পর্যবেক্ষণ থাকলে, তা-ও জানানোর নির্দেশ রয়েছে। সূত্রের দাবি, রাজ্য পুলিশের এই সমীক্ষার রিপোর্ট প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেওপৌঁছতে পারে।

উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার ওসি, আইসি-রা জানিয়েছেন, নির্দেশ পেয়ে তাঁদের মনে হয়েছে, জেলায় শাসক দলের পরিস্থিতি তো বটেই, সঙ্গে কোথায় বিজেপি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। এক আইসির কথায়, ‘‘হয়তো শাসক বা বিরোধী ভাল প্রার্থী বাছল, কিন্তু সে এলাকায় তাদের সংগঠনের অবস্থা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, রিপোর্টে এমন জায়গাগুলিই জানতে চাওয়া হচ্ছে।’’ আইসি এবং ওসিদের এই সমীক্ষার রিপোর্ট জেলা পুলিশের শীর্ষ স্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

রাজ্য পুলিশের আর এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘এ বারের ভোট শাসক দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান বিরোধী দলও নানা ভাবে ময়দানে রয়েছে। সে আবহে প্রতিটি আসনের পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাতে ১০-২০ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল থাকলেও, বাকি তথ্যের ভিত্তিতে মোটামুটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসতে পারে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 Siliguri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy