E-Paper

পুরপ্রধান বদলেও নেই সময়ে মজুরি

পুরসভার তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নবনিযুক্ত সভাপতি তথা অস্থায়ী কর্মী সৌমিত্র সিংহের প্রশ্ন, ‘‘মজুরি সমস্যা কবে পুরোপুরি মিটবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে সকলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’’

সুদীপ দাস

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৫

—প্রতীকী চিত্র।

দু’মাস আগে পুরপ্রধান পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভায় অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীদের মজুরি নিয়ে টালবাহানায় ইতি পড়েনি। চলতি মাসের অর্ধেক হয়ে গেলেও তাঁরা কেউ মজুরি পাননি। গত মাসেও নিরাপত্তাকর্মীরা (গার্ড) মজুরি পেয়েছিলেন একবারে শেষ লগ্নে (২৮ জানুয়ারি)। সমস্যা কবে মিটবে, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন।

পুরসভার তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নবনিযুক্ত সভাপতি তথা অস্থায়ী কর্মী সৌমিত্র সিংহের প্রশ্ন, ‘‘মজুরি সমস্যা কবে পুরোপুরি মিটবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। সংসার চালাতে সকলকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’’ পুরপ্রধান সৌমিত্র ঘোষের আশ্বাস, ‘‘পুরসভার আয় বাড়ানোর সব রকম প্রচেষ্টা চলছে। আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকবে না। শ্রমিক-কর্মীরা ঠিক সময়েই মজুরি পাবেন।’’

সময়ে মজুরি এবং বকেয়া মেটানোর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করছিলেন পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীরা। গত বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর পরে তৎকালীন পুরপ্রধান অমিত রায়কে সরিয়ে দেয় তৃণমূল। চেয়ারম্যানের পদে বসানো হয়েছে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি তথা পুর পারিষদ (পূর্ত) সৌমিত্র ঘোষ ওরফে পিল্টেকে। অমিত বরাবরই এলাকার বিধায়ক অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর বলে পরিচিত। পিল্টের পরিচিতি ‘বিধায়ক ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে। নতুন পুরপ্রধান চেয়ারে বসার পরেই অসিত আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘‘এ বার পুরসভা ভাল ভাবে চলবে। সকলেই পুরপ্রধানকে পাবেন। মজুরি সমস্যা মিটবে।’’ কিন্তু তা হয়নি।

ইতিমধ্যে অবশ্য পুরপ্রধানের কাছে অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাবও গিয়েছে। পুরপ্রধান তা গ্রহণ করেছেন। অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে সিপিএমের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অমিত রায় পুরপ্রধান থাকাকালীনই আমরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নতুন পুরপ্রধান আমাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন।" পুরপ্রধান বলেন, ‘‘মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে মজুরি বৃদ্ধির দাবি কোনও অন্যায় নয়। সেটাকে মান্যতা দিতেই হয়।’’

পুরসভা সূত্রের খবর, এখানে আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি। ফলে বছরভর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি দেওয়া নিয়ে টালবাহানা চলে। বিগত দিনগুলিতে অতিরিক্ত শ্রমিক নেওয়ার ফলে সমস্যা অনেকটাই বেড়েছে বলে মানছেন পুর কর্তৃপক্ষ। যাঁদের অনেকেই কাজ না করে কিংবা অন্যত্র কাজ করলেও পুরসভার হাজিরা-খাতায় নাম তুলে মজুরি পেয়ে যাচ্ছেন বলেও মানছেন তাঁরা। বর্তমানে অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত স্থায়ী কর্মীদের পেনশন (পুরসভাকে দিতে হয় ৬০ শতাংশ। বাকি দেয় রাজ্য) দিতেও কালঘাম ছুটছে পুরসভার।

এক নজরে

অস্থায়ীদের মজুরি: অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা ২২০০-র বেশি। প্রায় ৬০০ জনের মজুরি দেয় রাজ্য পুর উন্নয়ন সংস্থা (সুডা)। বাকি ১৬০০ জনের মজুরি দেয় পুরসভা। প্রতিদিন ২৭০ টাকা।

পুরসভার আয়: মিউটেশন, আদ্যিকালের হিসেবে বাড়ির কর, ট্রেড লাইসেন্স, পানীয় জলের গাড়ি, সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার বাবদ ভাড়া, দোকানপাট থেকে ওঠা কিছু ভাড়া ইত্যাদি।

আয়-ব্যয়ের ফারাক: ব্যয়: মাসিক প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকা আয়: ১ কোটি ২০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি টাকার মধ্যে।

কী ভাবে সামাল: মূলত মিউটেশন বাবদ ওঠা টাকাই সামাল দিতে ভরসা।

কেন এমন অবস্থা: বর্তমানে শহরের ঘর-বাড়ির কাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু কয়েক দশক আগের করা মূল্যায়ন অনুযায়ী বাড়ির কর কাঠামোর পরিবর্তন হয়নি। জলের পরিষেবা অনেক বাড়লেও এ রাজ্যে জলকর (ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ছাড়া) নেওয়ার নিদান নেই। অন্যান্য ক্ষেত্র থেকেও আয় বাড়েনি। (সূত্র: পুরসভা)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Municipality Municipal Corporation

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy