Advertisement
E-Paper

বঙ্গে ফুল ফুটছে, লাল বড় ফিকে

১২ মে, সোমবার পশ্চিমবঙ্গে শেষ দফার ভোট। ফল বের হবে ১৬ মে, সারা দেশের সঙ্গে। শাসক দল তৃণমূলের আসন ১৯-ই থাকবে? নাকি বাড়বে? বিজেপি কি একের বেশি আসন পাবে? নাকি অনেক ভোট পেয়ে অন্য দলের যাত্রা ভঙ্গ করবে? ভোট কাটাকাটিতে কার লাভ তৃণমূল, নাকি সিপিএমের? ২৫ বা তার বেশি আসন পেয়ে তৃণমূল কি সত্যি কেন্দ্রে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে? অনেক প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর অজানা। শুধু আন্দাজ পাওয়ার সৎ চেষ্টা করলেন শর্মিষ্ঠা দত্ত ভট্টাচার্য।২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে (পশ্চিমবঙ্গ) পরিবর্তনের স্লোগান উঠেছিল। সেই স্লোগান আমজনতার মনেও ধরেছিল। এই ভোটের বাজারে সেই পরিবর্তনের চেহারা কেমন তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তরজাও চলছে। সে তরজা চলুক। তবে এটা মানতে হবে এ বঙ্গভূমিতে ভোট রঙ্গে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমন, ভোট এলে ইস্তাহার আসে। সেই নিয়ম মেনে সিপিএম-ও ইস্তাহার প্রকাশ করেছে।

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০১৪ ০০:০৫

২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে (পশ্চিমবঙ্গ) পরিবর্তনের স্লোগান উঠেছিল। সেই স্লোগান আমজনতার মনেও ধরেছিল। এই ভোটের বাজারে সেই পরিবর্তনের চেহারা কেমন তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তরজাও চলছে। সে তরজা চলুক। তবে এটা মানতে হবে এ বঙ্গভূমিতে ভোট রঙ্গে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কান টানলে যেমন মাথা আসে তেমন, ভোট এলে ইস্তাহার আসে। সেই নিয়ম মেনে সিপিএম-ও ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। ইস্তাহারে পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটার মতো বিজেপি ও কংগ্রেস থেকে বহু উচ্চারিত সমদূরত্বের নীতির কথা বলা হয়েছে। অথচ বঙ্গে এই দুই দলের উপরেই ভরসা করে আছে পার্টি। ভোটের আগে দু’দুটো রাজ্য কমিটির বৈঠকে কংগ্রেস ও বিজেপি কোন কোন কেন্দ্রে ভোট কাটবে তাই নিয়ে বিস্তর চর্চা হল। সেই থেকে চোদ্দো-পনেরোটি আসনে জেতার আশায় বুঁদ হয়ে আছে লাল পার্টি। দলের ক্যাডারদের মধ্যে একটি প্রবাদ চালু আছে: পার্টি সব জানে। অতএব ক্যাডাররাও সেই আশার শরিক। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা।

চলুন প্রথমে যাই কংগ্রেসের জেতা কেন্দ্রে ভোট কাটার সমীকরণের দিকে: মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুর, রায়গঞ্জ ও বহরমপুর। এই ছ’টি কেন্দ্র গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঝোলায় ছিল। এই ছ’টি কেন্দ্রেই মুসলিম ভোট কমবেশি হলেও নির্ণায়ক শক্তি। বঙ্গজ কমিউনিস্টদের ধারণা, ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘু উন্নয়নে তৃণমূল নেত্রী যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রায় কোনওটাই পূরণ হয়নি। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন মুসলিমরা। তাই তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট কমবে। অন্য দিকে, দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির ধাক্কায় ভোট কমবে কংগ্রেসেরও। এর ওপর রয়েছে পদ্মের চাষ। সর্বজ্ঞ লাল পার্টির ধারণা, তৃণমূল সুপ্রিমোর অতিরিক্ত মুসলিম প্রীতির কারণে ধীরে হলেও রাজ্যে পদ্মচাষের জমি তৈরি হচ্ছে। এই রকমারি কাটাকুটির খেলার মাঝে বামেদের টিকে থাকা ৩৮ শতাংশ ভোট এক শিলার মতো জেগে থাকবে। (যদিও বিগত পঞ্চায়েত ও পুরসভা ভোটের হিসেব বলছে বামেদের বাক্সে রয়েছে ৩৪ শতাংশ ভোট) অতএব জঙ্গিপুর, মালদা উত্তর, রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে বামেদের পানসি ভাসবে। ভোট কাটাকাটির হিসেবটা হয়তো একেবারে কাকেশ্বরের মতো ছিল না। শেষ পর্যন্ত মোদী ভয়ে মা-ও ছেলের ওপর সংখ্যালঘুদের আস্থা সমর্পণে বামেদের হাতে পেন্সিলই রয়ে গেল।

১৯ এপ্রিল অধীর চৌধুরীর দুর্গ বহরমপুরে সভা করেন রাহুল গাঁধী। ২৩ এপ্রিল সুতিতে জনসভা করেন সনিয়া গাঁধী। তার আগে পর্যন্ত একা কুম্ভ অধীরই গড় আগলানোর চেষ্টা করছিলেন। মা ও ছেলের সভার আগে পর্যন্ত বেশ বেসামাল ছিল প্রদেশ কংগ্রেস। রাহুল আর সনিয়াই মুখে হাসি ফুটিয়েছেন কংগ্রেস নেতাদের মুখে। সনিয়া ও রাহুলের জনসভায় মুসলিম মহিলা ও যুবকদের ভিড় উপচে পড়েছিল। সনিয়ার সভায় ভিড়ের চাপে মেটাল ডিটেক্টর ব্যারিকেড খুলে ফেলতে হয়েছিল। তবে ভিড়টা বড় কথা নয়। ভিড়ের চরিত্রটাই আসল। বিশেষত সনিয়ার জনসভার ভিড়ের চরিত্রটাই ছ’টি কেন্দ্রের হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে। এটা যে নিছক সাদা উজ্জ্বল ত্বক আর হেলিকপ্টার দেখার ভিড় ছিল না তা বোঝা যাবে ১৬ মে ই ভি এম খুললে। বহু প্রত্যন্ত এলাকা থেকে পায়ে হেঁটে মুসলিম মহিলা ও যুবকরা এসেছিলেন জনসভায়। রাজ্যের অনেক ভোট পণ্ডিত বলে থাকেন পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানরা ব্লক ভোট দেন না। এটা হয়তো আংশিক সত্য। কিন্তু এ বারে যে রাজ্য গেরুয়া বাহিনীর বাড়বাড়ন্তের জল্পনা। তার ওপর মাথার উপর নরেন্দ্র মোদী।

উত্তরপ্রদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ‘ট্যাক্টিক্যাল ভোট’ দিয়ে থাকেন। কী সেই কৌশল? কৌশল হল বিজেপি-কে রুখতে বিজেপি-র বিরুদ্ধে যেখানে যার জেতার সম্ভাবনা বেশি তাকে ভোট দাও। এ বার বঙ্গের ভোটে কী দেখব? মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ, জঙ্গিপুর, রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরে ট্যাক্টিক্যাল ভোটে এ বারও তাই মুসলিম ভোট হাতেই ভরসা রেখেছে। পাশাপাশি জঙ্গিপুরে উপনির্বাচনে রণকৌশল বড় ভুল করেছিলেন রাষ্ট্রপতি-পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রের প্রায় দেড় লক্ষ ভোটার জীবিকার জন্য ভিন রাজ্যে থাকেন। এরা সকলেই আগমার্কা কংগ্রেসি সমর্থক। উপনির্বাচনে তৃণমূলের ওপর ভরসায় এঁদের ভোটের সময় ফেরানোর কথা ভাবেনি কংগ্রেস, সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হলেও তখনও পর্যন্ত তৃণমূলের জোট সঙ্গী ছিল কংগ্রেস। এ বার সযত্নে তাঁদের ট্রেনে-বাসে চাপিয়ে ভোটের আগে নিয়ে এসেছিল কংগ্রেস। তারাও দু’দিনের জন্য ভিটেতে ফিরে উৎসবের আমেজে ভোট দিয়েছেন। ফলে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ উধাও অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের আকাশ থেকে। এখন রাজ্যে বিজেপি-র গড় ভোট ৬.৬ শতাংশ, এ বার যে শতাংশের বিচারে বি জে পি-র ভোট বাড়বে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

কিন্তু ভোট বাড়ার কারণ কী? প্রথম কারণ রাজ্যে দুই প্রধান বিরোধী শক্তি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের শক্তিক্ষয়। লক্ষণ যা তাতে স্পষ্ট বামফ্রন্টের শক্তি ভবিষ্যতে আরও কমবে। গোটা রাজ্যের মধ্যে মালদা ও মুর্শিদাবাদের বাইরে কংগ্রেসও হীনবল থাকবে। এই অবস্থায় তৃণমূল বিরোধিতা তার আধার খুঁজবে। প্রকৃতিতে যে ভাবে শূন্যস্থান ভরাট হয় সেই ভাবেই এই শূন্যস্থানগুলি ভরাট হবে। এ ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে বিজেপি-র জমি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ইঙ্গিত রাজ্যে এ বারের লোকসভা নির্বাচনের ফলে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ভোটার। এদের মধ্যে একটা অংশ নরেন্দ্র মোদীকে মনে করছেন উন্নয়নের ভগীরথ। মোদী ও উন্নয়নকে সমার্থক করতে যে দক্ষতার সঙ্গে সুকৌশলী প্রচার চালানো হচ্ছে তাতে এঁরা বেশ মজেছেন।

এ ছাড়া ২০১১ সালে বামেদের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যে নতুন ভোটাররা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিল তাদের মধ্যেও একটা অংশ এখন বিকল্প খুঁজছে। যাদবপুরের শিক্ষক অম্বিকেশ মহাপাত্র ও শিবপুরের চাষি শিলাদিত্য চৌধুরীর হেনস্থার ঘটনায় এঁদের অনেকেই তৃণমূল থেকে মুখ ঘোরাতে চান। তরুণ প্রজন্মের এই দুই অংশের বিজেপি-কে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পিছনে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অবদান রয়েছে। রাজ্যে এখন ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। রাজ্যের সাতটি জেলায় এই ভোট নির্ণায়ক শক্তি। এই ভোট ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেষ্টার ত্রুটি নেই। ইমাম ভাতা, মোয়াজ্জেম ভাতা ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে ঢালাও প্রতিশ্রুতি সে দিকেই ইঙ্গিত করে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ মনে করে মুখ্যমন্ত্রীর মুসলিম ভোট ধরে রাখার এই প্রয়াস রাজ্যে গেরুয়া বাহিনীর বিস্তারে অনুঘটকের কাজ করছে। গত পঞ্চায়েত ও পুসভা নির্বাচনের ফলে চোখ রাখলে দেখা যাবে শতাংশের বিচারে বিজেপি বিশেষ কিছু ভোট পায়নি। কিন্তু সঙ্ঘ পরিবার এই ভোটের ফলকে অন্য ভাবে দেখছে। ১৯৯৯ সালে এই রাজ্যে বিজেপি সর্বাধিক ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। তার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র প্রাপ্ত ভোটের হার কমতে থাকে। যখন ১১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি তখনও তাদের সেই ভোট এসেছিল রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে। কিন্তু, গত পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি-র যে ভোট এসেছে তার সবটাই রাজ্য জুড়ে। এখান থেকেই স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের জাল বোনা শুরু।

তাই এ বার রাজ্যে বিজেপি-র প্রার্থী বাছাই, প্রচারের কৌশল ও নির্বাচন পরিচালনা সব কিছু স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের হাতে। সঙ্ঘের তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছে আইটি সেল। যাদের দায়িত্ব এ রাজ্যে হাইটেক প্রচারের দেখভাল করা। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এ বার সাধুসন্তদের সুপারিশকেও মর্যাদা দিয়েছে সঙ্ঘ পরিবার। রামদেবের সুপারিশ মেনে এ রাজ্যে যেমন আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রেই দলীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে সঙ্ঘের প্রচারকদের পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের চারটি লোকসভা কেন্দ্রে এ বার বিশেষ নজর দিয়েছে সঙ্ঘ। বাঁকুড়া, কৃষ্ণনগর, আসানসোল, শ্রীরামপুর। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রেই পাঠানো হয়েছে ১৮ জন প্রচারককে। শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে কয়েক লক্ষ অবাঙালি ভোটার রয়েছেন। যাদের ঘনিষ্ঠ অংশই ব্যবসায়ী। এই অংশের ভোটারদের মন পড়তে গুজরাত থেকে কয়েক জন ব্যবসায়ীকে আনা হয়েছে। প্রচারের এই কৌশল গত দিকগুলো গোপন রাখা হয়েছে।

তবে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে আর কোনও আসন জেতার আসা করছেন না সঙ্ঘ নেতৃত্ব। তাঁরা এই লোকসভা নির্বাচনে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপালেও তাদের আসল লক্ষ্য ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। সঙ্ঘ নেতৃত্ব মনে করছেন, এ রাজ্যে স্থায়ী জমি তৈরি করার সময় ও সুযোগ এসেছে। বিধানসভা নির্বাচন জিতে কয়েক জন বিধায়ক বার করতে পারলে পায়ের তলার মাটি শক্ত হবে। এ বার লোকসভা নির্বাচনেও তুলনামূলক ভাবে ভাল ফল পাওয়া যাবে। অন্য দিকে বিজেপি-র ভোট বাড়ার ইঙ্গিতে বাকি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কার ভোট কতটা কাটবে বিজেপি এই চিন্তায় মগ্ন কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। হিন্দু ভোটে ভাগ বসানোর পাশাপাশি বিজেপি-র বাম ভোটেরও ভাগ বসানোর প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, বাঁকুড়া, হুগলি, নদিয়ার মতো জেলাগুলিতে বাম ভোটের একটা অংশ পেতে পারে বিজেপি। ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এ ভাবেই বীরভূমে লাভবান হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ওই জেলায় আর এস পি ও ফরওয়ার্ড ব্লকের সংগঠন হেলাফেলা করার মতো ছিল না। শরিককে বাড়তে দেওয়া যাবে না এই ফর্মুলায় সিপিআই(এম)এর আক্রমণের মুখে পড়তে হত আরএসপি ও ফরয়ার্ড ব্লকের কর্মী সমর্থকদের। দলীয় কর্মী সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে পারতেন না নেতারা।

এই অবস্থায় ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধিতে ফরওয়ার্ড ব্লক ও আর এস পি কর্মী সমর্থকরা বিকল্প খুঁজে পান। ওই জেলায় এখন এরাই তৃণমূলের বড় শক্তি। এই ভাবেই রাজ্যের চার পাঁচটি জেলায় বাম সমর্থকদের ভোটের একটা অংশ বিজেপি-র দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মালদা, মুর্শিদাবাদের বাইরে কংগ্রেসের যে সামান্য ভোট রয়েছে সেটা কংগ্রেস এ বার ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। কংগ্রেসের ভোট যাওয়ার সম্ভাবনা তৃণমূল কংগ্রেসে।

২০১৩-র পুরসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বাইরে কংগ্রেসের ভোট অনেকটাই তৃণমূলের বাক্সে এসেছে। ভোটের দামামা বাজতেই রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হতে শুরু করে দিল। প্রতিনিয়ত কংগ্রেস হাইকমান্ড জানতে চায় পশ্চিমবঙ্গে বামেরা কটা আসন পাবে। শেষপর্যন্ত হাইকমান্ডকে খুব একটা আশার বাণী শোনাতে পারেননি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগের অফিসাররা। কংগ্রেসের ভাবনায় ছিল যদি বামেরা উল্লেখযোগ্য আসন পায় তা হলে ২০০৪-এর মতো এ বারও বিজেপি-কে ঠেকানো যাবে। কারণ বামেরা এলে মুলায়ম, দেবগৌড়া, নবীন পট্টনায়ক এরাও আসবেন।

কিন্তু অঙ্ক মিলছে না কংগ্রেসের। এই অবস্থায় রাজনীতির অন্দরমহলে জল্পনা ছড়িয়েছে বিজেপি-কে ঠেকাতে দেবগৌড়া, বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ বা আই কে গুজরালের সরকারের মতো এ বারেও কেন্দ্রে খিচুড়ি সরকারকে সমর্থন দেবে কংগ্রেস। সে ক্ষেত্রে জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তি বাড়ুক এটাই চাইছে কংগ্রেস।

এরই সূত্র ধরে নির্বাচন কমিশনকে নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জল্পনা হল রাজ্যে প্রথম দফায় কমিশনের যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গিয়েছিল দ্বিতীয় দফায় তা উধাও। ২০০৯ সালে রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের যে কঠোর ভূমিকা দেখা গিয়েছিল সেই ভূমিকাই দ্বিতীয় দফায় ছিল কমিশনের। আর দ্বিতীয় দফায় যে আসনগুলিতে ভোট হয় তার মধ্যে পাঁচটি আসনে গতবার জিতেছিল কংগ্রেস। তৃতীয় দফা থেকে তৃণমূলের ভিটে দক্ষিণবঙ্গে ভোট। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, খিচুরি সরকারের লক্ষ্যে ঢিলেঢালাই থাকবে কমিশন। চতুর্থ দফার নির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক সংশয়-সন্দেহ-প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুধীর কুমার রাকেশকে নিয়ে। এটা খুবই দুঃখজনক। সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনই সর্বক্ষমতা সম্পন্ন। সেই কমিশন নিয়ে এতো প্রশ্ন কেন উঠছে? নির্বাচন কমিশন কি পক্ষপাত করছে? নাকি বিরোধীরা হারের ভয়ে ভীত? তাই আগেভাগেই অভিযোগ?

সত্যি কি তাই? সময় সব বলবে। মানে ১৬ মে সব উত্তর জানা যাবে।

sarmistha dutta bhattacharya
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy