Advertisement
E-Paper

মোদীর ভাবনায় সিঙ্গুরও, ক্ষমতায় এলে শিল্প গড়তে সাহায্যের আশ্বাস

কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে একটি বড় শিল্প গড়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলের লাগাতার জমি আন্দোলনের জেরে ২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে তাদের নির্মীয়মান ন্যানো কারখানা গুজরাতের সানন্দে তুলে নিয়ে গিয়েছিল টাটা মোটরস। আনন্দবাজারকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন, “টাটাদের সেই সঙ্কটের মুহূর্তে আমি ওদের জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোথাও একটা অপরাধবোধ আমার থেকে গিয়েছে। কারণ, তাদের বঞ্চিত করাটা তো আমার উদ্দেশ্য ছিল না। তাই আজ যখন গুজরাতের বাইরে বেরিয়ে গোটা দেশের উন্নয়নের কথা ভাবছি, তখন সিঙ্গুর নিয়ে একটা ভাবনাও আমার মধ্যে কাজ করছে।”

জয়ন্ত ঘোষাল

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:২৯

কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে একটি বড় শিল্প গড়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন নরেন্দ্র মোদী।

তৃণমূলের লাগাতার জমি আন্দোলনের জেরে ২০০৮ সালে সিঙ্গুর থেকে তাদের নির্মীয়মান ন্যানো কারখানা গুজরাতের সানন্দে তুলে নিয়ে গিয়েছিল টাটা মোটরস। আনন্দবাজারকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বলেন, “টাটাদের সেই সঙ্কটের মুহূর্তে আমি ওদের জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোথাও একটা অপরাধবোধ আমার থেকে গিয়েছে। কারণ, তাদের বঞ্চিত করাটা তো আমার উদ্দেশ্য ছিল না। তাই আজ যখন গুজরাতের বাইরে বেরিয়ে গোটা দেশের উন্নয়নের কথা ভাবছি, তখন সিঙ্গুর নিয়ে একটা ভাবনাও আমার মধ্যে কাজ করছে।”

সিঙ্গুরের জল এখন গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে আইন করে ন্যানো কারখানার হাজার একর জমি পুনরায় অধিগ্রহণ করে নেয় তৃণমূল সরকার। সিদ্ধান্ত হয় অনিচ্ছুক চাষিদের ৪০০ একর জমি ফেরানোর। এর বিরুদ্ধে আদালতে যায় টাটা মোটরস। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে রাজ্য সরকারের জয় হলেও উচ্চ বেঞ্চের রায়ে সিঙ্গুর আইনকে অসাংবিধানিক বলা হয়। তার পর মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে।

বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, আইন-আদালতের বাইরেও সিঙ্গুর সমস্যা মেটানোর একটা সম্ভাবনা আছে। কেন্দ্রীয় সরকার যুযুধান দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সেই সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। মনমোহন সিংহ সে পথে হাঁটেননি। কিন্তু ক্ষমতায় এলে মোদী সেটাই করতে চান। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে সুযোগ নেবেন কিনা, সেটা তাঁকেই ঠিক করতে হবে।

মোদী নিজে অবশ্য বলছেন, “আশা করি সিঙ্গুরের জট ছাড়ানোর ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সব রকম সহযোগিতা পাব। শুধু সিঙ্গুর নয়, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের আবহ তৈরি করতেও রাজ্য সরকারের সাহায্য পাব। আশা করব রাজ্যের উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূল ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করবে না।” মোদীর ঘনিষ্ঠমহল থেকে বলা হচ্ছে, টাটাদের সঙ্গে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক খুবই ভাল। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্য সরকার ও টাটাদের মুখোমুখি বসানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনার মধ্যে থেকেই তো সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে।

পশ্চিমবঙ্গের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি যে আগ্রহী, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মোদী। ফেব্রুয়ারির গোড়ায় ব্রিগেড ময়দানে সভা করতে গিয়ে তিনি রাজ্যবাসীকে জোড়া লাড্ডুর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল রয়েছে। কেন্দ্রে বিজেপি-কে আনুন। আমরা দু’জনে মিলে রাজ্যের উন্নয়ন করব। তা হলে আপনাদের দুই হাতেই লাড্ডু থাকবে।” সেই সভায় বাম আমলের ঋণ শোধের ব্যাপারে তৃণমূলের মোরাটোরিয়ামের দাবিকেও সমর্থন করেছিলেন বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংহ।

কিন্তু তার পরে বিজেপির প্রতি আক্রমণের সুর তীব্র করেছেন মমতা। মোদীকে দাঙ্গার মুখ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘নমো নয়, বলুন নো নো।’ এমনকী, গত কাল মোদীর স্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করতেও ছাড়েননি তিনি। অবস্থান কড়া করেছে বিজেপি-ও। রাজ্যে প্রচারে গিয়ে মমতাকে বিঁধেছেন মোদী-রাজনাথ দু’জনেই।

ভোট-বাজারে এই চাপানউতোরকে অবশ্য স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন মোদী। তাঁর মতে, “বিজেপি এবং তৃণমূল দু’টি আলাদা দল। দু’জনের মতাদর্শ আলাদা। ফলে ভোটের সময় এক দল অন্য দলকে আক্রমণ করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ক্ষমতায় এলে কোনও রাজ্যের প্রতিই আমি প্রতিহিংসাপরায়ণ হব না।” মোদীর ব্যাখ্যা, ভারত একটা শরীরের মতো। রাজ্যগুলি তার অঙ্গ। ফলে শরীরের একটা হাত পুষ্ট, আর অন্য হাতে রক্ত চলাচল না করলে, তাকে আর যাই হোক, সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ বলা চলে না।

ক্ষমতায় এলে কোনও প্রতিপক্ষের প্রতিই প্রতিহিংসাপরায়ণ হবেন না, গত কালই এক সাক্ষাৎকারে এমন উদার বার্তা শুনিয়েছেন মোদী। কিন্তু মমতা কি পাল্টা হাত বাড়িয়ে দেবেন? বিজেপি সূত্র বলছে, মমতা যদি তখনও কেন্দ্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব নিয়ে চলেন, তা হলে ক্ষতি রাজ্যেরই। বর্তমান ব্যবস্থায় কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে যে কোনও রাজ্যই লাভবান হতে পারে না, সেটা বুঝতে হবে তাঁকে।

উদাহরণ টেনে এক শীর্ষ নেতা বলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে জ্যোতি বসু বলেছিলেন কেন্দ্রে অসভ্য, বর্বর সরকার এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ রাখবে না। কিন্তু তাতে করে যে রাজ্যে সরকার চালানো কঠিন, সেটা অচিরেই বুঝেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের চাপে তিনি অবস্থান বদল করেন। বুদ্ধবাবু নিজে লালকৃষ্ণ আডবাণীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এবং রাজ্যের বহু উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আডবাণী। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সমস্যা মেটানো থেকে শুরু করে গ্যাস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার প্রকল্প গুজরাতে চলে যাওয়া ঠেকানো বামশাসিত রাজ্য সরকারের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন বিজেপি সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী। নিজের দফতরে বুদ্ধবাবুর সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন তেলমন্ত্রী রাম নাইকের।

মোদীও মনে করাচ্ছেন, বাজপেয়ীর আমলে মমতা যখন কেন্দ্রে মন্ত্রী, তখনই পশ্চিমবঙ্গকে সব চেয়ে বেশি আর্থিক সাহায্য দিয়েছিল কেন্দ্র। মমতার দাবি মেনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রমোদ মহাজন ব্রিগেডের জনসভায় দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আর্থিক প্রস্তাব ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এলে সহযোগিতার সেই বাতাবরণ ফের ফিরে আসবে বলেই আশাবাদী মোদী। তাঁর কথায়, “মমতা আমার সম্পর্কে যা-ই বলুন, আমি ওঁর সম্পর্কে ব্যক্তিগত স্তরে কোনও কটূ কথা বলব না। উল্টে উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্য যাতে কোনও ভাবে বঞ্চিত না হয়, তার গ্যারান্টি দেব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যা-ই থাক, কেন্দ্র-রাজ্য বিবাদ নৈব নৈব চ।”

jayanta ghoshal narendra modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy