সলমন খানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ আদালতের হাতে তুলে দিতে পারেনি মুম্বই পুলিশ। সলমনের বিরুদ্ধে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা মামলাটির রায় দিতে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল বম্বে হাইকোর্ট। এ বার এই পুলিশি গলদগুলির কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে শহরের প্রত্যেকটি থানায় নির্দেশিকা পাঠাল মুম্বই পুলিশ। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ৪ জানুয়ারি শহরের প্রতিটি থানায় বি়জ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। সলমন মামলায় যে ভাবে পুলিশের মুখ পুড়েছে তা যাতে ভবিষ্যতে আর না হয়, তাই এই নির্দেশিকা।
কী রয়েছে নির্দেশিকায়?
পুলিশ সূত্রে খবর, সলমন মামলার রায় দেওয়ার সময় হাইকোর্ট যে পুলিশি গাফিলতির কথা উল্লেখ করেছিল তার মধ্যে থেকেই ১৬টি প্রসঙ্গ উঠে এসেছে নির্দেশিকায়। যেমন, ম্যারিয়ট হোটেলের বিল এবং সংলগ্ন পার্কিং এলাকার ট্যাগ পুলিশের হাতে এসেছিল ঠিকই কিন্তু তা চার্জশিটে দাখিল করা হয়নি। ফলে রেন পানশালা থেকে বেরোনোর পর সলমন কোথায় গিয়েছিলেন, তা নিয়ে ধন্দ থেকে যায়। ঘটনার পর সারা দিন বান্দ্রা থানায় হাজির ছিলেন সলমন খান। কিন্তু তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা যাচাই করতে তখনই রক্তের নমুনা পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। সলমনের তরফে জানানো হয়েছিল, গাড়ির টায়ার ফাটার ফলেই দুর্ঘটনা হয়েছিল। কিন্তু সেই দাবির ভিত্তিতে কোনও ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়নি। ঘটনার রাতে দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাটিল ছাড়াও সলমনের গাড়িতে ছিলেন তাঁর আত্মীয় তথা গায়ক কমল খান। কিন্তু মামলা চলাকালীন প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তাঁকে এক বারও আদালতে তলব করা হয়নি। অথচ কমল খান কোথায় ছিলেন তা জানত পুলিশ।
মামলায় এত জায়গায় খামতি থেকে যাওয়ার ফলেই হাইকোর্টে বার বার সমালোচিত হয়েছে মুম্বই পুলিশ। সলমনের মুক্তিতে প্রবল চাপের মুখে পড়তে হয়েছে মহারাষ্ট্র সরকারকেও। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়েই সলমনের মুক্তির রায়কে সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এবং এই ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে যে গাফিলতির অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন সময়ে, তা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তাই এই নির্দেশিকা।