এক দিকে, হিংসাত্মক গণবিক্ষোভ। অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সামরিক পদক্ষেপে’র হুমকি। এমন অনিশ্চয়তা আবহে ইরান থেকে সব ভারতীয়দের ফেরত আনতে সক্রিয় হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কেন্দ্রের এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইরানি ফৌজের হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইজ়রায়েলে বসবাসকারী ভারতীয়দের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অতীতে উপসাগরীয় যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সময় যেমন আটকে পড়া ভারতীয়দের বিশেষ বিমানের সাহায্যে বায়ুসেনা ‘এয়ারলিফ্ট’ করেছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ভাবনায় রয়েছে কেন্দ্রের। এ ক্ষেত্রে সরকার বেসামরিক এবং সামরিক পরিবহণ বিমান ব্যবহারের বিকল্পও খতিয়ে দেখছে। কেন্দ্রের অনুমান, বর্তমানে ছাত্র-সহ ১০,০০০-এরও বেশি ভারতীয় ইরানে রয়েছেন।
চলতি বছরে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশে দু’দফায় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিদেশ মন্ত্রক। পশ্চিম এশিয়ার দেশটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নয়াদিল্লি প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছিল গত ৫ জানুয়ারি। ন’দিনের মাথায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ফের ইরান নিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। তাতে মবলা হয়েছে, ‘‘ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখে ভারতীয় নাগরিকদের আবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত কেউ ওই দেশে যাবেন না। বিদেশ মন্ত্রকের গত ৫ জানুয়ারির উপদেশাবলিও দেখতে বলা হচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকেও একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। যাঁরা এখন ইরানে আছেন, তাঁদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে পাঁচ দফা পরামর্শ। বলা হয়েছে, ‘‘ভারতীয় নাগরিকেরা অবিলম্বে যে কোনও উপায়ে ইরান ছাড়ুন।’’ দূতাবাস জানিয়েছে, পরিবহণের যে মাধ্যম পাওয়া যাবে, তাতেই ভারতীয়দের দেশে ফেরা উচিত। ভ্রমণ বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথি, পাসপোর্ট, পরিচয়পত্রও সবসময় তাঁদের সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আবহে বুধবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনার কথা জানিয়ে বুধবার জয়শঙ্কর এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা ইরান এবং তার আশপাশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।’’