হাতে তৈরি ব্যাগ, ছোট্ট কিন্তু খুব সুন্দর। সমাজমাধ্যমে শখের এমন জিনিস দেখতে পেয়ে দ্রুত অর্ডার করে দিয়েছিলেন তন্বী। অনলাইনে আগাম টাকাও পাঠাতে হয়েছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও, সেই ব্যাগ আর আসেনি। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তা নিয়ে অভিযোগ করা যেত, কিন্তু সামান্য ক'টা টাকার জন্য সে সব দৌড়ঝাঁপ করতে চাননি।
সুমনার অভিজ্ঞতা আবার অন্য রকম। বিদেশি কেতার অন্তর্বাস, তা-ও সস্তায় দেখতে পেয়ে অর্ডার করেছিলেন। অনলাইন পেমেন্ট নয়, ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’-র অপশনই পছন্দ করেছিলেন। বাড়িতে আসে সেই পণ্য। নগদ দিয়ে ডেলিভারি নেন। কিন্তু খুলে দেখা যায়, আসলে তা অত্যন্ত নিম্নমানের জিনিস। পরার যোগ্যও নয়। ফেসবুকের সেই পেজে গিয়ে ঘাঁটাঘাটি করে বোঝেন, পণ্য ফেরতের কোনও উপায় নেই।
আরও পড়ুন:
এমন অভিজ্ঞতার সঙ্গে কি মিল পাচ্ছেন? ইনস্টাগ্রাম হোক বা ফেসবুক— সমাজমাধ্যমে এখন অনলাইনে জিনিস কেনার হাজারও প্রলোভন। পাশাপাশি রয়েছে প্রতারণার ফাঁদও। একটু অসতর্ক হলেই বিপদ। অনলাইনে কেনার সময় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন?
ছবির সত্যতা যাচাই: জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থা থেকে পণ্য কেনার সময় সাধারণত ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু সমস্যা হয় কোনও ব্যক্তি বা অজানা সংস্থা থেকে জিনিস কিনতে গেলে। অনলাইনে কোনও জিনিস পছন্দ হলে এবং সেটি খুবই সস্তায় মিললে, হট করে কিনে ফেলবেন না। পণ্যের স্ক্রিনশট নিয়ে গুগল লেন্সে আপলোড করে খুঁজুন।
জিনিসটি যদি সস্তার একাধিক ড্রপশিপিং সাইটে (বিক্রেতা নিজে পণ্য মজুত রাখেন না, গ্রাহক অর্ডার করলে সেটি সাপ্লায়ারের থেকে আনিয়ে বিক্রি করেন) থাকে, তা হলে বুঝতে হবে পণ্যের মান ভাল না-ও হতে পারে। দেখে নিন, সেটি কোনও নামী সংস্থার হুবহু নকল কি না।
যদি ছবি খুব বেশি মাত্রায় নিখুঁত দেখায়, মডেলের শরীর অসমাঞ্জস্যপূর্ণ হয়, পোশাকে ভাঁজ না থাকে তা হলে বুঝতে হবে এআই সহায়তায় ছবি তৈরি করা হয়েছে। ছবিটি খুব ভাল করে লক্ষ করে বোঝার চেষ্টা করুন।
সাইটটি খেয়াল করুন: নির্দিষ্ট কোনও ওয়েবসাইট বা ‘কাস্টমার সাপোর্ট’, নির্দিষ্ট ‘রিটার্ন পলিসি’ না থাকলে, সেই জায়গা থেকে জিনিস কেনা মোটেই ঠিক নয়। অনেক সময় পণ্যের নানা রকম ছবি দিয়ে সমাজমাধ্যমে পেজ বানানো থাকে। কোনও জিনিস কেনার আগে খেয়াল করুন সেই পেজটি কত জন অনুসরণ করছেন, পণ্য নিয়ে কোনও মতামত গ্রাহকেরা দিয়েছেন কি না। যদি সেখানে অনুসরণকারীর সংখ্যা খুব কম বা পেজটি একদম নতুন হয় তা হলে কেনার আগে 'ধীরে চলো' নীতি নেওয়াই ভাল।
মতামত: যে কোনও জিনিস কেনার সময় অতি অবশ্যই পণ্য নিয়ে গ্রাহকদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। মতামতের সেকশনটি সাধারণত বিক্রেতারা কোনও ভাবেই বন্ধ করতে পারেন না। পণ্য নিয়ে কোনও গলদ থাকলে কেউ না কেউ কিছু না কিছু বলবেনই।
মুম্বইয়ের কনজ়িউমার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি অ্যান্টনি মাসকারেনহাস বলছেন, কোনও ওয়েবসাইট থেকে জিনিস কেনার আগে দেখে নেওয়া দরকার সেখানে পণ্য প্রস্তুতকারকের নাম, ঠিকানা রয়েছে কি না। কারণ, পণ্য নিয়ে কোনও সমস্যা হলে প্রস্ততকারক সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে হবে। সেই তথ্য না থাকলে মুশকিল।
আসল কথা হল, সমাজমাধ্যমে জিনিস কেনার আগে একটু সব কিছু যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিচার-বিবেচনা করে পদক্ষেপ করলে ঠকে যাওয়ার ভয় থাকে না।