পুলিশকে বলা হয় আইনের রক্ষক। যাঁরা অনৈতিক কাজ করে বেড়ান, তাঁদের হাত থেকে সমাজের বাকি মানুষদের রক্ষা করার দায়িত্ব থাকে তাদের কাঁধে। তবে, অনেক সময় এ কাজ করতে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় তাদেরও। সম্প্রতি তেমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে, যা দেখে হইচই পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়।
ইনস্টাগ্রামের ‘ইনস্টাওড়িশাপোস্ট’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, আচমকা এক কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে মারতে শুরু করেন এক তরুণ। ঘটনাটি ওড়িশার বলে জানা গিয়েছে। এর পর আর এক তরুণ এসে প্রথম তরুণকে জড়িয়ে ধরেন। হয়তো তিনি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টাই করছিলেন। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সমবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ওড়িশার বাঘামারি থানা এলাকায়। সেখানে ওই দুই যুবক মদ্যপ অবস্থায় একটি জনবহুল স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ওই দু’জনের অভব্য আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়ার আগে যুবকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খুরদা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানেই ঘটনা নাটকীয় মোড় নেয়। অভিযুক্তেরা হাসপাতালের ভিতরে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এই তর্কাতর্কি চরমে ওঠে। ক্রমে তা হাতাহাতিতে মোড় নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অভিযুক্তদের দমন করতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, এর পর হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে একটি বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে নেটপাড়ায়। আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কতখানি নিরাপদ, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকেরা।