বৃষ্টি আর গরম গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের পেয়ালা। এমন আরামের জুটি আর ক’টি আছে। মেঘমন্দ্র দিনে ঘনঘোর বর্ষায় তাঁকে পাশে পাওয়া যাক না যাক, নিজের জন্য এক কাপ চা নিয়ে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে পারলেও মন ভাল হয়ে যায়। বর্ষা এখন পুরোদমে। আকাশের মুখ ভার হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। তেমন দিয়ে সঙ্গী হিসাবে একটু কড়া ধাঁচের চা-ই খেতে ভাল লাগে। ঠিক সেই চাহিদা বুঝেই ৭টি চায়ের সম্ভার সাজিয়ে দেওয়া হল।
আদা চা: ফুটন্ত জলে চা পাতার সঙ্গে আদা থেঁতো করে ফুটিয়ে, সামান্য দুধ ও চিনি মিশিয়ে বানিয়ে ফেলুন কড়া আদা চা। বর্ষার চিরসঙ্গী। এক চুমুকে অনেকটা তৃপ্তি। আদার ঝাঁঝালো স্বাদ নিমেষেই শরীরের আলস্য দূর করে। তা ছাড়া, বর্ষাকালে যে সব ঠান্ডা লাগা, সর্দি ও জ্বরের সমস্যা হয়, সে সবের ঝুঁকিও কমায় এর প্রদাহনাশক গুণ।
কাট্টান চা: কড়া চায়ের পছন্দ যাঁদের একটু চড়া, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ। বেশি দুধ, চিনি, এক চিমটে এলাচ দিয়ে চা পাতাকে অনেকক্ষণ ধরে ফুটিয়ে ফুটিয়ে ওই ঘন এবং কড়া স্বাদের চা তৈরি করা হয়। এ চায়ের ক্যাফিনের মাত্রা যেহেতু একটু বেশি, তাই এক চুমুকেই মগজে ঝরঝরে ভাব আনে। স্যাঁতসেঁতে বিকেলে শরীরের উষ্ণতা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
সুলেমানি চা: দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী চা সুলেমানি। এতে দুধ থাকে না। ঘন কালো চায়ের লিকারে মেশানো হয় লেবু, আদা, পুদিনাপাতা এবং সামান্য গুড়। এই চায়ের সুবাস মুহূর্তে মনকে চনমনে করে তুলতে পারে। বর্ষার ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেকেই ভারী খাওয়া দাওয়া করে ফেলেন। এই চা হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে এবং সেই সঙ্গে ক্লান্তি দূর করতে ওস্তাদ।
তুলসী চা : উপকারী ভেষজ চা। তুলসীপাতা, আদা, গোলমরিচ ফুটিয়ে তাতে হালকা স্বাদের চা পাতা মিশিয়ে রেখে দিতে হবে মিনিট পাঁচেক। তার পরে ছেঁকে নিয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে নিলেই তৈরি তুলসী চা। বর্ষার কখনও ঠান্ডা, কখনও গরম আবহাওয়ায় নানা রকমের সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। তুলসীর সুগন্ধ সাইনাস পরিষ্কার রাখে। এর অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ শরীরকেও রোগমুক্ত রাখে।
কাশ্মীরি কাহওয়া: বর্ষায় ভূস্বর্গে না-ই যেতে পারেন। তবে ভূস্বর্গের স্বাদ ধরা দিতে পারে আপনার হাতের তালুতে। কাশ্মীরে কাহওয়া নামের সোনালি চা খাওয়া হয় শীতে শরীরে উষ্ণ ভাব আনতে। বর্ষায় সেই চা একান্তে উষ্ণতার জোগান দিতে পারে। গ্রিন টি-র সঙ্গে দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ফুটিয়ে তৈরি করা হয় কাহওয়া। উপর থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় কুচোনো কাঠবাদাম ও আখরোট।
মশলা চা: কাজ থেকে ছুটি আর জানলার বাইরে বৃষ্টি। এমন দিনে আয়েশ করে বসে দুধ-চা খাওয়ার ইচ্ছে হলে একটু সময় নিয়ে বানিয়ে ফেলুন মশলা চা। দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি আর গোলমরিচ থেঁতো করে দিয়ে ফোটাতে থাকুন। সুগন্ধ বেরোলে কিছু চা পাতা আর গুঁড়ো চা মিশিয়ে আবার ফোটান। চাইলে এতে কোরানো আদও দিতে পারেন। মিষ্টির জন্য দিতে পারেন অল্প গুড়, অবশ্য চিনিও দিতে পারেন। বৃষ্টির দিনে এমন চা বানিয়ে ফ্লাস্কে ভরে নিন। বারান্দায় বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে ডুব দিন পেয়ালায়।
তন্দুরি চা : ‘তন্দুরি চা’ চা-প্রেমীদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে জায়গা করে নিয়েছে। এই চায়ের বিশেষত্ব এতে থাকা মাটির গন্ধ। তবে বাড়িতে বানাতে হলে কয়েকটি মাটির ভাঁড় জোগাড় করতে হবে। তার পরে তা আগুনে লাল করে পুড়িয়ে নিতে হবে। একটি ধাতব পাত্রে আদা-এলাচ-লবঙ্গ দিয়ে চা বানিয়ে ফুটন্ত চায়ে সাঁড়াশি দিয়ে ডুবিয়ে দিতে হবে পোড়ানো ভাঁড়। এঁতে ভাঁড়ের মাটির গন্ধ মিশবে চায়ে। বৃষ্টি ভেজা মাটির গন্ধ নিতে নিতে ওই চা খেতে ভালই লাগবে। নিজের জন্য এত ঝঞ্ঝাট একটু বেশি বলে মনে হতে পারে। তবে ঘরোয়া আড্ডায় কয়েকজন থাকলে বৃষ্টি দেখতে দেখতে আড্ডার সঙ্গী হতেই পারে তন্দু্রি চা।