ওজন ২৭ কিলোগ্রাম। লম্বায় প্রায় চার ফুট। দিঘা থেকে কলকাতা— ছ’ঘণ্টার, প্রায় ২৩২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসা ভেটকি মাছটিকে দেখে চকচক করে উঠেছিল সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের চোখ। প্রবল উৎসাহে বললেন, ‘‘যে বার আমেরিকা গিয়েছিলাম, এক বাঙালি লেখকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তিনি কী নামে লেখেন জানেন?— ভেটকি লোচন!’’

‘‘ওই লেখকের দাবি, তিনি নাকি সর্বক্ষণ টানা লিখে যেতে পারেন। ভেটকি মাছের মতোই চোখের পলক পড়ে না!’’ কিন্তু কোনও মাছের চোখেই তো পলক পড়ে না। এ বার সাহিত্যিকের বক্তব্য, ‘‘চোখের পলক পড়ুক বা না পড়ুক, ভেটকির গুরুত্ব আছে কিন্তু!’’

শুক্রবার সকালে পার্ক সার্কাসের এক শপিং মলে সাংবাদিক বৈঠকে এ ভাবেই মাছ এবং মাছের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হল নানা দৃশ্য। ওই অনুষ্ঠানেই এ দিন ‘কলকাতা মৎস মহোৎসব’-এর উদ্বোধন করল একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। উদ্যোক্তারা জানালেন, আজ শনিবার থেকে আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত শহরে তাঁদের ১৫টি স্টোরে এই উৎসব চলবে। দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকে আসা অন্তত ১০০ ধরনের মাছ পাওয়া যাবে সেখানে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

উদ্যোক্তা সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টা মণিশংকরবাবু বলছিলেন, ‘‘দু’দিন বাদেই নববর্ষ। আর বাঙালির সঙ্গে মাছের সম্পর্ক তো নতুন করে বলার নয়। এই দুই বিষয় মাথায় রেখে আমরা উৎসবের পরিকল্পনা করেছি। কম দামে মাছ খাওয়া এবং খাওয়ানোর ভাবনা।’’

তিনিই জানালেন, একশো ধরনের মাছের মধ্যে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভেটকি মিলবে প্রতি কেজি ৩৯৯ টাকায়। প্রতি কেজি মৌরলা পাওয়া যাবে স্রেফ ৪৯ টাকায়। এ ছাড়াও বাংলার নানা মাছ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরার সুযোগ থাকছে প্রতি কিলোগ্রাম ১৪৯ টাকায়। থাকছে ‘উপহার প্যাক’ও। ১৯৯ টাকার সেই ‘উপহার প্যাকে’ পাওয়া যাবে ভেটকি, কাতলা এবং সাদা চিংড়ি।