সালোয়ার স্যুট অর্থাৎ কামিজ, পাজামা আর ওড়না মিলিয়ে যে পোশাক, ইদানীং ফ্যাশন দুনিয়ায় তা খানিক পিছিয়ে পড়েছে। নানা রকমের টপ, কো-অর্ড সেট, স্কার্ট, র্যাপার, পালাজ়োর মতো পোশাকের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে, ‘ট্রেন্ডি’ হওয়ার চক্করে অধিকাংশেই সালোয়ার কামিজের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না। সালোয়ার কামিজ পরা হচ্ছে না তা নয়, তবে ফ্যাশনেবল পোশাক হিসাবে নয়। সাধারণ পোশাক হিসাবে। বাড়তি স্টাইল করার দরকার হলে সালোয়ারের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না কেউ কেউ। অথচ চাইলে সালোয়ার স্যুটও ‘ট্রেন্ডি’ হতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করছে যিনি পরছেন তাঁর উপর।
কেউ যদি ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে নিজেই ট্রেন্ড সেটার হতে চান, তবে তিনি নানা রকমের সালোয়ার স্যুট রাখতে পারেন দৈনন্দিন ফ্যাশনেবল পোশাক হিসাবে। অফিস, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ক্যাফে মিটিং, পার্টি, সবেতেই সালোয়ার স্যুট ট্রেন্ডকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। যদি আলমারিতে রাখতে পারেন কিছু বাছাই করা স্যুট।
১। কাফতান স্যুট
উপরের অংশটি কাফতানের মতো। ভি গলা, চওড়া ঢলঢলে হাত, ফিটিংও ঢিলাঢালা। এর সঙ্গে সিগারেট প্যান্ট, লেগিংস বা সাধারণ স্ট্রেট প্যান্টও ভাল লাগবে। আলমারিতে যদি কয়েকটি একরঙা আর দু’একটি ফ্লোরাল প্রিন্টের কাফতান স্যুট রাখা যায়, তবে পার্টিওয়্যার হিসাবেও তা মানানসই হবে।
২। আংরাখা স্যুট
আংরাখা পরতেন রাজ ঘরানার মানুষজন। এর বিশেষত্ব দু’টি। এক, এই ধরনের সালোয়ার স্যুট পুরোপুরি সেলাই করা হয় না। দু’টি হাত গলিয়ে জামার খোলা অংশ শরীরের আদল অনুযায়ী দড়ি দিয়ে বেঁধে নিতে হয়। দুই, এই ধরনের পোশাকে ঘের থাকে, পাজামাও হয় নকশাদার এবং সামান্য ঢিলাঢালা। আংরাখা স্যুটের এক অন্য ধরনের রাজকীয় মেজাজ আছে। লখনউ চিকন থেকে শুরু করে সিল্ক, সুতির উপরে জয়পুরী ব্লক প্রিন্ট থেকে শুরু করে লিনেনেরও আংরাখা পাওয়া যায়। একরঙা সুতির, সিল্কের অথবা লখনউ চিকনের কয়েকটি আংরাখা সংগ্রহে থাকলে তাকে নানা ভাবে স্টাইল করা সম্ভব। আর এই কুর্তাস্যুটের মজা হল, এটি যেমন ক্যাজ়ুয়াল পোশাক হিসাবে নজর কাড়তে পারে, তেমনই অনুষ্ঠানে কিংবা পার্টির জমকালো সাজের অঙ্গ হতে পারে।
৩। শারারা
মোগল সংস্কৃতির পোশাক। এ পোশাকের মূল সৌন্দর্য এর পাজামায়। ছোট কুঁচি দেওয়া স্কার্টের মতো ছড়ানো পাজামা। এক ঝলক দেখলে স্কার্ট বলে ভুল হতে পারে। নকশাদার সেই পাজামার উপর পরা হয় খাটো ঝুলের ফিটেড কুর্তা তার সঙ্গে থাকে নকশাদার ওড়নাও। মোগল রমণীদের ওই পোশাক পরবর্তী কালে লখনউ এবং পাকিস্তানের মহিলাদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়। বাজারে সুতি, রেশম, শিফন, লখনউ চিকনেরও শারারা পাওয়া যায়। সালোয়ার স্যুট পরে কেতা দেখাতে চাইলে অন্তত একটি শারারা আলমারিতে থাকাই উচিত।
৪। কুর্তা পালাজ়ো
গরমে চাপা জামা বা পাজামা পছন্দ না হলে পালাজ়ো স্যুটের মতো আরামদায়ক পোশাক দু’টি নেই। সুতির হালকা খাটো ঝুলের কুর্তার সঙ্গে ঢিলাঢালা বিপরীত রঙের পালাজ়ো প্যান্ট পরে গলায় পেঁচিয়ে নিন ওড়না বা হাতে ঝুলিয়ে নিন কেতাদুরস্ত ব্যাগ। কিংবা গলায় অথবা কানে একটি স্টেটমেন্ট গয়না। আপনার সাজ তাতেই সম্পূর্ণ। এমন পোশাকে ক্যাফেতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ঢুকলে আপনার পোশাকের ‘গ্রেস’ সবার নজর কাড়বে।
৫। এ লাইন স্যুট
এর ধাঁচ নেওয়া হয়েছে আনারকলির থেকে। তবে এই স্যুটের কুর্তার ঘের আনারকলির মতো বড় নয়। উপরের অংশটি ফিটেড। তবে বুকের নীচের অংশ থেকে ঘের দেওয়া হয় ওই কুর্তা। নকশাদার বা নকশা ছাড়া দু’ধরনের এ লাইন কুর্তা পাওয়া যায়। এর সঙ্গে চুড়িদার পাজামা, স্ট্রেট প্যান্ট বা পালাজ়ো প্যান্ট সবই দেখতে ভাল লাগে। এ লাইন কুর্তাকেও স্কার্ফ, নানা রকমের গয়না দিয়ে পার্টিওয়্যার বানিয়ে নেওয়া যায়। আবার চাইলে অফিসওয়্যারও হতে পারে একরঙা বা ছাপা সুতি বা লিনেনের এ লাইন কুর্তাস্যুট।