বিধানসভা ভোটে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পর থেকে বিগত সরকারের নেতা-কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলা আদায়, ভাঙচুর, হুমকি দেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিক পুরপ্রতিনিধি, তৃণমূলের কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন দক্ষিণ দমদম এবং বিধাননগর পুর এলাকার দুই পুরপ্রতিনিধি-সহ তিন জন তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি। যদিও সব ক্ষেত্রেই পূর্বতন শাসকদল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে বলে সরব হয়েছে।
জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক মহিলাকে হুমকি দেওয়া, হেনস্থা-সহ একাধিক অভিযোগে রবিবার বিধাননগর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি আজিজুল হোসেন মণ্ডল ওরফে কালোকে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। তিনি রাজারহাট-নিউ টাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত। জানা গিয়েছে, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আটঘরা পূর্বপাড়ায় অভিযোগকারিণীর একটি জমি আছে। অভিযোগ, সেই জমিতে আজিজুলের মদতে বাংলাদেশেরনাগরিকেরা থাকতেন। দিন কয়েক আগে মহিলা জমি উদ্ধার করতে গেলে আক্রান্ত হন।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার জল বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ তথা সেখানকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি মৃন্ময় দাস ওরফে বুবলাইকে গ্রেফতার করে নাগেরবাজার থানা। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃন্ময়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অতীতে এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তদের মদত দেওয়া এবং আক্রান্তকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল ওই পুরপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এর আগে দক্ষিণ দমদম পুরসভারই চেয়ারম্যান পারিষদ (আলো) পার্থ বর্মাকে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সময়ে একটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে লেক টাউন থানার পুলিশ।
শনিবার রাতে দ্বিতীয় গ্রেফতারির ঘটনাটি ঘটে বিধাননগরে। তোলাবাজির অভিযোগে বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ তুলসী সিংহরায়ের স্বামী ভাস্কর সিংহরায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই অভিযোগে আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন দুই তৃণমূল কর্মী সৌমিক দাস এবং বিজয় রাজবংশী। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ভাস্করের নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় মেয়র পারিষদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
এর আগে সল্টলেক, লেক টাউন, বাগুইআটি, টেকনো সিটি থানা এলাকা থেকে পাঁচ জন পুরপ্রতিনিধি, তিন জন পঞ্চায়েত সদস্য এবং একাধিক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকলের বিরুদ্ধেই তোলাবাজি, ভাঙচুর-সহ নানা অভিযোগ আছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)