Advertisement
E-Paper

স্রোতের বিপরীতে হেঁটে নিখুঁতকে তুচ্ছ করে এলোমেলোর উদ্‌যাপন কলকাতার কন্যা, পোশাকশিল্পী অনামিকা খন্নার

মুম্বইয়ের এনএমএসিসি-র মার্জার সরণিকে স্মরণীয় করে তুললেন অনামিকা খন্না। তাঁর ব্র্যান্ড ‘একে ওকে’-র নতুন পোশাকসম্ভারে জায়গা পেল অসম্পূর্ণতার সৌন্দর্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৮
ফ্যাশন শো-এ অনামিকা খন্নার পোশাকের সম্ভার।

ফ্যাশন শো-এ অনামিকা খন্নার পোশাকের সম্ভার। ছবি: দেবর্ষি সরকার

তিনি কলকাতার কন্যা। তিনি বিশ্বখ্যাত পোশাকশিল্পী। তিনি যে স্রোতকে অস্বীকার করার ক্ষমতা রাখেন, তা ফ্যাশন দুনিয়ার অনেকেই আজ জানেন। তিনি অনামিকা খন্না। যে ফ্যাশনজগৎ এখন নিখুঁত হওয়ার পিছনে ছুটছে এবং ডিজিটালসর্বস্ব হয়ে উঠছে, অনামিকা সেই দৌড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে খুঁত সমেতই সৌন্দর্যের কথা বলছেন। খানিক অগোছালো, খানিক খাপছাড়া, খানিক বেমানান। আর দেশের অন্যতম বৃহৎ মঞ্চে সেই সৌন্দর্যকেই উদ্‌যাপন করলেন কলকাতার মেয়ে। ব্র্যান্ড ‘একে ওকে’-র নতুন পোশাকসম্ভার প্রদর্শনের সাক্ষী থাকল ফ্যাশন ডিজ়াইন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এফডিসিআই) এবং ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ২৬তম অনুষ্ঠান।

এনএমএসিসি-র মার্জার সরণিতে খন্নার পোশাকের প্রদর্শনী।

এনএমএসিসি-র মার্জার সরণিতে খন্নার পোশাকের প্রদর্শনী। ছবি: দেবর্ষি সরকার

ফ্যাশন শো-এ অনামিকা খন্না।

ফ্যাশন শো-এ অনামিকা খন্না। ছবি: দেবর্ষি সরকার

মুম্বইয়ের এনএমএসিসি-র মার্জার সরণিকে স্মরণীয় করে তুললেন অনামিকা। তাঁর পোশাকে জায়গা পেল অসম্পূর্ণতার সৌন্দর্য। অনামিকার কথায়, ‘‘ভারতীয় মহিলাদের দেহের যে কোনও আকার আকৃতিকে উদ্‌যাপন করেছে আমাদের নতুন সম্ভার।’’ সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে মানুষের হাতের কাজ, তাঁদের ত্রুটি এবং অপ্রত্যাশিত স্বভাবের দিকে ফিরে যেতে চেয়েছেন তিনি। মানুষের হাতের কাজের কোনও বিকল্প হয় না যে। তাঁর কাছে, সমস্ত সৌন্দর্য আসে অসম্পূর্ণতা থেকেই।

মার্জার সরণির এই যাতায়াতে বারে বারে নাটকীয়তার প্রকাশ পাওয়া গিয়েছে।

মার্জার সরণির এই যাতায়াতে বারে বারে নাটকীয়তার প্রকাশ পাওয়া গিয়েছে। ছবি: দেবর্ষি সরকার

এর আগে আন্তর্জাতিক তারকা শাকিরা থেকে নবদম্পতি বিজয় দেবরকোন্ডা-রশ্মিকা মন্দানা, বলিউড তারকা সোনম কপূর থেকে ব্যবসায়ী ঈশা অম্বানী, তাবড় তাবড় তারকা খন্নার পোশাকে সেজেছেন। তারকাদের আলমারিতে ঝলমল করছে তাঁরই বানানো পোশাক।

জীবন্ত ইনস্টলেশনের অঙ্গ ছিলেন চার জন মডেল।

জীবন্ত ইনস্টলেশনের অঙ্গ ছিলেন চার জন মডেল। ছবি: দেবর্ষি সরকার

দেশের অন্যতম বৃহৎ মঞ্চে অগোছালো সৌন্দর্যকেই উদ্‌যাপন করলেন কলকাতার মেয়ে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ মঞ্চে অগোছালো সৌন্দর্যকেই উদ্‌যাপন করলেন কলকাতার মেয়ে। ছবি: দেবর্ষি সরকার

পোশাকের প্রদর্শনী শুরু হয় অপ্রভ রঙের ছোঁয়া টোন দিয়ে, শেষ হয় চড়া রঙে। যেন একটি যাত্রার পুরোটাই ধরার চেষ্টা হয় এই অনুষ্ঠানে। যা ছিল কোরা কাপড়ের রং, ফ্যাকাশে ক্রিম রং বা হালকা বাদামি, তা হয়ে উঠল গোলাপি, কালো। দর্শকাসনেও ছিল নতুনত্ব। ‘কেউ দেখবে আর কেউ দেখবে না’-য় বিশ্বাসী নন অনামিকা। তাই বসার বন্দোবস্ত এমন ভাবেই করা হয়েছিল, যাতে মনে হবে, প্রত্যেকেই সামনের সারিতে বসে রয়েছেন। আর তাঁদের সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেন মডেলরা।

সব পোশাকই যেন আরাম ও স্বস্তিতে মোড়া।

সব পোশাকই যেন আরাম ও স্বস্তিতে মোড়া। ছবি: দেবর্ষি সরকার

মার্জার সরণির এই যাতায়াতে বারে বারে নাটকীয়তার প্রকাশ পাওয়া গিয়েছে। রঙের পরিবর্তন থেকে শুরু করে পটভূমিকা হিসেবে চার জন মডেলের একটানা পিছনে বসে থাকা। তাঁদের পরনের গোলাপি রঙের বড়, গোলাকার কাগজের ফুলের সাজে সজ্জিত, থ্রি-ডি পোশাক নাটকীয়তাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। জীবন্ত ইনস্টলেশনের অঙ্গ ছিলেন তাঁরা। অন্যান্য মডেলরা পরেছিলেন কুঁচি করা ধুতি প্যান্ট, মেঝেছোঁয়া লম্বা গাউন, কো-অর্ড সেট, অ্যাসিমেট্রিক টপ— সবই যেন আরাম ও স্বস্তিতে মোড়া। বৈপরীত্য যেন একই মঞ্চে নানা ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

পুরুষদের পোশাকের সম্ভার ‘একে ওকে’ ব্র্যান্ডে।

পুরুষদের পোশাকের সম্ভার ‘একে ওকে’ ব্র্যান্ডে। ছবি: দেবর্ষি সরকার

এই ফ্যাশন মহোৎসবের মঞ্চে অনামিকা তাঁর কালেকশনে নিয়ে এলেন হাতে এমব্রয়ডারি করা আকর্ষণীয় ডিটেলিং, পশুর পশমের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কিছু বিকল্প, অসম্পূর্ণ ডিটেল, সোনালি জরির কাজ করা থ্রি-ডি এমব্রয়েডারি ইত্যাদি। তা ছাড়া, ‘একে ওকে’-তে প্রথম বার জায়গা করে নিল পুরুষদের পোশাকের সম্ভার।

anamika khanna lakme fashion week fashion show
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy