পর্দায় তাঁরা তারকা হতে পারেন। কিন্তু ভোটের দিন কেবলই ভোটার। আম জনতার সমান। আর পাঁচ জন যে বুথে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন। তাঁরাও সেখানেই যান ভোট দিতে। রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফা ভোটে কলকাতার নানা বুথের আশপাশে লেন্সবন্দি হলেন তেমনই পর্দায় দেখা সব তারকারা। কেউ কেউ ভোট দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন নিজস্বীও। সারা বছর যাঁরা মঞ্চ বা পর্দা আলো করে থাকেন, তাঁরা কি ভোট দিতেও পাড়ার বুথে তারকাদের মতো সেজে এলেন না কি বেছে নিলেন সাধারণের ভিড়ে মিশে যাওয়ার মতো পোশাক। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক।
প্রসেনজিৎ
ছেলে তৃষাণজিৎকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ভোট দিতে। পরেছিলেন জলপাই রঙের কার্গো শার্ট আর ফেডেড রাগড কার্গো জিন্স। হাতে ঘড়ি না পরলেও চোখে ছিল কালো রোদচশমা। তারকা লাগছিল কি? যতই ক্যাজ়ুয়াল পোশাক হোক, তাঁর সাজগোজে দূর থেকেই ফুটে উঠছিল তারকা সুলভ হাবভাব।
আবীর
আবীর চট্টোপাধ্যায় পরেছিলেন রিবড পোলো টি-শার্ট। তাতে গাঢ় নীলের উপর বাদামি আর সাদার জ্যামিতিক নকশা। সঙ্গে ক্রিম রঙের ট্রাউজ়ার। চোখে কালো রোদচশমা আর হাতে দামি ঘড়িতে, আবীরকে দেখাচ্ছিল নায়কের মতোই।
কোয়েল
সাদা সুতির উপর রঙিন সুতোর হালকা নকশা করা কুর্তা আর চুড়িদারের সঙ্গে গলায় হলুদ রঙের ওড়না পরেছিলেন কোয়েল মল্লিক। টেনে হর্সটেল বেঁধেছিলেন চুলে। কানে ছোট্ট দুল। হাতে একটি কালো সুতো। বাড়তি মেকআপ নেই বললেই চলে। রাজ্যসভার সাংসদ এবং অভিনেত্রী কোয়েলকে দেখাচ্ছিল পাশের বাড়ির মেয়ের মতোই।
জিৎ-মোহনা
হাতা গোটানো পেস্তা রঙের লিনেন শার্টের সঙ্গে কালো ট্রাউজ়ার। হাতে স্মার্ট ওয়াচ, চোখে বাদামি রোদচশমা আর মাথায় কালো টুপি। সাজ সাধারণ। তবু গ্ল্যামারেই তারকাসুলভ ভাব লুকোতে পারলেন না জিৎ। স্ত্রী মোহনাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে দেখা গেল একটি মেরুন রঙের কুর্তা আর হালকা মেকআপে।
দেব
এই গরমে ঘোর কালো রঙের ফিটেড শার্ট পরে ভোট দিতে গিয়েছিলেন দেব। বাদামি কাচের রোদচশমা, দামি ঘড়ি, ব্যাক ব্রাশ করা চুলে দেবকে পুরোদস্তুর সুপারস্টারই লাগছিল।
সোহিনী
সোহিনী সরকার ভোট দিতে গিয়েছিলেন নীল রঙের তাঁতের কুর্তার উপর সাদা-কালো নরম সুতির স্কার্ফ জড়িয়ে। কোনও মেকআপ করেননি তিনি। চোখে চশমা, কপালে ছোট্ট লাল টিপ, হাতে নীল ব্যান্ডের ঘড়ি আর খোলা চুলে তাঁকেও নায়িকা বলে মনেই হচ্ছিল না।
মিমি
মায়ের সঙ্গে ভোট দিলেন মিমি চক্রবর্তী। তাঁর গোলাপি রঙের আপাত সাধারণ শার্টটি রোলড আপ স্লিভসের সমুদ্র সবুজ লাইনিংয়েই আলাদা হয়ে গিয়েছে আর পাঁচটি সাধারণ জামার থেকে। চোখে রোদচশমা, টেনে বাঁধা চুল এবং পরিমিত মেকআপে নায়িকাই লাগছিল তাঁকে।
সায়ন্তিকা
হলুদ-সাদা ডুরে হ্যান্ডলুম শাড়ি পরে ভোট দিতে এলেন বরাহনগরের তৃণমূল প্রার্থী তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন তিনি গরমে নরম নেতিয়ে যাওয়া শাড়ি পরতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। ভোটের দিন ভোট দেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থী হিসাবে ঘোরাঘুরিও থাকে। তাই সায়ন্তিকা তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যের পোশাকই বেছে নিয়েছেন। নায়িকা সাজার চেষ্টা করেননি বিশেষ।
রাজ-শুভশ্রী
সকালেই ভোট দিয়েছেন টলিউডের পাওয়ার কাপল। তাঁদের সাজও খুব বেশি তারকাসুলভ ছিল না। শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় পরেছিলেন জিন্সের সঙ্গে কালো একরঙা টিশার্ট। তৃণমূলের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী পরেছিলেন জিন্সের উপর সাদা শার্ট। তবে কেতাদুরস্ত রোদচশমা ছিল দু’জনের চোখেই।
অনির্বাণ
একেন অথবা লালমোহন— পর্দায় যেমনই সাজুন, অভিনেতা অনির্বাণ চক্রবর্তী সকাল সকাল ভোট দিতে গিয়েছেন সাধারণ নীল রঙের একটি পোলো টি শার্ট পরে।
চিরঞ্জিৎ-রত্নাবলী
সস্ত্রীক ভোট দিতে এসেছিলেন ৭০ ছোঁয়া বাঙালি নায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীও। তবে সাজগোজ করেছিলেন একেবারেই সাধারণ। সুতির ম্যান্ডারিন কলারের আকাশী রঙের কুর্তা এবং হালকা পেস্তা সবুজ রঙের ট্রাউজ়ার্সে। স্ত্রী রত্নাবলী পরেছিলেন হালকা নকশা করা সালোয়ার কামিজ।
যশ-নুসরত
ভোট দিতে টুইনিং করে পোশাক পরেছিলেন টলিউডের এই জুটি। হালকা নীল রঙের জিন্স, নকশাহীন সাদা টি-শার্ট আর পায়ে সাদা ক্রকস। তারকাসুলভ না হলেও ভোট দেওয়ার ‘কাপল গোল’ বললে নিঃসন্দেহে যশ দাশগুপ্ত আর নুসরত জাহানের কথাই মনে পড়বে।
শ্রাবন্তী
সকালের দিকেই ভোট দেওয়ার কাজ সেরে ফেলেছেন শ্রাবন্তীও। দেখা গেল পর্দার নায়িকা একেবারেই সাজেননি। সাধারণ একটি গ্রাফিক টি-শার্ট, খোলা চুল, ঠোঁটে লিপস্টিক আর চোখে রোদ চশমা ব্যাস! অবশ্য নায়িকাদের এর বেশি আর লাগেই বা কি?
পরম-পিয়া
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং পিয়া চক্রবর্তীর ভোটের ছবি এল আলাদা আলাদা ভাবে। অভিনেতাকে দেখা গেল সাদা ঢলঢলে টি-শার্ট, সুতির পাজামা আর পায়ে স্লিপার গলিয়ে ভোট দিতে যেতে। পিয়ার ভোটের নিজস্বীতে তাঁকে দেখা গেল খাদির কুর্তায়।
সৌরভ-ডোনা
স্ত্রী ডোনাকে সঙ্গে নিয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভোট দিতে এসেছিলেন একটি লাইল্যাক রঙের সাফারি স্টাইল শার্ট আর কালো ট্রাউজ়ার্স পরে। একটি দুধ সাদা ঢাকাইয়ের সঙ্গে নীল রঙের ব্লাউজ পরেছিলেন ডোনা।
অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা
বাবা মায়ের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন অঙ্কুশ হাজরা। ক্যাজ়ুয়াল সুতির শার্টের সঙ্গে কালো সিক্সপকেট কার্গো ট্রাউজ়ার্স পরেছিলেন অঙ্কুশ। হাতে ঘড়ি চোখে দৈনন্দিনের চশমা আর পায়ে স্নিকার্স পরা অঙ্কুশকেও একেবারেই নায়কোচিত দেখাচ্ছিল না। তবে নায়িকার মতো দেখতে লাগছিল ঐন্দ্রিলা সেনকে। তিনিও ভোট দিতে গিয়েছিলেন মায়ের সঙ্গে। পরেছিলেন আকাশি ঢিলা জিন্সের সঙ্গে আজরখ প্রিন্টের সুতির লম্বা হাতা টপ আর চোখে সরু সানগ্লাস। খোলা লম্বা চুলে পর্দার মতোই নিখুঁত দেখাচ্ছিল তাঁকে।
অদিতি
তিনি একাধারে রাজনীতিক এবং কীর্তন শিল্পী। গরমে গত এক মাসে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে ভোটের প্রচার করেছেন মূলত সাদা শাড়ি পরে। বুধবার ভোট দিতেও এলেন লাল-কালো মন্দির পাড় কোরা সাদা রঙের তাঁতের শাড়ি পরে। কানে সোনার দুল, কপালে লাল টিপ, হাতে শাঁখা-পলার সঙ্গে স্মার্ট ওয়াচ আর কপালে সিঁদুর।
মুনমুন-রাইমা
মা মুনমুন সেনের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলেন রাইমা সেন। গরমের আদর্শ সাজ সেজেছিলেন মুনমুন। আকাশনীল ফিনফিনে নরম শাড়ির সঙ্গে একই রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ় পরেছিলেন তিনি। কানে ঝুলিয়েছিলেন টার্কিশ ব্লু পাথরের ঝোলা দুল। আলগা খোঁপা, হালকা মেক আপে মুনমুন মনে পরিয়ে দিয়েছেন তাঁর পুরনো দিনের শৌখিনী মেজাজ। সঙ্গে মেয়ে রাইমা কিন্তু সেজেছিলেন খুবই সাধারণ পোশাকে। সুতির কুর্তা-সালোয়ারের সঙ্গে সুতির ছাপা ওড়নায় রাইমাকেও নায়িকার মতো দেখাচ্ছিল না।
রচনা
তিনি সাংসদ-অভিনেত্রী। আবার ছোট পর্দার ‘দিদি’ও। রচনা চট্টোপাধ্যায় ভোটের জন্য বেছে নিয়েছিলেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির রাজ্যের কটকি। শাড়ি নয়, সবুজ কটকি কাজের সালোয়ার কামিজ পরে ভোট দিতে এসেছিলেন রচনা। কাঁধে সাদা ওড়না। তাঁর ববছাঁট লালচুলের সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে গিয়েছিল লালচে মেরুন রোদচশমাটিও।
ইমন
গায়িকা ইমন চক্রবর্তী ভোট দিতে যাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিলেন লখনউ চিকনের কুর্তা। রানি গোলাপি রঙের জমিতে সাদা সুতোর আলপনা। মোটা ফ্রেমের চশমা টেনে বাঁধা হর্সটেল। ভোটের সাজ এটুকুতেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন ইমন।