ডিম, দই, মধু— এ সবই বড্ড সেকেলে। এই সব ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে রূপচর্চা এখন অনেকেরই না-পসন্দ। অথচ ত্বক হতে হবে একবারে নিখুঁত, কেবল নায়ক-নায়িকারাই নন, এখন সাধারণ মহিলারাও ত্বকের বিষয়ে বেশ সচেতন। ত্বকের দাগছোপ দূর করতে, জেল্লা বৃদ্ধি করতে কত ধরনের ট্রিটমেন্ট আসছে বাজারে! আসছে নিত্যনতুন ফেশিয়াল। চকোলেট ফেশিয়াল, কেমিক্যাল পিল্স, অক্সিজেন ফেশিয়াল, হাইড্রা ফেশিয়াল— এখন বেশ ট্রেন্ডিং। তবে এ ছাড়াও এমন কতগুলি ফেশিয়াল আছে যেগুলি ততটাও পরিচিত নয়, অথচ সৌন্দর্যের জন্য অনেক তারকা সুন্দরীই এই সব বিচিত্র ফেশিয়াল করিয়ে থাকেন। হাতের কাছে যদি থাকে মৌমাছির বিষ বা ভেড়ার প্লাসেন্টা, তা হলে আর চিন্তা কী? দিব্যি এগুলি দিয়েই করে ফেলতে পারেন ফেশিয়াল।
ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়াল:
ভ্যাম্পায়ার ফেশিয়ালকে প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপিও বলা হয়। এ ক্ষেত্রে মাইক্রোনিডলিং পদ্ধতি প্রয়োগ করে শরীর থেকে সামান্য রক্ত নিঃসরণ করা হয় প্রথমে। তার পর সেই রক্ত থেকে প্লেটলেটে ভরপুর প্লাজ়মা আলাদা করা হয়। সেই প্লাজ়মা ব্যবহার করেই ফেশিয়ালের গোটা প্রক্রিয়াটি করা হয়। এর ফলে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, বলিরেখা দূর হয়, ব্রণর দাগও কমে। এক একটি সেশন ৪৫-৬০ মিনিটের হয়। তবে গ্রাহকের মনের মতো ফলাফল পেতে একাধিক সেশনের প্রয়োজন হয়। এক বার এই ফেশিয়াল করানোর পর ৮-১২ মাস এর প্রভাব ত্বকে লক্ষ্য করা যায়।
স্নেল ফেশিয়াল:
এই ফেশিয়ালটি প্রথম করা হয় টোকিওতে, যেখানে জীবন্ত শামুক মুখের উপর হেঁটে বেড়ায়। শামুকের মিউসিন প্রয়োগ করে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা হয়, মৃত কোষ দূর করা হয়। সব মিলিয়ে ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়। স্নেল ফেশিয়ালে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রোটিনের সাহায্যে ত্বককে নরম, আর্দ্র আর ঝকঝকে করে তোলা হয়।
বি ভেনোম ফেশিয়াল:
শুনতে অবাক লাগলেও এই ফেশিয়ালে মৌমাছির বিষ ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে কোলাজেন এবং ইলাস্টেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করার জন্য পরিশোধিত মৌমাছির বিষ (অ্যাপিটক্সিন) ব্যবহার করা হয়। অ্যাপিটক্সিন বোটক্সের একটি প্রাকৃতিক বিকল্প হিসাবে কাজ করে। অনেক দেশে এই ফেশিয়ালকে ‘বি স্টিং ফেশিয়ালও’ বলা হয়। বয়স ধরে রাখতে অনেক তারকাই এই ফেশিয়াল করান। ব্রণর সমস্যা দূর করতে এই ফেশিয়াল বেশ কাজের।
ক্যাভিয়ার ফেশিয়াল:
মাছের ডিম দিয়ে রূপচর্চা! ফেশিয়াল করানোর সময় যে সে মাছের ডিম দিয়ে করানো হয় না, ব্যবহার হয় ক্যাভিয়ারের ডিএনএ। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খাবারের মধ্যে অন্যতম ক্যাভিয়ার। ভারতীয় অঙ্কে ৩০ গ্রাম ক্যাভিয়ারের দাম পড়তে পারে আট থেকে ১৮ হাজার টাকা। কিম কর্দাশিয়ানের বোন ক্লোয়ি এবং কোর্টনি কর্দাশিয়ান অবশ্য মাসে দুই থেকে তিন বার এই ফেশিয়াল করিয়ে থাকেন তারুণ্য ধরে রাখার জন্য। ক্যাভিয়ারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। ক্যাভিয়ারের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে ত্বককে আরও নরম করে তোলে। দাগছোপ মিলিয়ে দেয় নিয়মিত ব্যবহারে।
শিপ প্লাসেন্টা ফেশিয়াল:
ভেড়ার প্লাসেন্টা দিয়েও যে ফেশিয়াল হতে পারে, এটা অনেকের ভাবনাতেই আসবে না। এই ফেশিয়াল ত্বকের বয়স ধরে রাখতে, বলিরেখা রুখতে এবং ত্বক পুনরুজ্জীবিত করতে বেশ উপকারী। ভেড়া থেকে প্রাপ্ত প্লাসেন্টার নির্যাস প্রোটিন, স্টেম সেল এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এই প্লাসেন্টা ত্বককে টানটান করতে, আর্দ্র রাখতে এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এই ফেশিয়াল দাগছোপ দূর করতে, ব্রণ কমাতে এবং হারানো জেল্লা ফেরাতে বেশ উপকারী।