বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। এই সময়ে ত্বকে দাদ, চুলকানি, র্যাশ বা ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে ঘরোয়া কিছু প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
ম্যালাসেজিয়া ফলিকিউলিটিস নামক ছত্রাকের সংক্রমণে শুধু ব্রণ বা র্যাশ নয়, এগজ়িমার মতো চর্মরোগও দেখা দিতে পারে। ম্যালাসেজিয়া ত্বকে জন্মায়। লোমকূপের ভিতরে থাকে এবং ত্বকের সিবাম খেয়ে বেঁচে থাকে। গরম ও আর্দ্র পরিবেশে, যেমন বর্ষাকালে, এই ছত্রাক দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এর ফলে লোমকূপগুলিতে প্রদাহ তৈরি হয় এবং সারা ত্বক ব্রণ, র্যাশ বা ফুস্কুড়িতে ভরে যায়।
কী কী প্যাক মাখবেন?
নিম ও কাঁচা হলুদের প্যাক
নিম ও হলুদ দুয়েরই অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ রয়েছে। একমুঠো নিম পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে একটুকরো কাঁচা হলুদ বেটে প্যাক বানিয়ে নিন। এই মিশ্রণ সংক্রমণের জায়গায় লাগিয়ে মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেলুন। এমনিতেও বর্ষার সময়ে সপ্তাহে দু’দিন এই প্যাক মাখতে পারেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
আরও পড়ুন:
পুদিনার টোনার
বর্ষায় র্যাশ, ফুস্কুড়ি ও ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি টোনার ব্যবহার করুন। বাজারচলতি নয়, বরং পুদিনা পাতা ধুয়ে জলে ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। জল ঠান্ডা হলে স্প্রে বোতল ভরে ব্যবহার করুন। রাস্তায় বেরিয়ে মুখ তেলতেলে হয়ে গেলে, স্প্রে বোতল থেকে কিছুটা পুদিনা টোনার মুখে দিয়ে তুলো দিয়ে মুছে নিতে পারেন। বা তুলো ছাড়াও পুদিনা টোনার মুখে সরাসরি স্প্রে করে নিতে পারেন।
টি ট্রি অয়েল ও মুলতানি মাটির প্যাক
ত্বকে ব্রণ বা ফুস্কুড়ির সমস্যা যাঁদের বেশি বা ত্বক খুব স্পর্শকাতর, তাঁরা এই প্যাক সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। এতে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। ২ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল এবং ৩-৪ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। টি ট্রি অয়েল যদি শুধু ব্যবহার করতে চান, তা হলে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে তবেই মুখে মাখবেন।