চুলের জট কমানো থেকে, ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করা, নতুন চুল গজানোর গতি বাড়ানো, সবের জন্যই দিদিমা-ঠাকুরমায়েরা তেলের উপরেই ভরসা রাখতেন। তাতে ফলও পেয়েছেন তাঁরা। ঘন, কালো, লম্বা চুলের অধিকারী হয়েছেন অনেকেই। তবে নতুন যুগে নারীরা বাড়ির বাইরে বেরোন, পাশাপাশি দূষণের জেরে গরমও বেড়েছে। এই সময়ে বেশি ক্ষণ তেল মেখে থাকতে কষ্ট হয় খুবই। তেল চিটচিটে মাথায় অস্তস্তি বাড়তে থাকে। সেই আতঙ্কে তেল মাখাই ছেড়ে দেন অনেকে। কিন্তু তা তো সমাধান হতে পারে না! সে ক্ষেত্রে বিকল্প রাস্তা খোঁজা দরকার।
ঘরে বানানো সিরাম বা হালকা তেল সমস্যার সমাধান করতে পারে। কেবল জানতে হবে, কিসের সঙ্গে কী মেশালে ফল মিলবে। যুগলবন্দি সঠিক হলে, সেই সিরাম আপনার মাথার ত্বক থেকে চুলের আগা পর্যন্ত পুষ্টি জোগাতে পারে। গরমের সময়ে এমন মিশেল মাথায় মেখেও আরাম।
চুলের তেল বানান নিজেই। ছবি: সংগৃহীত
হালকা তেল বানানোর জন্য কী কী প্রয়োজন?
২ টেবিল চামচ হোহোবা অয়েল
১ টেবিল চামচ আরগন অয়েল
৫ ফোঁটা রোজ়মেরি এসেনশিয়াল অয়েল
৩ ফোঁটা পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল
আরও পড়ুন:
কী ভাবে বানাবেন এই তেল?
একটি ড্রপার বোতলে প্রথমে হোহোবা ও আরগন তেল ঢালুন। ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে তার পর এসেনশিয়াল অয়েলগুলি ঢেলে দিন। বোতলটি ভাল করে ঝাঁকাতে হবে, নয়তো তেলগুলি একে অপরের সঙ্গে ভাল ভাবে মিশবে না। স্নানে ঢোকার ১-২ ঘণ্টা আগে অল্প কয়েক ফোঁটা মাথার ত্বকে ঢেলে মালিশ করে নিন। এতে রক্তচলাচল বৃদ্ধি পাবে মাথার ত্বকে, সক্রিয় হবে চুলের ফলিকলগুলি। পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল মাথার ত্বকে সতেজ ভাব আনতে সাহায্য করবে, ফলে গরমে অস্বস্তি হবে না। অন্য দিকে, রোজ়মেরি এসেনশিয়াল অয়েল চুল পড়া কমানো, নতুন চুল গজানো, খুশকি দূর করা এবং মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। হোহোবা অয়েল মাথার ত্বকে গিয়ে প্রাকৃতিক তেল অর্থাৎ সেবামের বিকল্প তৈরি করতে পারে। চিটচিটে ভাব ছাড়াই আর্দ্র ভাব করে হোহোবা। আর চুলকে নরম ও ময়েশ্চারাইজ় করে, খুশকি কমায় এবং চুলের আগা ফাটা রোধ করে আরগন অয়েল।