Advertisement
E-Paper

মধ্যরাত পর্যন্ত চুক্তি ঠেকিয়ে রেখেছিল ইরান! এক মিনিট আগে সমঝোতার ঘোষণা হলেও বেঁকে বসত তেহরান, কেন?

রবিবার চুক্তি হোক, কোনও ভাবেই তা চায়নি ইরান। তাই যে করেই হোক মধ্যরাতের পর অর্থাৎ, খাতায়কলমে ১৫ জুন তারা চুক্তি করার কথা বলেছিল। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কূটনীতির কৌশল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৯:৫৩
(বাঁ দিক থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

(বাঁ দিক থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণাটিকে রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঠেকিয়ে রেখেছিল ইরান। এক মিনিট আগেও এই চুক্তির ঘোষণা হয়ে গেলে তারা বেঁকে বসতে পারত। ইরানি সূত্র উল্লেখ করে এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স। তাদের রিপোর্টে দাবি, রবিবার চুক্তি হোক, কোনও ভাবেই তা চায়নি ইরান। তাই যে করেই হোক মধ্যরাতের পর অর্থাৎ, খাতায়কলমে ১৫ জুন তারা চুক্তি করার কথা বলেছিল। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শক্তিশালী কূটনীতি রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

রবিবার, ১৪ জুন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন ছিল। ট্রাম্প আগে থেকেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, রবিবার চুক্তি সম্পাদিত হবে। তবে ইরান প্রথম থেকেই এ প্রসঙ্গে সতর্ক ছিল। তাদের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, রবিবার চুক্তি হচ্ছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা হতে পারে। অবশেষে সোমবার ভোর পৌনে ৩টে নাগাদ (ভারতীয় সময়) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ আমেরিকা ও ইরানের চুক্তির কথা ঘোষণা করেন সমাজমাধ্যমে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রাম্পও পোস্ট করেন। ইরান চুক্তির কথা নিশ্চিত করে তারও পরে।

দু’জন ইরানি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, ট্রাম্পের জন্মদিনে চুক্তি করতে কোনও ভাবেই রাজি ছিল না তেহরান। শাহবাজ়ের ঘোষণা আরও আগে আসার কথা ছিল। কিন্তু ইরানের জোরাজুরিতেই তা পিছিয়েছে। যে সময়ে ঘোষণা হয়েছে, খাতায়কলমে ইরানে তখন ১৫ জুন। তবে আমেরিকায় তখনও ১৪ জুন। অর্থাৎ, এই প্রক্রিয়ায় উভয়ের দাবিই মান্যতা পেয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সময়ের ব্যবধান সাড়ে সাত ঘণ্টার। ফলে ট্রাম্প নিজের দেশে নিজের জন্মদিনেই চুক্তি ঘোষণা করতে পেরেছেন। আবার, ইরানের ইচ্ছাও পূর্ণ হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, রবিবার চুক্তি হবে। আমেরিকার সময় অনুযায়ী রবিবারই তা হয়েছে। কিন্তু ইরান দাবি করেছিল, রবিবার কোনও চুক্তি হচ্ছে না। তাদের সময় অনুযায়ী চুক্তির ঘোষণা রবিবার হয়নি। কূটনৈতিক স্তরে চিন্তাভাবনার পরেই এই ব্যবস্থায় সকল পক্ষ সম্মত হয়।

তবে আমেরিকা ও ইরানের চুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী শুক্রবার প্রাথমিক চুক্তিতে সইসাবুদ হওয়ার কথা সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায়। তার পর আগামী দু’মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় বসবে দুই দেশ। আপাতত এই চুক্তিতে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া এবং সামরিক আগ্রাসন বন্ধের কথা বলা হয়েছে। পরে পারমাণবিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে আলোচনা হবে। তাতে এখনও একমত হতে পারেনি কোনও পক্ষ।

চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও এখনও তা দিয়ে পণ্য পরিবহণ আগের মতো স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। কারণ, হরমুজ়ে পেতে রাখা মাইনগুলি এখনও সরানো যায়নি। ধীরে ধীরে তা সরানোর প্রক্রিয়া চলবে। এ ছাড়া, ইরানের বন্দরগুলি থেকে অবরোধ তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তা যদি কার্যকর হয়, ইরানের অর্থনীতির উপর থেকে বড় চাপ কমবে। আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতার অন্যতম ‘কাঁটা’ লেবাননে ইজ়রায়েলের আগ্রাসন। চুক্তিতে জানানো হয়েছে, লেবানন-সহ সর্বত্র সব ধরনের হামলা বন্ধ হবে। কিন্তু চুক্তির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেও বেইরুটে বোমা ফেলেছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাহিনী। তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ইজ়রায়েল কি হামলা থামিয়ে আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে? সে দিকেও নজর থাকবে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
US Iran Conflict Donald Trump Mojtaba Khamenei West Asia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy