Advertisement
E-Paper

শত্রুকে বিশ্বাস নয়! সতর্ক বিবৃতি ইরানের, কী কী শর্ত আমেরিকাকে? দুই দেশের ভূমিকার প্রশংসা

পাকিস্তানের ঘোষণার পর ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুকে তাঁরা এখনই বিশ্বাস করতে রাজি নন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ০৮:৫৩
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় তার জন্য প্রয়োজনীয় সইসাবুদ হবে। সমাজমাধ্যমে এই চুক্তির কথা প্রথম ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। পরে আমেরিকা এবং ইরান তা নিশ্চিত করেছে। তবে চুক্তিতে রাজি হলেও আপাতত সতর্ক ইরান। তাদের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কোনও ভাবেই তারা শত্রুকে এত দ্রুত বিশ্বাস করছে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

পাকিস্তানের ঘোষণার পর ইরানের উপবিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিমে তাঁর বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তি অবিলম্বে যুদ্ধে ইতি টানল। দু’মাসের মধ্যে দেশগুলি চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় বসবে। কাজ়েমের কথায়, ‘‘চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা হবে। তবে তার আগে চুক্তির অধীনে আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতিগুলি পালন করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। দেখা হবে, আদৌ তারা শত্রুতা ভুলে হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ তুলছে কি না, ইরানের আটকে রাখা সম্পদ মুক্ত করছে কি না।’’ ভবিষ্যতের চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক স্তরের একটি আলোচনা শুক্রবার জেনেভাতেই সেরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কাজ়েম।

আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার স্মারকলিপির (মউ) খসড়া প্রস্তুত করেছে তেহরান। তাতে তাদের প্রাথমিক দাবিগুলির প্রত্যেকটি যোগ করা হয়েছে। শুক্রবার খাতায়কলমে চুক্তি স্বাক্ষরের পর সেই খসড়া প্রকাশ করবে ইরান। কাজ়েমের কথায়, ‘‘এই সমঝোতার অর্থ শত্রুকে বিশ্বাস করা নয়। আমরা আমেরিকার প্রতিশ্রুতি এবং দায়বদ্ধতার দিকে নজর রাখব।’’

কী কী আছে আমেরিকা-ইরানের প্রাথমিক চুক্তিতে? কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে আমেরিকাকে? ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে লেবানন-সহ সমস্ত দিকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে হবে। ইরানের বন্দরগুলি থেকে অবিলম্বে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘লেবানন-সহ সকল দিকে যুদ্ধ, যাবতীয় সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে আজ রাত থেকেই বন্ধ করতে হবে। অপরপক্ষ মউ অনুযায়ী তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তির সমঝোতা নিয়ে আলোচনাই শুরু হবে না।’’

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার জন্য প্রথম থেকে সচেষ্ট পাকিস্তান। এর আগে এক বার ইসলামাবাদে দুই দেশকে তারা মুখোমুখি আলোচনাতেও বসিয়েছিল। যদিও সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া, আরও কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছিল। তেমন দুই দেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তেহরান। শান্তিস্থাপনে পাকিস্তান এবং কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। বিবৃতি অনুযায়ী, ‘‘পাকিস্তান এবং কাতারের চেষ্টা প্রশংসার্হ। তাদের দেশে শান্তি বজায় থাকুক।’’

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
Tehran Donald Trump Mojtaba Khamenei US Iran Conflict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy