Advertisement
E-Paper

শীতের শুষ্ক মরসুমে ত্বকে থাকবে ভেজা ভাব, ছুঁয়ে থাকবে জেল্লা, কেন চর্চা ‘স্কিন ফ্লাডিং’ নিয়ে

শীতের রুক্ষ ত্বকের সমাধান করতে পারবে কি ‘স্কিন ফ্লাডিং’? কেন তা নিয়ে এত চর্চা? কী এই কৌশল?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৫
কিয়ারা আডবাণীর মতো জেল্লা পেতে কি ‘স্কিন ফ্লাডিং’ কাজে আসবে?

কিয়ারা আডবাণীর মতো জেল্লা পেতে কি ‘স্কিন ফ্লাডিং’ কাজে আসবে? ছবি: সংগৃহীত।

মুখে ক্রিম মাখলেন। লাগালেন সিরাম। তার পরেও কি ত্বকের আর্দ্র ভাব ঠিকমতো বজায় থাকছে না? উত্তর যদি না হয়, তা হলে বরং নতুন ভাইরাল ট্রেন্ডে গা ভাসাতে পারেন। যে চল বলছে, ত্বকে শুধু সারা দিন, সারা রাত আর্দ্রতা থাকবে না, আর্দ্রতার বন্যা বইবে। শীতের শুষ্ক মরসুমেও ত্বক দেখলে মনে হবে, এই স্নান সেরে উঠলেন। মুখে হালকা ভেজা ভাব। ঠিক যেন শিশিরের আভা।

দিনভর যা-ইচ্ছা করুন না কেন, এসি অফিসে বসে কাজ করলেও সেই জেল্লায় কোনওমতেই ভাগ বসাতে পারবে না জলীয়বাষ্পহীন বাতাস। আসল কথা হল, যাঁদের ত্বক শুধু শুষ্ক নয়, অতিরিক্ত‌ই শুষ্ক, তাঁদের জন্যই ‘স্কিন ফ্লাডিং’।

বিষয়টি কী?

কোরিয়ানদের মতো গ্লাস স্কিন বা দাগছোপহীন মসৃণ ত্বক পেতে আগ্রহী প্রায় সকলেই। তাই কোরিয়ানদের রূপচর্চার ধারা নিয়ে বিশ্বের নানা দেশে চর্চা। কে-বিউটি রূপচর্চা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জন্ম নিয়েছে এই পন্থা। বিষয়টি আর কিছুই নয়, ত্বকের জেল্লা ধরে রাখার জন্য আর্দ্রতাকে ধরে রাখা।

ত্বক যদি আর্দ্র থাকে, স্বাভাবিক ভাবেই বলিরেখা নজরে আসবে না। মুখে থাকবে লালিত্য। সেই লালিত্য ধরে রাখার জন্যই তৈরি হওয়া ‘স্কিন ফ্লাডিং’ বলছে, ত্বকে আর্দ্রতার জোগান দিতে হবে ধাপে ধাপে। তবে তা এমন ভাবে হবে, যাতে ত্বকের জলীয় ভাব বেরিয়ে না যেতে পারে। সহজ ভাবে বললে, ত্বকের আর্দ্রতাকে ত্রিস্তয়ীয় সুরক্ষা বর্মে আটকে ফেলতে হবে।

কী সেই পন্থা?

ক্লিনজ়িং এবং মিস্ট : ক্লিনজ়িং জরুরি। শুধু ফেসওয়াশ বা তার পর স্ক্রাবও ব্যবহার করতে পারেন। তার পরে জল দিয়ে খুব ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। তবে সেই জল মুছে ফেলা যাবে না। তোয়ালে দিয়ে হালকা মুছে নেওয়ার পর যে জলটুকু লেগে থাকবে, তার উপরই শুরু করতে হবে পরবর্তী ধাপ। কিংবা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে, মুখে জল স্প্রে করে নিন।

সিরাম: ভেজা মুখেই মাখতে হবে ত্বকের উপযোগী সিরাম। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড রয়েছে, এমন সিরাম শুষ্ক ত্বকের জন্য কার্যকর। আবার বলিরেখা থাকলে ভিটামিন সি য ব্যবহার করতে পারেন।

ক্রিম: সিরাম ব্যবহারের পর মাখতে হবে ক্রিম। শীতের উপযোগী, একটু মোটা ধরনের ক্রিম কোকো বা শিয়া বাটারযুক্ত কোল্ড ক্রিম বেছে নিন। সিরাম মাখার পর ২-৩ মিনিট সময় নিন। তার পরে ক্রিমটি ভাল করে মাখুন। তবে ক্রিম পুরোপুরি মেখে মুখ শুকনো করে ফেললে চলবে না। একটু তেলতেলে ভাব রাখা জরুরি। কারণ, সেটি কিছুক্ষণ পরে শুকনো হয়ে যাব।

কী ভাবে কাজ করতে এই পন্থা?

মুখে লেগে থাকা জল বা জল স্প্রে করার পরে সিরাম মাখলে মুখের জলীয় ভাব উবে যেতে পারে না। প্রথমত সিরাম সেই জলীয় ভাব আটকে দেয়, দ্বিতীয়ত সিরাম বাড়তি আর্দ্রতা, ভিটামিন যোগ করে। তৃতীয় ধাপে ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করলে, আর্দ্রতার বর্ম আরও পোক্ত হয়। ত্বকের আর্দ্রতা কোনও ভাবে উবে যেতে পারে না। ঠিক সেই কারণে, স্নানের পর ভেজা গায়ে বডি লোশন বা তেল মাখলে, ত্বক অনেক বেশি আর্দ্র থাকে।

‘স্কিন ফ্লাডিং’-এর উপকারিতা

১. গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা

এই পদ্ধতির প্রধান কাজ হল ত্বককে গভীর ভাবে আর্দ্র রাখা এবং সেই আর্দ্রতা ধরে রাখা। সাধারণ ময়েশ্চারাইজারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি এর কার্যকারিতা।

২. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি

ত্বক যখন আর্দ্র থাকে, তখন এমনিতেই ত্বক উজ্জ্বল, সুন্দর এবং সতেজ দেখায়। ক্লান্তির ছাপ বা বলিরেখা চোখে পড়ে না।

৩. বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমানো

শুষ্ক ত্বকে সূক্ষ্ম বলিরেখা দেখা দেয়। এই পন্থার মাধ্যমে ত্বকে আর্দ্রতার জোগান দেওয়া হয়, ফলে মুখ টানটান থাকে। রুক্ষ ত্বকেই বলিরেখা দ্রুত পড়ে। সেই রুক্ষ ভাব না থাকলে স্বাভাবিক ভাবেই চট করে বলিরেখা পড়বে না।

New

Skin Flooding Method
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy