ত্বকের অ্যালার্জি কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা ভুক্তভোগীরা বিলক্ষণ জানেন। অ্যালার্জির উৎস খুঁজে বার করা রীতিমতো কঠিন কাজ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন অনুসন্ধানের পরেও নিশ্চিত হওয়া যায় না, কী থেকে রোগীর অ্যালার্জি হচ্ছে। সঠিক উপায়ে যত্ন না নিলে, তখন ত্বকে মৃতকোষের আধিক্য ঘটে নানা রকম চর্মরোগের প্রকোপ শুরু হয়। জ়েরোসিস, এগজ়িমা, স্ক্যাবিস, সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে থাকে। আবার পোশাক থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। ধাতব গয়না থেকেও অ্যালার্জি হয়। সে ক্ষেত্রেও চামড়া ফুলে ওঠা, ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। ত্বকের অ্যালার্জি সরাতে কি সহায়ক হতে পারে পেঁয়াজের রস?
ত্বকের অ্যালার্জি সারাতে পেঁয়াজের রস খুবই পুরনো একটি টোটকা। পেঁয়াজের রসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান যা অ্যালার্জির তীব্রতা কমিয়ে দিতে পারে। ত্বকের প্রদাহ কমায়, চুলকানি, র্যাশ কমাতেও কার্যকরী হয়। তবে এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
পেঁয়াজ-মধুর প্যাক
পেঁয়াজের রস সরাসরি মাখলে অনেক সময় ত্বক জ্বালা করতে পারে। তাই এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে মাখতে পারেন। ২ চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। অ্যালার্জি আক্রান্ত স্থানে তুলো দিয়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন, তারপর ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন।
আরও পড়ুন:
পেঁয়াজের রস ও নারকেল তেল
ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে গেলে ও চামড়া ফাটতে শুরু করলে এই প্যাকমাখতে পারেন। সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। হালকা হাতে মালিশ করে ৩০ মিনিট রাখুন।তার পর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের র্যাশ, ফুস্কুড়ি ও জ্বালা কমাতে সাহায্য করবে।
পেঁয়াজের রস ও অ্যালো ভেরা জেল
দু’চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। শুষ্ক ত্বকে মেখে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এটি ত্বকে শীতলতা আনে এবং লালচে ভাব দ্রুত কমায়। রাতে শোয়ার আগে মাখলে ত্বকের জ্বালা, চুলকানি কম হবে।
পেঁয়াজের রস সকলের ত্বকের জন্য সমান উপযোগী না-ও হতে পারে। খেয়াল রাখবেন ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে অথবা ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকলে, সেখানে পেঁয়াজের রস মাখবেন না। ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।