দৈনন্দিন জীবনে একই ধরনের কাজ করতে করতে যেমন অবসাদ আসে, তেমনই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিও প্রতিনিয়ত কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠে। তাদের সেই কাজ থেকে খানিকটা বিশ্রাম দিতে অনেকেই ডিটক্স ডায়েটের উপর নির্ভর করেন। ডিটক্স ডায়েটে মূলত উপবাস ও পানীয় গ্রহণের উপর নির্ভর করতে হয়। শরীরে যে সব টক্সিন মল, মূত্র ও ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে না, সেগুলি এই ডায়েটিংয়ের সাহায্যে সহজেই নিষ্কাশন করা সম্ভব।
গাজর, বিট, সেলেরি, টোম্যাটো, লাউয়ের মতো সব্জির রস খেতে পারেন ডিটক্স চলাকালীন। খাওয়া যায় ডালের স্যুপ বা যে কোনও ক্লিয়ার স্যুপও। তবে অতিরিক্ত কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি গাঢ় স্যুপ খাওয়া চলবে না। এই সময় দূরে থাকতে হয় চিনি, কার্বোহাইড্রেট ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকেও। অনেকেই মনে করেন ডিটক্স ডায়েট করলেই বুঝি ত্বকের সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে। ডিটক্স করলে পেট পরিষ্কার থাকবে, আর পেট পরিষ্কার হলে ত্বকেও তার প্রভাব লক্ষ করা যাবে।
ত্বকের চিকিৎসকদের মতে, ডিটক্স ডায়েট শুরু করলে অনেকের ত্বকই জেল্লাহীন হয়ে পড়ে। তাঁদের মতে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, ত্বক ভাল হওয়ার আগে ত্বকে কিছু বদল আসে, তাই জেল্লা কমে যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদী নয়। খাদ্যাভ্যাসে বদল এলে, হঠাৎ করে চিনি, ক্যাফিন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ফলের রস, স্যালাড খেতে শুরু করলে শরীর একটি রিসেট পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়। সেই রিসেট চলাকালীন, শরীরে সঞ্চিত টক্সিন বেরোতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা প্রদাহগুলিও দেখা দিতে শুরু করে। আর ত্বকে তার প্রতিফলন শুরু হয়। চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের এই পরিবর্তন দেখা যায় কারণ, শরীর নতুন খাদ্যাভাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা সময় নেয়। আর এই সময়কালে ত্বকে দাগছোপ, শুষ্কতা দেখা দেওয়া খুব স্বাভাবিক।
এর পাশাপাশি, ডায়েট শুরু করার সময় কিন্তু ত্বকের প্রতি বাড়তি নজর রাখা খুব জরুরি। আর ডায়েট চলাকালীন শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় পুষ্টি যাচ্ছে কি না, সেটাও লক্ষ রাখতে হবে। তাই নিজে নিজে সমাজমাধ্যমে দেখে নয়, পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই ডায়েট শুরু করতে হবে। এ ছাড়া ডিটক্স ডায়েট করার সময়েও হাইড্রেশনের উপর নজর রাখতে হবে। ফল, সব্জির রস জলের বিকল্প হতে পারে না। শরীরে জলের ভাগ কমে গেলেই ত্বকে তার প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে। টানা খুব বেশি দিন ডিটক্স ডায়েট করা স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য মোটেও ভাল নয়।