সারা দিনের ব্যস্ততায় নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। ত্বকের পরিচর্যা না হয় না-ই হল। ঘুম ভেঙে উঠে সেই যে রোজের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, বিশ্রাম একেবারে রাতে। প্রতি দিনের এই ছুটে চলায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হচ্ছে ত্বক ও চুল। দিনভর ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠছে চোখে-মুখে। বাইরের ধুলোধোঁয়া, দূষণে চুল হয়ে উঠছে রুক্ষ, নির্জীব। স্কুল-কলেজের সময়ে যখন রোদে বেরিয়ে ত্বকে দাগছোপ পড়ত বা গুটি গুটি ব্রণ গজাত মুখে, তখনও মায়েদের টোটকাতেই কাজ হত বেশি। একেবারেই ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই রূপচর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন মা-ঠাকুমারা। সে সময় বাজারচলতি এত প্রসাধনীর রমরমা ছিল না। সাধারণ ঘরোয়া উপকরণেই ত্বক থাকত স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, চকচকে। বাঙালি মায়েদের প্রিয় এমন কিছু ঘরোয়া টোটকা আছে নিয়ম করে ব্যবহার করলে সাতদিনেই ত্বকের জেল্লা ফিরতে পারে।
কী কী মাখবেন?
দুধের সর
দুধের সর ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। মনে করে দেখুন, রোদে পোড়া ত্বকে মায়েরা পরম স্নেহে দুধের স্বর মাখিয়ে দিতেন। কিছুদিনেই ত্বকের কালচে দাগ উঠে যেত। দুধে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা ত্বকের মৃত কোষ তুলে দেয়। পরিষ্কার দেখায় ত্বক। চটজলদি জেল্লা ফিরে আসে।
মধু এবং হলুদ
ত্বকের জন্য দু’টিই ভীষণ উপকারী। মধু, হলুদ গুঁড়ো, লেবুর রস এবং গ্রিক ইয়োগার্ট— এই উপকরণগুলি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে কিছু ক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক হবে মসৃণ।
বেসন ও মুসুর ডাল বাটা
বেসন আর মুসুর ডাল বাটা ছোটবেলায় হয়তো অনেকেই মেখেছেন। এই দুই উপাদানই প্রাকৃতিক ক্লিনজ়ার হিসেবে বেশ কার্যকরী। মুখে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করলে সপ্তাহে দু’-তিন দিন ডাল বাটা মাখলেই ত্বক টানটান হবে। ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলেও মুসুর ডালের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের কালো দাগ দূর করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তিন চামচ মুসুর ডাল বাটা, তিন চামচ টক দই আর একই পরিমাণ বেসন ভাল বেশ করে মিশিয়ে নিন। ওই মিশ্রণে এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো দিয়ে আবার ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এ বার ত্বকে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না শুকোয়। তার পর জল দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরে পাবেন।