কারও চুল ঘন হয়, কিন্তু স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায় কি? চুল ঘন হওয়ার শর্ত শুধু চুলের সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, তা স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হওয়াটাও জরুরি। কারণ, ঘন কিন্তু রুক্ষ, নিষ্প্রাণ চুল কারও স্বপ্ন হতে পারে না।
কিন্তু তা কী ভাবে মিলবে? চুল ভাল রাখার প্রাথমিক শর্তই হল মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা, চুলের যত্ন নেওয়া। কিন্তু শুধু এইটুকুই কি যথেষ্ট? তা দিয়েই কি নিষ্প্রাণ চুলের হাল ফিরতে পারে? মুম্বই নিবাসী ত্বকের রোগের চিকিৎসক, ট্রিকোলজিস্ট (যাঁরা চুল নিয়ে কাজ করেন) প্রীতি কার্দে শৃঙ্গারপুরে জানাচ্ছেন, সঠিক পুষ্টি, মাথার ত্বকের যত্ন এবং জীবনযাপনের সম্মলিত প্রভাবেই চুল কতটা ভাল বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে। চুল ঘন হতে গেলে, হেয়ার ফলিকল মজবুত হওয়া জরুরি। যাতে চুলের সংখ্যা বাড়ে এবং তা স্বাস্থ্যোজ্জ্বলও হয়।
তবে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, চেষ্টা করলেই সকলের চুলের ঘনত্ব যথেষ্ট হবে, এমন নয়। অনেকেরই জিনগত বা বংশগত ভাবে চুল হালকা বা কম ঘনত্বের হয়। এ ছাড়া হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে, পুষ্টির অভাব ঘটলে, চুলের যত্নে ত্রুটি থাকলেও চুলের স্বাস্থ্য এবং ঘনত্ব কমতে পারে। তবে যাপন পদ্ধতির বদলেই লুকিয়ে রয়েছে এর সমাধান।
প্রোটিন: চুল তৈরি হয় কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে। তা ছাড়া জ়িঙ্ক, আয়রন, ভিটামিন ডি, ফোলিক অ্যাসিড চুলের ফলিকল মজবুত করতে সাহায্য করে। ফলিকল থেকেই চুলের জন্ম হয়। সুতরাং, গোড়ায় গলদ থাকলে চুলের ঘনত্ব কমাই স্বাভাবিক। ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে চুলকে রক্ষা করে।
আরও পড়ুন:
সঠিক ভাবে চুলের যত্ন: চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বেছে নেওয়া দরকার। মৃদু, সালফেটবিহীন শ্যাম্পু বেছে নিতে পারেন। মাঝে মধ্যে তেল মাসাজ়ও জরুরি। তা ছাড়া, বোটক্স, ঘন ঘন বৈদ্যুতিক যন্ত্র দিয়ে কেশসজ্জা করলেও চুলের কিউটকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বার বার চুলে রং করা, স্মুদনিং, বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে কেশসজ্জা এড়ানো দরকার।
সাপ্লিমেন্ট: যাঁরা দৈনন্দিন ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করেন না, শাকসব্জি, ফলমূল যাঁদের পাতে থাকে না— তাঁদের অনেক সময়েই ভিটামিন এবং খনিজের অভাব হতে পারে। প্রয়োজন মতো বায়োটিন, কোলাজেন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, বি, সি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
মানসিক চাপ: ক্রমাগত মানসিক চাপও চুল ওঠার কারণ হতে পারে। আচমকাই চুল উঠতে শুরু করে, মাথা ফাঁকা হয়ে যায় বা চুলের ঘনত্ব কমে যায়। মানসিক চাপ বশে রাখাও অত্যন্ত জরুরি। প্রাণায়াম, যোগাসন করলে কিছুটা হলেও চাপ-উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তা ছাড়া, যোগাসনে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, যা সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
মাথার ত্বকে মাসাজ়: সঠিক পদ্ধতিতে মাথার ত্বকে মাসাজ় করলে আরাম বোধ হয় অবশ্যই, একই সঙ্গে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক থাকা দরকার।