Advertisement
E-Paper

মেঘের সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে চলুন কালিম্পঙের ছোট্ট গ্রামে, দোসর হবে পাইন বন আর স্তব্ধতার গান

কালিম্পঙের এই গ্রাম পাখি-দেখিয়েদের স্বর্গরাজ্য। রয়েছে বেশ কয়েকটি হোম স্টে। কাঠের দেওয়ালের বদলে কোনও কোনও হোম স্টের ঘর জুড়ে থাকে কাচের জানলা। মেঘমুক্ত দিনে সেখান দিয়েই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ এমন এক জায়গা, যেখানে ঘর, বারান্দা, রাস্তা— যে কোনও স্থান থেকে দৃশ্যমান হয় প্রকৃতির শোভা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৩
গন্তব্য হোক কালিম্পঙের  ক্যানভাসের মতো সুন্দর জনপদ চারখোল।

গন্তব্য হোক কালিম্পঙের ক্যানভাসের মতো সুন্দর জনপদ চারখোল। ছবি: সংগৃহীত।

কোলাহল নেই, ব্যস্ততা নেই। কাজের তাড়া নেই। ঘুম থেকে উঠে হোম স্টের বারান্দায় চেয়ার টেনে বসলেই হল। হাতের সামনে হাজির হবে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা। আর সামনের বিশাল ‘স্ক্রিনে’ ধরা দেবে প্রকৃতি।

পাহাড়ের গা জড়িয়ে মেঘ-কুয়াশা কখন যে সব দিক ঢেকে দেয়, টের পাওয়া যায় না। তবে যদি সেই চাদর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে একফালি রবিকিরণ, মন এক নিমেষে ভাল হয়ে যায়। শব্দ, যান্ত্রিকতা থেকে কয়েক যোজন দূরে কালিম্পঙের পাহাড়ি গ্রাম চারখোল।

গ্রামটির নাম চারখোল।

গ্রামটির নাম চারখোল।

ছোট হলেও অবশ্য জনপ্রিয়। এই গ্রামে রয়েছে অংসখ্য হোম স্টে। কাঠের দেওয়ালের বদলে কোনও কোনও হোম স্টের ঘর জুড়ে থাকে কাচের জানলা। মেঘমুক্ত দিনে সেখান দিয়েই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ এক এমন জায়গা, যেখানে ঘর, বারান্দা, রাস্তা— যে কোনও স্থান থেকে দৃশ্যমান হয় প্রকৃতির শোভা।

এই গ্রাম মূলত দু-দণ্ড জিরিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রিয় মানুষটির সঙ্গযাপনের জন্য। পায়ে হেঁটে পাহাড়ি পথ ধরে এগোলে দোসর হবে পাখির কিচিরমিচির। চোখাচোখি হলে মিষ্টি হাসি বিলিয়ে দেবেন পাহাড়ি মেয়েরা। গ্রামের জীবনযাত্রা কঠিন, কিন্তু পাহাড়ি মানুষেরা সবই সরল করে নিয়েছেন। সেই সরল জীবনই ভুলিয়ে দেবে শহুরে ব্যস্ততা, মুছিয়ে দেবে ক্লান্তি।

চারখোল থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পানবু। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অনন্য রূপ দেখা যায়। তবে পানবুর আসল জাদু হল নীচ দিয়ে বয়ে চলা তিস্তার সৌন্দর্য দর্শন। এক দিকে বরফমোড়া পাহাড়শৃঙ্গ, অন্য দিকে বিস্তীর্ণ সবুজ— এই দুইয়ের মিলনস্থল পানবু যেন এক অনন্য সুন্দর ক্যানভাস।

ঘুরে আসতে পারেন ছাঙ্গে ফলস থেকে।

ঘুরে আসতে পারেন ছাঙ্গে ফলস থেকে।

চারখোল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে কোলাখামের কাছে রয়েছে ছাঙ্গে ফলস। ঝরনার কাছাকাছি পৌঁছোতে গেলে সিঁড়িই ভরসা। বেশ কিছুটা হাঁটতে হয়। তবে সৌন্দর্য মন ভাল করে দেয়।

চারখোলে দু’টি দিন কমলালেবু, মশলার বাগান দেখে অলস যাপনেই কাটতে পারে। তবে চাইলে কোলাখাম, লাভা-সহ আশপাশের বেশ কিছু জায়গা গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন?

শিলিগুড়ি-নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সেবক পেরিয়ে কালিম্পং হয়ে চারখোল। পথের সঙ্গী হবে তিস্তা। গরমে তাতে জল থাকে কম, কিন্তু দেখায় নীল। বর্ষায় নদী স্রোতস্বিনী। তবে সেই রং দেখায় ঘোলাটে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চারখোলের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। গাড়ি করে যেতে সময় লাগবে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

Kalimpong Travel Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy