Advertisement
E-Paper

ঝাঁ-চকচকে শৈল শহরের আড়ালে আছে পুরনো গ্রামও, নতুন না পুরনো মানালি থাকবে ভ্রমণ তালিকায়?

মানালি বেড়াতে যাবেন, নতুন না পুরনো, থাকার জন্য বেছে নেবেন কোন জায়গা? দুই স্থানের তফাত কী, সুবিধা-অসুবিধা জেনে নিন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৬
বরফাবৃত মানালি।

বরফাবৃত মানালি। ছবি: শাটারস্টক।

গরমের মরসুমে খানিক স্বস্তির খোঁজে দেহরাদূন, মসুরী, হৃষীকেশের পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ে হিমাচল প্রদেশের মানালিতেও। এই জনপদ এখন রীতিমতো শহুরে। যে কোনও মেট্রোপলিটন শহরের সঙ্গে তফাত একটাই, এখান থেকে দৃশ্যগোচর হয় বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ, পাইনের বন। প্রকৃতি যেন এই শহরকে বেড় দিয়ে রেখেছে।

মানালি বললেই এখন চোখের সামনে ভাসে সারি সারি দোকানপাট, ঝাঁ চকচকে ম্যাল রোড, অসংখ্য ক্যাফে, পর্যটকদের হইহল্লা। তবে চেনা মানালির অন্দরে রয়েছে আরও এক স্থান, যা মানালিরই অংশ। লোকমুখে পরিচিত পুরনো মানালি নামে। ছুটি কাটাতে যদি মানালি যাওয়ারই পরিকল্পনা থাকে তা হলে বেছে নেবেন কোন জায়গা, পুরনো না নতুন মানালি। দুই স্থানে তফাতই বা কতটা?

শান্তির ঠিকানা: পাহাড়ি শহর, তবে পর্যটন মরসুমে যেতে হলে দোসর হবে যানজট। কলকাতা, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো জনপদে যা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়, তা কিন্তু মানালির জীবনযাপনের অঙ্গও হয়ে উঠেছে। তবে সেই, ব্যস্ততা কমতে পারে পুরনো মানালির কাছে এলে। এখানে এলে এখনও ছুঁয়ে দেখতে পারেন এক পুরনো গ্রামকে।

Advertisement

তফাত পরিবেশেই: মানালির মূল শহর থেকে ২-৩ কিলোমিটার উপরে পুরনো মানালি। পুরনো ঘরবাড়ি, গ্রামবাসীদের জীবনযাপনের ছাপ প্রতি পদে। নতুন মানালির মতো ঝাঁ চকচকে বহুতল এখানে আকাশ ঢাকেনি। বরং এই জায়গা এখনও কিছুটা অকৃত্রিম। হিমাচলী শৈলীতে নির্মিত পুরনো কাঠের বাড়ির দেখা মিলবে রাস্তায়, চাইলে তেমন কোনও বাড়িতে অতিথি হিসাবে থেকে যেতেই পারেন। পুরনো মানালির পথ-প্রান্তরে হাঁটলে খুঁজে পাবেন আপেল বাগিচা, বনভূমি, খোল প্রান্তর, পুরনো দিনের ক্যাফে। নতুন মানালি মূলত ম্যাল রোডকে কেন্দ্র করেই বিস্তৃত। আধুনিক হোটেল, রিসর্ট, নামীদামি কোম্পানির শো-রুম, থিম ক্যাফে— আপাদমস্তক শহুরে এই স্থান। চারপাশ যেন গমগম করছে। আছে গতিময়তা।

পুরনো মানালিতে রয়েছে নির্জনতা। থাকা যায় প্রকৃতির বেশি কাছে।

পুরনো মানালিতে রয়েছে নির্জনতা। থাকা যায় প্রকৃতির বেশি কাছে। ছবি:শাটারস্টক।

প্রকৃতির পরশ: পুরোদস্তুর শহুরে হয়ে ওঠেনি বলে পুরনো মানালি অনেক বেশি শান্ত, নির্জন। পাহাড়ি উপত্যকা, পাইন-ওক ঘিরে রেখেছে এই স্থানকে। প্রকৃতি এখানে অনেক বেশি সজীব। বেড়াতে এসে নির্জনতাই যাঁদের পছন্দ, এই জায়গা তাঁদের ভাল লাগবে। নতুন মানালিও সুন্দর। পাহাড় দৃশ্যমান হয় এখান থেকেও। তবে, গাড়ির শব্দ, কোলাহল স্তিমিত করে দেয় প্রকৃতিকে। কিন্তু জমজমাট জীবনযাপনের প্রত্যাশী হন অনেকে। যাঁরা চান সন্ধেটাও হয়ে উঠুক বর্ণময়, তাঁদের অবশ্য আশাহত করবে না নতুন সেজে ওঠা মানালি।

কেনাকাটা: নতুন মানালিতে কেনাকাটার জন্য যেমন বড় বড় দোকান আছে, পুরনো মানালিতে আছে ছোট ছোট গুমটি, হাতের কাজের দোকান। জিনিসপত্রের বাহার সেখানেও কিছু কম নয়। বরং অনেক কিছুই সেখানে তুলনামূলক সস্তায় মিলতে পারে।

থাকার জায়গা: পুরনো মানালিতে হোম স্টে, হোটেল, অতিথি নিবাস সবই আছে। নতুন মানালির মতো ততটা ঝাঁ চকচকে না হলেও প্রকৃতির কোলে থাকার জন্য সব আয়োজনই রয়েছে। শহুরে জীবন থেকে মুক্তি, প্রকৃতির সান্নিধ্য চাইলে পুরনো মানালি বরং এগিয়ে থাকবে।

ঘোরার জায়গা

পুরনো মানালিতে হেঁটে আপেল বাগানে যেতে পারেন। এখানেই রয়েছে হিড়িম্বা মন্দির, মানু টেম্পল, বশিষ্ঠ মন্দির, উষ্ণ প্রস্রবণ, যোগিনী জলপ্রপাত। এ ছাড়াও ঘুরে নেওয়া যায় সেথান ভ্যালি, নাগ্গর দুর্গ। পুরনো মানালির প্রতিটি রাস্তায় কোনও না কোনও মন্দির পাবেন। এখান থেকে ভৃগু ট্রেক করা যায়।

পুরনো এবং নতুন মানালির দূরত্ব তেমন বেশি নয়। ফলে যে কোনও জায়গাতে থাকলেই যে কোনও জায়গা ঘোরা যেতে পারে। এখান থেকে লোকজন সাধারণত সোলাং ভ্যালি, সিসু জলপ্রপাত, অটল টানেল ঘোরেন। মানালি থেকে অনেক স্বল্পচেনা জায়গাতেও যাওয়া যায়।

কত দিনের জন্য মানালি যাচ্ছেন, পছন্দ-অপছন্দের উপর নির্ভর করবে কোথায় থাকবেন। দিন পাঁচেকের গন্তব্য হলে,৩ দিন পুরনো মানালিতে থাকলে, ২ দিন রাখতে পারেন নতুন মানালির জনজীবন উপভোগের জন্য।

Travel Tips Manali
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy