ভ্রমণে বেরোনোর আগে টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা থাকে এ দেশের অধিকাংশেরই। যাতায়াতের খরচ, তা সে ট্রেন হোক বা বিমান, থাকার খরচ, খাওয়ার খরচ ইত্যাদি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেই এগোনো হয়। তাও অনেক সময়ে, বাজেট বেড়ে যায়, শেষে হাতে কম টাকা থাকে অথবা বেড়ানোর পরিকল্পনা ছেঁটে ফেলতে হয়। কেউ কেউ আবার কেবল জায়গা, পোশাক বা ছবি, এই সব নিয়েই বেশি ভাবেন। তাতেও মুশকিল হয়ে যায় শেষমেশ। কিন্তু একটু বুদ্ধি করে পরিকল্পনা করলে একই সফর আরও সহজ, সাশ্রয়ী আর ঝক্কিহীন হয়ে উঠতে পারে। মাত্র তিনটি সহজ অভ্যাস সময় আর টাকা, দুই-ই বাঁচাতে পারে।
বেড়ানোর আগে টাকার খরচ নিয়ে কী ভাবে ভাববেন? ছবি: সংগৃহীত
১. পরিকল্পনায় যেন উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়
পরিকল্পনা হোক উদ্দেশ্য নিয়ে। শুধু কোথায় যাবেন তা নয়, কোথায় থাকবেন সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন জায়গা বেছে নেন, যেখান থেকে যাতায়াত সহজ, তা হলে বার বার গাড়ি ভাড়া বা দীর্ঘ যাত্রার খরচ বাঁচে। পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয় না। ফলে ঘোরার সময়টা বেশি পাওয়া যায়। শহর বা গ্রামের মাঝে হোটেল বা হস্টেল খুঁজে বার করতে পারেন। অবশ্যই আশপাশের সৌন্দর্যের কথা মাথায় রেখেই সব করতে হবে।
২. জিনিসপত্রের সংখ্যা কমালে সুবিধা
কম জিনিস নিয়ে ভ্রমণ করা দরকার। বেশি ব্যাগপত্র মানেই ঝক্কি বেশি। বিমানবন্দরে বেশি ক্ষণ অপেক্ষা, অতিরিক্ত খরচ, ট্রেনে বা বাসে ব্যাগ রাখার জায়গা না পাওয়া, বার বার জিনিস সামলানোর চাপ। তাই যথাসম্ভব কম জিনিস নিয়ে বেরোনোই ভাল। তার পর গাড়িতে জায়গা হওয়া নিয়েও সমস্যা হতে পারে। তাতে খরচ বাড়বে। তার বদলে যদি অল্প জিনিস নিয়ে বেড়াতে গিয়ে গণপরিবহণ ব্যবহার করেন, তা হলে আপনাআপনিই খরচ অনেকটা কমে যাবে। সঙ্গে পরিকল্পনা যেন বেশি আঁটসাঁট না হয়। কম ভিড়ের সময়ে ভ্রমণ করলে খরচও কম পড়ে, অভিজ্ঞতাও ভাল হয়।
আরও পড়ুন:
৩. পরিকল্পনা ভেঙেচুরে নতুন করে গড়তে পারেন
থাকার জায়গা আর কাজের পরিকল্পনাকে মিলিয়ে নিতে পারেন। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেকেই এমন জায়গা বেছে নিচ্ছেন, যেখানে কাজ, বিশ্রাম আর ঘোরা, সব একসঙ্গে করা যায়। একা বা বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গেলে হোটেলের বদলে হস্টেলে থেকে যেতে পারেন। একই ঘর অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। সেখানে ইন্টারনেটের সুবিধা, সহজে যোগাযোগ করার সুবিধা আর কাছেই ঘোরার জায়গা থাকলে আলাদা করে সময় বা টাকা খরচ করতে হয় না। এতে পুরো ভ্রমণই হয়ে ওঠে আরও বেশি কার্যকর।