বেড়াতে যাওয়া, তার আগে ব্যাগ গোছানো, পরিকল্পনা করা— এ সবই বড় সুখকর। কিন্তু কারও কারও কাছে এই ঘটনাই হয়ে উঠতে পারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ। তিনিও কিন্তু ভ্রমণপিপাসু, তিনিও সারা বছর স্বপ্ন দেখেন, পাহাড়ে যাবেন, সমুদ্রে যাবেন, জঙ্গলে যাবেন। কিন্তু ঠিক যখন বেড়াতে যাওয়ার সময় আসে, সমস্ত দুশ্চিন্তা ঘিরে ঘরে তাঁকে। এমনও মানুষ আছেন চারপাশে। কেউ বলেন, কেউ বলেন না।
প্রশ্ন উঠতে পারে, উদ্বেগের কী এমন আছে? উদ্বেগের রোগ থাকলে যে কোনও বিষয় নিয়েই দুশ্চিন্তা শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাথায় ঘুরতে পারে, বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনায় কোনও গলদ থেকে যাচ্ছে কি না, সব কিছু ঠিক ঠাক হচ্ছে কি না, কিছু বাদ পড়ে যাচ্ছে কি না বা সকলের শরীর ঠিক থাকবে কি না, রাস্তায় কোনও সমস্যায় পড়তে হবে কি না, সমস্ত কিছু দেখা হবে কি না ইত্যাদি নানা ভাবনা। আর এই ভাবনার ঝড়ের মাঝেই ছুটি কাটানোর আনন্দটা হারিয়ে যায়। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয়। শেষমেশ বেড়ানোটাই মাটি হতে থাকে একটু একটু করে। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে কী ভাবে সত্যিই শান্ত, উপভোগ্য ভ্রমণ করা যায়, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তুলুন। ছবি: সংগৃহীত
সবার আগে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মনোবিদের পরামর্শ প্রয়োজন। তা ছাড়া বেড়াতে যাওয়ার সময়ে ছোটখাটো কিছু অভ্যাসও এই সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে। রইল তেমনই কিছু উপায়ের সন্ধান—
প্রথমত, ভ্রমণের আগের দিনটিকে যথাসম্ভব ফাঁকা রাখুন। শেষ মুহূর্তের কাজ, ব্যস্ততা বা দৌড়ঝাঁপ শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে দেয়। বরং আগে থেকে গুছিয়ে নেওয়া, নিজেকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার দরকার প্রস্তুতিপর্বেই।
দ্বিতীয়ত, বেড়াতে যাওয়াটাকে কাজ হিসেবে নিলে চলবে না। ছুটি নিয়েও যদি নিজেকে দায়িত্বে বেঁধে রাখেন, তা হলে ভ্রমণের পরেও মনমেজাজ ঠিক হবে না। দায়িত্ব অবশ্যই নিতে হবে, কিন্তু তা যেন ঘাড়ে চেপে না বসে। দরকারে বাকিদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নিন। নিজেকে খানিকটা স্বাধীনতা দিতে হবে। মনোভাব রাখতে হবে এমন— যা হবে, দেখা যাবে।
আগে থেকে বেড়াতে যাওয়ার ব্যাগ গুছিয়ে নিলে সময় পাওয়া যায়। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
তৃতীয়ত, গন্তব্যে পৌঁছোনোর পর প্রথম দিনে প্রচুর মানসিক চাপ নেবেন না। অনেকে শুরু থেকেই ঘুরে দেখার পরিকল্পনায় ভরিয়ে ফেলেন। এতে কিন্তু কেবলই ক্লান্তি বাড়ে। একটু বিশ্রাম, অল্প হাঁটাচলা বা জায়গাটাকে ধীরে ধীরে চিনে নেওয়া— এমন ভাবে ধীর গতিতেই শুরু করুন। তা হলে পরের দিনগুলি অনেক বেশি উপভোগ্য হবে।
চতুর্থত, নিখুঁত ভাবে বেড়ানো মানে ভ্রমণসূচিতে সব কিছু এক সঙ্গে গুঁজে দেওয়া নয়, বরং ভারসাম্য রেখে চলা। পরিকল্পনা থাকলেও সেটাকে ভাঙতে-গড়তে দেওয়ার অবকাশ রাখতে হবে। তা হলে মনের চাপ অনেকটাই কমে যায়।
পঞ্চমত, ডিজিটাল ডিটক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা ক্ষণ ফোন, নোটিফিকেশন বা অন্যদের সঙ্গে নিজের ভ্রমণের তুলনা— এ সবই অজান্তে মানসিক চাপ বাড়ায়। দিনের কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকলে ভ্রমণের মুহূর্তগুলিকে সত্যিই অনুভব করা যায়।
আরও পড়ুন:
ষষ্ঠত, পরিকল্পনায় ভারসাম্য রাখুন। সারা দিনের তালিকাকে শুধু কাজ দিয়ে ভরিয়ে ফেললে, ছুটিটা ক্লান্তিকর হয়ে উঠবে। বরং একটু কাজ, একটু বিশ্রামের নীতি ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তুলবে।
সপ্তমত, নীরবতাকে গুরুত্ব দিন। ভোরের শান্ত সময়, নিরিবিলিতে হাঁটা বা নিজের সঙ্গে কিছু ক্ষণ সময় কাটানো— এই ছোট ছোট মুহূর্তই মনে জোর বাড়াবে। ভ্রমণ হয়ে উঠবে মানসিক রোগের চিকিৎসার অংশ যেন।