Advertisement
E-Paper

চেনা তালিকার বাইরে ভ্রমণ করতে কেমন ভাবে সাজাবেন পরিকল্পনা, কী কী মাথায় রাখা জরুরি

চেনা ছকের বাইরে, স্বল্পচেনা গন্তব্যে বেড়াতে যেতে চান? আগাম কোন পরিকল্পনা সফর সহজ করে তুলবে? কোন কোন জিনিস সঙ্গে রাখা দরকার?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১০:১৩
ছবি এআই সহায়তায় প্রণীত।

ছবি এআই সহায়তায় প্রণীত।

কিছু কিছু গন্তব্যস্থল থাকে, যা সব সময়েই পর্যটকদের ভিড়ে গমগম করে। সেই জায়গাগুলিতে যেতে বেশিরভাগ মানুষই আগ্রহী হন। যেমন দিল্লি, আগ্রা, হিমাচল প্রদেশ, কাশ্মীর, মধ্যপ্রদেশ, পুরী, মন্দারমণি, উত্তরবঙ্গ, সিকিম-সহ নানা স্থান। তবে এই সব চেনা গন্তব্য, জনপ্রিয় স্থলের বাইরেও রয়েছে এমন অনেক ঠিকানা, যা সচরাচর পর্যটকেরা যান না বা যেতে পছন্দ করেন না।

তবে কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা না জানাকেই জানতে চান, না দেখাকে উপলব্ধি করতে চান। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে প্রকৃতির সঙ্গে পেতে চান। কোনও স্থানের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর ভাবে পরিচিত হতে চান। আপনিও কি তেমন দলেই পড়েন? স্বল্পচেনা ঠিকানায় গিয়ে সেই জায়গাকে নিজের মতো উপলব্ধি করতে চান? এমন জায়গার হদিস শুধু মিললেই হয় না, সেই জায়গা ঘোরার উপযুক্ত পরিকল্পনা করতে হয়। অচেনা বা স্বল্পচেনা ঠিকানায় বেড়ানোর ভাবনা থাকলে, কী কী মাথায় রাখা দরকার?

গন্তব্য বাছাই: সমাজমাধ্যম, ভ্রমণ সংক্রান্ত বই, ভ্লগের দৌলতে অনেক স্বল্পচেনা ঠিকানাই পর্যটন পিপাসুদের সামনে আসছে। নিজের ছুটি বুঝে এবং মরসুম বুঝে জায়গা বাছুন। হয়তো কেউ বর্ষাতেই ছুটি পাচ্ছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গাটি প্রবল বৃষ্টিতে ধসপ্রবণ, তা হলে কিন্তু আগুপিছু না ভেবে বেড়িয়ে পড়া মূর্খামি হতে পারে। কোনও জায়গা বেছে নেওয়ার সময়ে সেই স্থানটি কোন মরসুমের উপযুক্ত তা বুঝে নিয়ে তবেই পরিকল্পনা করা জরুরি।

ম্যাপ: যদি মনে হয় যে জায়গায় যাচ্ছেন সেই জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা হতে পারে, তবে অবশ্যই মুদ্রিত ম্যাপ সঙ্গে রাখুন বা মোবাইলে আগাম ডাউনলোড করে নিন। জায়গাটি সম্পর্কে কোনও তথ্য জোগাড় করতে পারলে বা বই পেলে, সেই সবও সঙ্গে রাখা ভাল। এতে বেড়ানোর পরিকল্পনা করা সহজ হবে।

পড়াশোনা: স্বল্পচেনা ঠিকানা নিয়ে সব সময়ে যথেষ্ট তথ্য মেলে না। কিন্তু চেনা ছকের বাইরে কোথাও যেতে হলে সেই জায়গার ইতিহাস-ভূগোল, বর্তমান পরিস্থিতি, কী ভাবে ঘোরা সম্ভব এ ব্যাপারে জেনে যাওয়া দরকার। আর তার জন্যই প্রয়োজন পড়াশোনা। ইন্টারনেটের যুগে এই কাজ অপেক্ষাকৃত সহজ। সুষ্ঠ ভাবে এবং নিরাপদে ঘুরতে চাইলে এই ধাপটি জরুরি।

প্যাকিং: বেড়ানোর প্যাকিং মানে যা রয়েছে সব নিয়ে বেরিয়ে পড়া নয়। বরং যে স্থানে যাচ্ছেন সেখানে কী কী লাগতে পারে তার তালিকা করে, আবহাওয়া জেনে লোটা-কম্বল গোছানো প্রয়োজন। ব্যাগ যত হাল্কা হবে, ততই যে কোনও জায়গায় যাতায়াত সহজ হবে। সাধারণত, স্বল্পচেনা গন্তব্যে সমস্ত রকম পরিষেবা মেলে না। বিশেষত পাহাড়ের কোনও অখ্যাত জনপদ হলে, হতেই পারে মালপত্র বয়ে নিয়ে যেতে হল বা কিছুটা ট্রেক করতে হল। তাই পোশাক, ওষুধ, শুকনো খাবার, আনুষঙ্গিক জিনিস যেমন গুছিয়ে নেওয়া দরকার, তেমনই প্রয়োজন ব্যাগ হালকা রাখা।

স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান: প্রত্যন্ত এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সেখানকার সংস্কৃতিকে জানতে হলে, নির্দিষ্ট জনজাতি বা মানুষজনের রুচি, প্রথাকে সম্মান করা প্রয়োজন। ফলে স্থানীয় ভাষা বা প্রয়োজনীয় কিছু শব্দ জেনে রাখা ভাল। এতে পরিচয় পর্ব সহজ হবে। তা ছাড়া, স্থানীয় ধ্যানধারণা, বিশ্বাসকে কখনও অমর্যাদা করা ঠিক নয়। বিশেষ বিশেষ জায়গায় পোশাক বিধি, পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। সেগুলি সম্পর্কে ধারণা থাকা ভাল।

পরিকল্পনায় নমনীয়তা: প্রতিটি দিনের আগাম পরিকল্পনা ভাল। তবে হাতে সময় রাখাও দরকার। পরিস্থিতির সঙ্গে ভ্রমণসূচি বদলের প্রয়োজন পড়ে অনেক সময়ে। সফরে আঁটোসাঁটো ভ্রমণ পরিকল্পনা না করে, একটু বাড়তি সময় রাখলে আরাম করে ঘোরা যায়। প্রত্যন্ত এলাকায় হোটেল থাকে না সব সময়ে। তা ছাড়া হোম স্টে-তেও যে সব ধরনের পরিষেবা মিলবেই এমন নয়। যেখানে যেমন সেখানে তেমন ভাবে মানিয়ে নেওয়া, অপরিচিত স্থানে বেড়ানোর অত্যন্ত জরুরি শর্ত।

সঙ্গে টর্চ, শুকনো খাবার, ওষুধ, পানীয় জল, সম্ভব হলে স্থানীয় প্রশাসনের নম্বর রাখা সব সময়েই ভাল। এমন জায়গায় বেড়াতে গেলে নির্ভরযোগ্য কাউকে ভ্রমণের স্থান ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম জানিয়ে রাখা ভাল। যাতে গুরুতর সমস্যা হলে কেউ খোঁজ করতে পারেন।

tourism
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy