Advertisement
E-Paper

অসম মানেই শুধু কাজিরাঙা বা মানস নয়, গরমের ভ্রমণতালিকায় থাক শৈলশহর উমরাংসু

গরমে কেউ ছুটছেন দার্জিলিং, কেউ নৈনিতাল। কিন্তু বঙ্গের পড়শি রাজ্য অসমেও আছে এমন না-দেখা শৈলশহর। গ্রীষ্মকালের ভ্রমণতালিকায় থাক ডিমা হাসাওয়ের এমন একটি সুন্দর ঠিকানা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১০:০৫
অসমের এই স্বল্পচেনা শৈলশহর হতেই পারে গ্রীষ্মের ছুটির গন্তব্য।

অসমের এই স্বল্পচেনা শৈলশহর হতেই পারে গ্রীষ্মের ছুটির গন্তব্য। ছবি: সংগৃহীত।

হাড়কাঁপানো ঠান্ডা নেই আবার গা জ্বালানো গরমও অমিল। অসমে আছে এমন এক শৈলশহর, যা স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় পিকনিক স্পট বা ঘোরার স্থান হলেও, বাইরের পর্যটকদের কাছে অচেনা-অজানা।

গগনচুম্বী পাহাড় নয়, বরং অসমের ডিমা হাসাও জেলার এই জনপদটির কোনও কোনও স্থান মনে করাতে পারে ক্যানভাসে আঁকা ছবির কথা। নদী, ঝর্না, জলাশয় আর আছে প্রকৃতির উজাড় করা রূপ। উমারাংসুর প্রতিটি পথ, পাহাড়ি বাঁক, গ্রাম যেন গল্প বুনে দেয়। জীবনযাপনে বড় সরল। জটিলতা, ব্যস্ততার ছাপ এখনও পড়েনি এখানে।

উমরাংসুতে রয়েছে এমনই সুন্দর হ্রদ।

উমরাংসুতে রয়েছে এমনই সুন্দর হ্রদ। ছবি: সংগৃহীত।

স্থানীয় লোকজন ঘুরতে আসেন এখানকার হ্রদে। সবুজ ঢেউখেলানো প্রান্তরের বুকে সুবিশাল জলাশয় যেন শান্তির ঠিকানা। ১৯৭০-৮০ সালের মধ্যে কৃত্রিম হ্রদটি খনন করা হয়। এখানকার বৃহত্তম নদী কপিলি, তার উপর গড়ে উঠেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। সূর্যাস্তের সময় হ্রদটি ভীষণ সুন্দর লাগে। শীতের দিনে পিকনিক করতে আসেন লোকজন। অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে আবহাওয়া থাকে সবচেয়ে সুন্দর। তবে প্রকৃতির শ্যামলিমা উপভোগের আদর্শ সময় বর্ষা। তখন প্রকৃতির ক্যানভাসে যেন কেউ সবুজ রং ঢেলে দেয়।

উমরাংসুর জীবনযাপন, সৌন্দর্য, জনপদ যদি আকর্ষণের প্রাথমিক কেন্দ্রবিন্দু হয়, তবে এখানকার অন্যতম আকর্ষণ পানিমুর জলপ্রপাত। কপিলি নদীর পাথুরে জমি দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় জলপ্রপাতের সৃষ্টি। বর্ষায় জল কম থাকলেও, সৌন্দর্য ম্লান হয় না। সুযোগ থাকে নৌবিহারের। তবে ভারী বৃষ্টি কয়েক দিন চললেই বদলে যায় পানিমুরের রূপ। জলকণায় ধোঁয়াটে হয়ে যায় আশপাশ। কেউ কেউ এই জলপ্রপাতকে ‘উত্তর-পূর্বের নায়াগ্রা’ও বলেন। স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থানটি।

বর্ষায় পানিমুর থাকে দেখার মতো। গরমে জল কম থাকলেও, ঘুরতে খারাপ লাগবে না।

বর্ষায় পানিমুর থাকে দেখার মতো। গরমে জল কম থাকলেও, ঘুরতে খারাপ লাগবে না।

এখান থেকে ঘুরে নিতে পারেন গল্‌ফ কোর্স। অবশ্যই চেখে দেখতে ভুলবেন না স্থানীয় মানুষজনের তৈরি স্থানীয় খাবার।

হাতে দুই থেকে তিন দিন সময় থাকলেই ঘুরে নেওয়া যায় উমরাংসু। অলস যাপনের জন্যই বেছে নেওয়া যায় স্থানটি। গ্রীষ্মকালে ১৮-৩০ ডিগ্রির মধ্যেই ঘোরাফেরা করে তাপমাত্রা। তবে শীত এখানে আরও মনোরম। গরমকালে চেনা ছকের বাইরে পাহাড়ি ছোঁয়া পেতে চাইলে উমরাংসু মোটেই হতাশ করবে না।

অসমের জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র হাফলং। ডিমা হাসাও জেলার মনোরম পাহাড়ি শহর হাফলং। এখান থেকে উমরাংসুর দূরত্ব ১১০-১২০ কিলোমটার। গুয়াহাটি বা হাফলং হয়ে উমরাংসু আসা যায়। মোটামুটি দুই রাত এখানে থাকলে আশপাশের জায়গাগুলি ঘোরা হয়ে যাবে। উমরাংসুর সঙ্গে অবশ্যই জুড়ে নিন হাফলং। এখানেও গরমের সময় আবহাওয়া থাকে বেশ মনোরম। সবুজ পাহাড় ঘেরা স্থানটির অন্যতম আকর্ষণ হাফলং হ্রদ। শহরের সৌন্দর্যায়নে ব্যবহৃত হয়েছে ডিমাসা যোদ্ধার মূর্তি। হাফলঙের আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভিউ পয়েন্ট। ঘুরে নিতে পারেন অর্কিডের বাগান, জটিঙ্গা গ্রাম, ওয়াইন শপ।

কী ভাবে যাবেন?

কলকাতা বা দেশের যে কোনও রাজ্য থেকে গুয়াহাটি হয়ে যাওয়া যায়। ট্রেনে নিউ হাফলং গিয়ে, সেখান থেকে গাড়িতেও উমরাংসু যেতে পারেন। শিয়ালদহ-আগরতলা স্পেশ্যাল ট্রেনে নিউ হাফলং পৌঁছোনো যায়। নিউ হাফলং স্টেশন থেকে হাফলঙের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। স্টেশনের বাইরে অটো এবং বাস দুই-ই পাওয়া যায়। গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছোনো সবচেয়ে সুবিধাজনক।

কোথায় থাকবেন?

উমরাংসুতে থাকার একাধিক হোটেল, অতিথি নিবাস রয়েছে। চাইলে হ্রদের ধারে ক্যাম্পিং-ও করতে পারেন। হাফলঙেও থাকার একাধিক জায়গা রয়েছে।

Assam Summer Season Offbeat Travel Destinations
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy