শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে ফের এলটিটিই নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “মুল্লিভাইক্কালের স্মৃতি আমরা আমাদের হৃদয়ে বহন করে চলেছি। আমরা সমুদ্রের ও পারে থাকা তামিল আত্মীয়দের অধিকার রক্ষায় আমরা সর্বদা সঙ্গে থাকব।”
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ তিন দশকের গৃহযুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী গ্রাম মুল্লিভাইক্কলে পর্যুদস্ত হয় এলটিটিই। ওই বছরই শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন প্রভাকরণ। ১৮ মে দিনটিকে শ্রীলঙ্কার তামিলরা ‘মুল্লিভাইক্কল দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকেন। ঘটনাচক্রে, সেই দিনই শ্রীলঙ্কার তামিলদের সংহতির বার্তা দিলেন বিজয়।
আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় তামিলদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন প্রভাকরণেরা। তার পরেই সে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান ষড়যন্ত্রী হিসাবে উঠে আসে প্রভাকরণের নাম। ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠনের তকমা পায় এলটিটিই। তার পর থেকে তামিল আবেগের কথা মাথায় রেখেও এই বিষয়ে মেপে পা-ফেলার কৌশল নয় ডিএমকে, এডিএমকে-র মতো দলগুলিও।
অনেকেই মনে করছেন, তামিল আবেগে শান দিতেই প্রভাকরণের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন বিজয়। তা ছাড়া তামিলনাড়ুর টিভিকে সরকারের অন্যতম শরিক ভিসিকে বরাবরই এলটিটিই-র ‘সমর্থক’ হিসাবে পরিচিত। কিন্তু বিজয়ের এই অবস্থান ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
অবশ্য এর আগেও প্রভাকরণের প্রশংসা শোনা গিয়েছে বিজয়ের মুখে। গত সেপ্টেম্বরে তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনমের একটি সভায় প্রভাকরণ সম্পর্কে বিজয় বলেছিলেন, “উনি ছিলেন শ্রীলঙ্কার তামিলদের কণ্ঠস্বর।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “ইলম তামিলদের সঙ্গে নাড়ির যোগ রয়েছে আমাদের। যে নেতা তাঁদের মায়ের মতো করে ভালবাসতেন, তাঁকে হারানোর পরে তাঁরা ভুগছেন। তা তাঁরা শ্রীলঙ্কাতেই থাকুন বা বিশ্বের অন্য কোথাও।”