পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গদিচ্যুত করতে সক্রিয় হয়েছিল আমেরিকা! সদ্য ফাঁস হওয়া এক গোপন নথিতে এমনই ইঙ্গিত মিলল। তদন্তমূলক প্রতিবেদনের জন্য খ্যাত ‘ড্রপ সাইট নিউজ়’ নামের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি একটি গোপন কূটনৈতিক নথি ফাঁস হয়। ওই নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উদ্যোগী হয়েছিল আমেরিকা।
ওই নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ মার্চ আমেরিকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান আমেরিকার সহকারী বিদেশসচিব (দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডোনাল্ড লু-র সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই বৈঠকে লু নাকি পাক রাষ্ট্রদূতকে জানান, ইমরানের সরকার আস্থাভোটে হেরে গেলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে আমেরিকা। না হলে পাকিস্তানের জন্য খারাপ দিন আসতে চলেছে বলে জানান তিনি।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে আস্থাভোটে হেরে যান ইমরান। তার পরেই পদত্যাগ করতে হয় তাঁকে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান (যিনি অনুরাগীদের কাছে ‘কাপ্তান’ নামেও পরিচিত) এবং তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একাধিক বার অভিযোগ করেছে যে, বিদেশি শক্তির চাপে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সরকার ফেলে দিয়েছে। পাক সেনা অবশ্য বার বারই ইমরানদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গোপন নথি অনুযায়ী, আমেরিকার অনুরোধ সত্ত্বেও পাকিস্তানে মার্কিন সেনাঘাঁটি তৈরি করার অনুমতি দেননি ইমরান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া সফরে যান ‘কাপ্তান’। ওই নথি অনুযায়ী, আমেরিকার তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাক সুলিভান ইমরানের রাশিয়া সফর বাতিল করানোর জন্য পাকিস্তানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামাবাদ তাতে রাজি হয়নি।
গদিচ্যুত হওয়ার পরেই একাধিক মামলায় গ্রেফতার করা হয় ইমরানকে। ইমরান এখনও জেলবন্দি। পরবর্তী সময়ে ইমরান অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি নিরপেক্ষ বিদেশনীতি গ্রহণ করায় এবং আমেরিকার কথা অনুযায়ী না-চলায় ওয়াশিংটন চক্রান্ত করে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। ফাঁস হওয়া গোপন নথিতে অবশ্য তেমন ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত দিন বাদে এই নথি এখনই কেন প্রকাশ্যে এল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।