ধোপদুরস্ত পোশাক। আদবকায়দাতেও ‘কর্পোরেট’ ভাব। সুট-টাই পরেই রাস্তার ধারে একটি দোকানে ভাজাভুজি জাতীয় খাবার বিক্রি করেন ১৯ বছরের তরুণ! গ্রাহকেরা শুধু খাবারের জন্য নয় রান্নার কৌশল দেখতেও মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সেই দোকানে। রান্নার দক্ষতা এবং সুট পরা রাঁধুনির রান্না করার কায়দায় রাস্তার ধারের খাবারের দোকানটির ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কৌতূহলী করে তুলেছে নেটাগরিকদের। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে এই দোকানটি চালান, লু নামের ১৯ বছর বয়সি এক তরুণ। চিনের পূর্বাঞ্চলের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই শহরে পরিবারের সঙ্গে এই দোকান চালান তিনি। প্রতি দিন ভাজা ভাত বা ফ্রায়েড রাইস বিক্রি করেই মাসে ৭ লক্ষ টাকা রোজগার করেন বলে দাবি জানিয়েছেন লু।
চিনা সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ পোশাক বা রান্নার গতানুগতিক পোশাকের পরিবর্তে, লু প্রতি দিন সন্ধ্যায় একটি পরিপাটি সুট পরে বাজারে আসেন। কাজ করার সময় নিজেকে আরও ‘মার্জিত’ দেখানোর ইচ্ছায় লু হঠাৎই এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। তাঁর পোশাক, রান্নার কৌশল দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োগুলিতে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) দেখা যায়, লু গনগনে আগুনের আঁচের সামনে সুট পরে দ্রুত ফ্রায়েড রাইস তৈরি করছেন। একই সঙ্গে এমন সব অঙ্গভঙ্গি করছেন যা তাঁর নিজস্ব ‘স্টাইলের’ অংশ হয়ে উঠেছে। রান্নার মাঝেই তিনি চুল আঁচড়ে নেন। ক্রেতাদের দিকে তাকিয়ে চোখও মারেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ছুড়ে দেওয়া ডিম সরাসরি কড়াইয়ে ভাঙার আগেই ধরে ফেলেন। অনেকেই জানিয়েছেন যে তাঁরা ভাইরাল ভিডিয়োর মাধ্যমে প্রথম এই স্টলটির সন্ধান পান।
লু-এর দোকান প্রতি দিন বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। লু প্রায়শই ব্যস্ত সময়ে বিরতি না নিয়ে একটানা রান্না করেন। তরুণের দাবি তিনি প্রায় তিন মিনিটে এক প্লেট ফ্রায়েড রাইস তৈরি করতে পারেন। গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে প্রায়শই একসঙ্গে বেশ কয়েকটি প্লেট রান্না করেন। প্রতিবেদন অনুসারে, দোকানটিতে প্রতি দিন ২০০ প্লেটেরও বেশি খাবার বিক্রি হয়। প্রতি প্লেটের দাম প্রায় ১০ ইউয়ান (প্রায় ১৪১ টাকা)। লু-র অনুমান, খরচ বাদে এই ব্যবসা থেকে মাসে প্রায় ২০,০০০ ইউয়ান লাভ হয় এবং মোট লেনদেন প্রায় ৫০,০০০ ইউয়ান। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকার সমান।