ভারোত্তোলনে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ইরানের ২২ বছরের তরুণ আলিরেজ়া ইউসেফি। অহমদাবাদে আয়োজিত এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে +১১০ কিলোগ্রাম বিভাগের ক্লিন অ্যান্ড জার্কে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। সব মিলিয়ে অবশ্য শেষ করেছেন দ্বিতীয় স্থানে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পদক ইউসেফি উৎসর্গ করেছেন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার হামলায় ইরানের মিনাব শহরের নিহত স্কুল পড়ুয়াদের। প্রতিযোগিতার মঞ্চকেই তিনি বেছে নিয়েছেন প্রতিবাদের মঞ্চ হিসাবে।
ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ইউসেফি ২৬১ কিলোগ্রাম ওজন তুলেছেন। বিশ্বরেকর্ড গড়লেও কারও নজির টপকাতে পারেননি তিনি। কারণ আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন ফেডারেশন গত বছরের শেষে শরীরের ওজনের নিরিখে প্রতিযোগিতার বিভাগগুলি পরিবর্তন করেছে। সেই মতো এ বার নতুন নিয়মে হচ্ছে এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ। যুক্ত হয়েছে নতুন +১১০ কিলোগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে প্রথম প্রতিযোগিতা হচ্ছে। সেই হিসাবে এই বিভাগে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ইউসেফি ২৬১ কিলোগ্রাম ওজন তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন। স্ম্যাচ (১৮৪ কিলোগ্রাম) মিলিয়ে ইরানের ভারোত্তোলক তুলেছেন মোট ৪৪৫ কেজি ওজন। দ্বিতীয় শেষ করার সব মিলিয়ে পেয়েছেন রুপো।
বিশ্বরেকর্ড গড়ার পর মঞ্চেই সিঙ্গলেট খুলে ফেলেন ইউসেফি। ভিতরের টি-শার্টে লেখা একটি বার্তা সকলের সামনে তুলে ধরেন। ফার্সিতে লেখা ছিল ‘‘মিনাবের শহিদেরা’’। সোনার পদকও তিনি নিহত স্কুল পড়ুয়াদের উৎসর্গ করেন। আমেরিকার মিসাইল হামলায় মিনাবের একটি স্কুলের অন্তত ১২০ জন পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। নিহত হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং অভিভাবকও।
ইউসেফির প্রশংসা করেছে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ‘‘গান্ধীনগরে আয়োজিত এশিয়ান ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ২৬১ কেজি ওজন তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন আলিরেজ়া ইউসেফি। ইরানি চ্যাম্পিয়ন তাঁর সোনার পদকটি মিনাবের স্কুলে হামলায় শহিদ শিশুদের উৎসর্গ করেছেন। ইরানের চ্যাম্পিয়নকে অভিনন্দন।’’
এ বারে প্রতিযোগিতায় মোট ২৫টি বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। ২৭টি এশীয় রেকর্ডও হয়েছে। ২১টি সোনা, ১২টি রুপো, ৮টি ব্রোঞ্জ জিতে প্রথম হয়েছে চিন। ১৮টি সোনা, ১১টি রুপো, ১টি ব্রোঞ্জ জিতে দ্বিতীয় উত্তর কোরিয়া। ৩টি সোনা, ৭টি রুপো এবং ৩টি ব্রোঞ্জ জিতে তৃতীয় তাইনিজ তাইপে। ১টি রুপো এবং ১০টি ব্রোঞ্জ জিতে একাদশ স্থানে শেষ করেছে আয়োজক ভারত।