মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে ‘জনতার দরবার’-এ ভিড় করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। সল্টলেকে বিজেপির দফতরের সামনে তাঁরা জড়ো হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাও করছেন একে একে। চাকরিপ্রার্থীদের মোট ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধি সোমবার সকালে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন বলে খবর। ভিড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীদের।
মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘জনতার দরবার’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। বিজেপির তরফে জানানো হয়, প্রতি সোমবার সকালে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে থাকবেন। সেখানেই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবারের পর এই সপ্তাহেও শুভেন্দু সেই কর্মসূচিতে রয়েছেন। সকালে দফতরে পৌঁছে যান তিনি। তবে তাঁর পৌঁছোনোর আগে থেকেই সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা ভিড় করেছিলেন। যাঁরা এসেছেন, তাঁদের মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতির কারণে ‘বঞ্চিত’দের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিও রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত সমাধান চান তাঁরা।
আরও পড়ুন:
চাকরিপ্রার্থীদের এক জন সোমবার সকালে বিজেপি দফতরের সামনে থেকে বলেন, ‘‘অনেক আশা নিয়ে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। আগের মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা শুনতেন না। অনেক বার দেখা করতে চেয়েছিলাম। কখনও দেখা করেননি। এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আগেও তাঁকে আমরা পাশে পেয়েছি। এখনও ওঁর সঙ্গে দেখা করা যাচ্ছে। ২৬ হাজারের মধ্যে আমরা যাঁরা যোগ্য, তাঁরা সমাধান চাই।’’
শুভেন্দু ছাড়াও সল্টলেকের দফতরে লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রীদের মতো রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব রয়েছেন। ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি পরিচালনা করছেন তাঁরা। চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্ধ ঘরে শুভেন্দু কথা বলছেন। গত সোমবারও এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘণ্টাখানেক দফতরে থেকে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন শুভেন্দু। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে অনেকেই সেখানে গিয়েছিলেন। বেরিয়ে তাঁদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, সমস্যার কথা মন খুলে বলতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সমাধানের আশ্বাসও তাঁরা পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে এ বার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার ছিল তৃণমূল সরকারের চাকরি-দুর্নীতি। ক্ষমতায় এসে সেই চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু কী পদক্ষেপ করেন, তা অবশ্য সময়ই বলবে।