Advertisement
E-Paper

শখ করে বাইক কিনেছেন, হেলমেট কিনুন প্রয়োজন বুঝে, কোন নকশায় নিরাপত্তা বেশি তা জেনে নিন

বিপদ বলেকয়ে আসে না। তাই নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা মানে, মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি করা। বাইক বা স্কুটি চালান? হেলমেট পরতেই হবে। নানা ধরনের হেলমেটের মধ্যে কোনটি হবে আপনার উপযুক্ত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ১৫:০৭
বাইকে সওয়ার হলে হেলমেটও জরুরি, কেনার আগে কোন বিষয় মাথায় রাখবেন?

বাইকে সওয়ার হলে হেলমেটও জরুরি, কেনার আগে কোন বিষয় মাথায় রাখবেন? ছবি:সংগৃহীত।

বাইক, স্কুটি শখের হলেও হেলমেট নিয়ে ভাবেন না অনেকেই। অথচ এই হেলমেটই জীবন বাঁচাতে পারে। ট্রাফিক পুলিশের স্লোগানেও তাই বার বার নানা ভাবে এসেছে সচেতনতা বার্তা— ‘হেলমেট পরো, বাঁচাও মাথা’।

হেলমেটেরও ধরন আছে, আছে বৈশিষ্ট্য। অনেকেই হেলমেট কেনার সময়ে রং এবং নকশা দেখেন। বুঝে নেন মুখের সঙ্গে তা মানানসই কিনা। কিন্তু হেলমেট কেনার সময় দেখে নেওয়া দরকার অন্য কিছুও। কোন হেলমেট আপনার জন্য উপযুক্ত বুঝবেন কী করে?

মুখ এবং মাথা ঢাকা হেলমেট

মুখ এবং মাথা ঢাকা হেলমেট।

মুখ এবং মাথা ঢাকা হেলমেট। ছবি:সংগৃহীত।

এই হেলমেট মাথা, কপাল, থুতনি, চোয়াল সবটাই ঢেকে রাখে। বাইক বা স্কুটার চালানোর সময়ে যাতে ধুলো বা কোনও কিছু উড়ে এসে চোখে না পড়ে সেই জন্য স্বচ্ছ কভারও থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে মাথা কেমন ভাবে রক্ষা পাবে তা ভেবেই হেলমেট তৈরি করা হয়। মাথা থেকে তা যাতে খুলে না যায় তার জন্য শক্ত স্ট্র্যাপ থাকে। আবার সহজে তা খোলা-পরার ব্যবস্থাও থাকে। ফুল ফেস হেলমেট, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। চোয়াল বা থুতনিও এতে অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত থাকে। হেলমেট কেনার সময়ে সেটি সার্টিফায়েড কিনা দেখে নেওয়া দরকার।

মডুলার হেলমেট বা ফ্লিপ-আপ

চাইলে থুতনির গার্ডটি উপরে তুলে দেওয়া যায়।

চাইলে থুতনির গার্ডটি উপরে তুলে দেওয়া যায়। ছবি:সংগৃহীত।

এটিতে মুখ ঢাকা যায়, আবার ইচ্ছা মতো সামনের অংশটি তুলেও দেওয়া যায়। যানজটে আটকে থাকলে বা কারও সঙ্গে কথা বলার দরকার হলে কিংবা খুব গরম বোধ হলে সামনের অংশটি তুলে দেওয়া যায়, পুরো হেলমেট খোলার প্রয়োজন হয় না। ভাল মানের মডুলার হেলমেটে থুতনি ঢাকা থাকে, চোখও ঢাকা থাকে। দু’টি অংশ আলাদা ভাবে মাথার উপরে তুলে দেওয়া যায়। নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করে কেতাদুরস্ত হেলমেট চাইলে বেছে নিতে পারেন এটি।

মুখ খোলা হেলমেট

এই ধরনের হেলমেটে থুতনির অংশে কোনও গার্ড থাকে না। মুখে সামনের অংশ খোলা রাখা যায়।

এই ধরনের হেলমেটে থুতনির অংশে কোনও গার্ড থাকে না। মুখে সামনের অংশ খোলা রাখা যায়। ছবি:সংগৃহীত।

এই ধরনের হেলমেট খুবই জনপ্রিয়। সাধারণত যাঁরা কাছে পিঠে যাতায়াতের জন্য হেলমেট খুঁজছেন বা বাইকচালকের পিছনে সওয়ারি হতে চান, তাঁদের জন্য এটি ভাল। এতে মাখার পিছনের অংশ, কপাল, কান ঢাকা থাকে। তবে থুতনির অংশটি খোলা থাকে। চোখ বা মুখের সামনের অংশ ঢাকার জন্য স্বচ্ছ ফাইবারের বর্ম থাকে, যেটি ইচ্ছামতো নামানো-ওঠানো যায়।

হাফ বা অর্ধ হেলমেট

এই হেলমেটে মাথার অংশটি  শুধু ঢাকা থাকে।

এই হেলমেটে মাথার অংশটি শুধু ঢাকা থাকে। ছবি:সংগৃহীত।

যাঁদের হেলমেট পরতে অস্বস্তি হয় তাঁদের জন্য ভাল। এই হেলমেটে শুধুই মাথার উপরের অংশ ঢাকা থাকে। অনেকটা অংশ খোলা থাকায় গরমে ভাল। প্রচুর হাওয়া ঢোকে। তবে এই হেলমেট হালকা হলেও, নিরাপত্তার দিক থেকে খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়।

ডুয়াল স্পোর্ট বা অ্যাডভেঞ্চার হেলমেট

শুধু নিরাপত্তা নয়, দ্রুত গতিতে বাইক ছোটানোর জন্যও এর নকশা তৈরি করা হয়।

শুধু নিরাপত্তা নয়, দ্রুত গতিতে বাইক ছোটানোর জন্যও এর নকশা তৈরি করা হয়। ছবি:সংগৃহীত।

বাইক শুধু যোগাযোগের বাহন নয়, অ্যাডভেঞ্চারেরও অংশ। দেশের নানা প্রান্তে কঠিন রাস্তায় বাইক নিয়ে ভ্রমণ করাও কারও কারও কাছে চ্যালেঞ্জ। যাঁরা দূর-দূরান্তে, কঠিন রাস্তায় বাইক নিয়ে যান, তাঁদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। সেই জন্যই তৈরি করা হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার হেলমেট। এই ধরনের হেলমেটের মাথায় ছাউনি বা প্লাস্টিকের একটি অংশ থাকে, যা বাইক চালানোর সময়ে মুখে রোদ পড়া আটকায়। আচমকা যাতে কোনও ডালপালা বা টুকরো কিছু ছিটকে না আসে সে জন্য বর্ম হিসাবে কাজ করে। ফুল ফেস হেলমেট বা পুরো মুখের হেলমেটের তুলনায় এর চোখ ঢাকার ফাইবারের অংশটি বেশ চওড়া হয়। বাইক আরোহীর আঁকাবাঁকা রাস্তায় আশপাশ দেখতে সুবিধা হয়।

দূর-দূরান্তের অভিযানে দীর্ঘ সময় বাইক চালাতে হয়। ডুয়াল স্পোর্ট হেলমেটে থুতনি এবং কপালে হাওয়া খেলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। চাইলে কেউ যাতে লম্বা যাত্রায় ভাল মানের রোদচশমা ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য এই ধরনের হেলমেটের সামনের দিকটি তুলে দেওয়ারও ব্যবস্থা থাকে। উচ্চ গতিতে বাইক চালানোর জন্য এর নকশাও হয় বিশেষ ধরনের।

অফ রোড হেলমেট

দুর্গম রাস্তায় বাইক চালানোর জন্য বিশেষ ধরনের নকশার হেলমেট তৈরি হয়। এগুলি হালকা কিন্তু মজবুত।

দুর্গম রাস্তায় বাইক চালানোর জন্য বিশেষ ধরনের নকশার হেলমেট তৈরি হয়। এগুলি হালকা কিন্তু মজবুত। ছবি:সংগৃহীত।

রুক্ষ, সর্পিলাকার পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের জন্য বিশেষ ধরনের হেলমেট নকশা করা হয়। এই ধরনের হেলমেটে থুতনির অংশটি একটু সামনের দিকে এগোনো থাকে। যাতে আরোহীর শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা না হয়। তা ছাড়া, চোখে যাতে রোদ না পড়ে, সে জন্য হেলমেটের সামনের অংশটি একটু ছুঁচলো হয়, থাকে বিশেষ বর্ম।

Helmet
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy