সাজপোশাক, ফ্যাশন, ট্রেন্ড নিয়ে নানা তথ্য আজ সবই প্রায় আমাদের হাতের মুঠোয়। অনেক কিছুই আমরা খুব সহজে জেনে যেতে পারি। তথ্যসমৃদ্ধ আমাদের মস্তিষ্ক, জীবন, জগৎ। শুধু ফ্যাশন কেন, গোটা দুনিয়াটাই তো আজ আমাদের সরাসরি কাছের। তাই লিখতে বসে মনে হয়, সাজপোশাক নিয়ে হালকা চালে সহজ দু’চার কথা বলি। সহজ কথার একটা নিজস্ব আবেদন আছে, আরাম আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে যা তথ্যনির্ভর, কিন্তু তথ্য-ক্লিষ্ট নয়।
আমরা যখনই নিজেদের সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করি, শাড়ি, পোশাক, গয়না, যা-ই হোক না কেন, তার পিছনে একটা ভাবনা থাকে। যে পোশাক বেছেছি তার দেশ, কোথায় যাচ্ছি তার ঠিকানা, কেন যাচ্ছি সেই উদ্দেশ্য, এ সব তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে, আমাকে কোনটা মানাবে। এই শেষ প্রশ্নটি অনেকের ক্ষেত্রে একটু কঠিন এবং গোলমেলে। আমি বলি, এই শক্ত প্রশ্নের সহজ সমাধানের কথা।
দক্ষিণী শাড়ির সাজের দু চার কথা বলতে গিয়ে এই গোড়ার আলাপ। কী মানাবে নিয়ে আপনি যখন বিভ্রান্ত, তখন সোজা চলে যান শাড়ির বাড়ির ঠিকানায়। তাঁতে বোনা দক্ষিণী শাড়ি আমার সব সময় প্রিয়। তাদের ঠাস বুনট, উজ্জ্বল রং, খাঁটি জরির কাজ— সব মিলিয়ে সম্পন্ন সম্ভার। অঞ্চল ভেদে, সুতি, সিল্ক মিলিয়ে নানা শাড়ি, বিচিত্র বুনন পদ্ধতি, পরার ধরন বদলে বদলে যায়। বদলে যায় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। তামিলনাড়ুর রাজকীয় কাঞ্চীপুরম শাড়ির জন্ম কাঞ্চীপুরমে। সিল্কের রানিসাহেবা। বিশিষ্ট করভাই পদ্ধতিতে বোনা হয়। বিয়েবাড়ি বা জমকালো অনুষ্ঠানের জন্য এদের সমাদর। কেরলের কাসাভু আবার নিপাট সাদা সুন্দরী। জরি পাড়। চকচকে, ম্যাটমেটে— দুরকমই হয়। সুতিতে বোনা হয়। ওনাম, বিয়ে এইসব অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত। তেলঙ্গানার গাদোয়াল আমরা কে না ভালবাসি! জমি সুতিতে বোনা, পাড় আর আঁচল সিল্কে। এ ছাড়াও তামিলনাড়ুর চেট্টিনাড, অন্ধ্রপ্রদেশের মঙ্গলগিরি, তেলঙ্গানার পোচম পল্লি ইত্যাদি তো আছেই।
যে কথা বলতে বসেছিলাম। শাড়ির বাড়ির কথা। দক্ষিণী শাড়ি যদি পরার কথা ভাবি, তাহলে তাদের দেশের মেয়েদের আদলে সাজলে কাজটা অনেক সহজ এবং সুন্দর হয় বলে আমার ধারণা। আর চেহারার আদলে যদি সামান্য সেই ছোঁয়া থাকে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! তাই তো অপর্ণার কথা মনে পড়ল। অপর্ণা রায়। খাঁটি বাঙালি কন্যা। কলকাতার মেয়ে। জরুরি চাকরি। কিন্তু তার দীঘল দেহে, শ্যামাঙ্গী চেহারায়, এক ঢাল কালো চুলে দক্ষিণের সুর বাজে। আদলের সেই দক্ষিণী আবহই সেজে বেজে উঠল কাঞ্চিপুরম, গাদোয়াল, কাসাভুর আলিঙ্গনে। সঙ্গের গয়নায়, টিপ পরার রীতিতে দক্ষিণী সংস্কৃতির অনুরণন। কিন্তু ছোট্ট নথ শুটের সময় পরাতে গিয়ে ভেঙে গেল। কী আক্ষেপ!
(মডেল: অপর্ণা রায়, ছবি: সহেলি দাস মুখোপাধ্যায়, ভাবনা ও পরিকল্পনা: শর্মিলা বসু ঠাকুর।)