ট্রেকিংয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আর সাহস থাকাই যথেষ্ট নয়। যাওয়ার আগের প্রস্তুতি, শারীরিক দেখভালের সঙ্গে দরকার ট্রেকিংয়ে যাওয়ার পরের কিছু নিয়মকানুন জেনে রাখাও।

যতই প্রস্তুতি নিন, ঠান্ডা ও উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে দু’–তিন দিন লাগে৷ তা ছাড়া একেবারে নতুন পরিবেশে শারীরিক সক্ষমতাকেও কাদে লাগাতে হয়। তাই ট্রেকিংয়ে যাওয়ার পরের সময়টুকুতে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতেই হয়।  

‘‘সমতল থেকে সরাসরি বেশি উচ্চতায় উঠে যাবেন না৷ দু’–এক হাজার ফিট ওঠার পর এক দিন বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে তার পর পরের গন্তব্যে যান৷ শখের ট্রেকাররা দিনে দু’হাজার ফিটের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠবেন না ও মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রার নীচের কোনও জায়গায় যাবেন না৷ বিশেষ করে যদি তাঁবুতে থাকতে হয়৷ সামলাতে পারবেন না৷’’  জানালেন ট্রেকার শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সঙ্গে জানালেন ট্রেকিংয়ে যাওয়ার পর আরও কিছু নিদান।

আরও পড়ুন: বাড়ি ফিরে এটা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন, ত্বকের যত্ন এ বার হাতের মুঠোয়!

ট্রেকিংয়ে যাওয়ার সময় জুতো ও ব্যাগ বাছুন সতর্কতার সঙ্গে।

  • বেরনোর সময় গরম জামা পরে নিন৷ হাঁটার ধকলে গরম লাগলে খুলে কোমরে বেঁধে নেবেন৷ বিশ্রাম নিলে আবার পরতে হবে৷ কারণ শরীর গরম থাকলে হাঁটতে সুবিধে হয়৷

  • পাহাড়ি পথ বেয়ে ওঠার সময় জুতোর ফিতে একটু ঢিলে বাঁধলেও ক্ষতি নেই৷ কিন্তু নামার সময় কষে বাঁধুন৷ না হলে আঙুলে চোট লাগতে পারে৷ দমে টান পড়লে লাঠিতে ভর দিয়ে একটু দাঁড়িয়ে নিন৷ খুব ফিট না হলে শর্টকাটে না উঠে সোজা রাস্তায় চলুন৷ ধকল কম হবে৷

  • কাঁকড় ঢুকলে জুতো ঝেড়ে আবার পরতে হবে৷ না হলে কিন্তু জুতো খুলবেন একেবারে রাতে শোওয়ার আগে৷ আগুন পোহানোর সুযোগ থাকলে অবশ্য ট্রেকিংয়ের শেষে খুলতে পারেন৷

  • হাঁটার সময় রুক স্যাকের পেলভিক স্ট্র্যাপও ভাল ভাবে বেঁধে নিন৷ না হলে পিঠে–কোমরে–কাঁধে ব্যথা হবে৷  ভারী ব্যাগ নিয়ে চলার অভ্যাস না থাকলে কুলি নিন৷ পিঠের হালকা ন্যাপস্যাকে লিটার খানেক জল, বর্ষাতি, কিছু হালকা শুকনো খাবার ও গরম জামা নেবেন৷

  • শরীর না চললে পথের পাশে দু’–পাঁচ মিনিট বসে বিশ্রাম নিতে পারেন৷ তার পর একটু স্ট্রেচিং করে আস্তে আস্তে হাঁটা শুরু করুন, না হলে পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে৷

  • তাড়াহুড়ো করবেন না৷ গন্তব্যে পৌঁছনো যেমন জরুরি, পথের সৌন্দর্য উপভোগ করা আরও জরুরি৷ তা ছাড়া প্রথমেই সব ক্ষমতা শেষ হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত আর টানতে পারবেন না৷

আরও পড়ুন: ট্রেকিংয়ে যাচ্ছেন? এ সব জিনিস সঙ্গে রাখুন অবশ্যই

খাওয়াদাওয়ার নিদান

সচেতন থাকুন খাওয়াদাওয়া নিয়েও। ৮–১০ হাজার ফিটের উপরে গেলে খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন৷ খুব বেশি মাংস, টিনের খাবার ইত্যাদি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে৷ সকালে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার মোটামুটি পেট ভরে খেয়ে বেরোন৷ খিচুড়ি বা ফেনাভাতের সঙ্গে মাখন–ডিমসেদ্ধ–আলু খাওয়া হয় সচরাচর৷ সম্ভব হলে রুটি–তরকারি, পাউরুটি–ডিম ইত্যাদিও খাওয়া যেতে পারে৷

খাওয়াদাওয়া হওয়া উচিত হালকা ও স্বাস্থ্যকর।

কোনও ভাবেই যেন শরীরে জলের ঘাটতি না হয়৷ দিনে কম করে ৩–৪ লিটার তরল খান৷ তার মধ্যে উষ্ণ জল, স্যুপ, চা ইত্যাদি আছে৷ দিনে এক–আধবার ওআরএস খান৷ ক্লান্তি ও পেশিতে টান ধরার সমস্যা কম হবে৷ হাঁটার পথে এনার্জি বজায় রাখতে টুকটাক হাই ক্যালোরি খাবার খান৷ যেমন খেজুর, কিসমিস, কাজু, অ্যামন্ড, বাদাম৷ কখনও চকোলেট৷ কখনও গরম স্যুপ, চা বা খিদে পেলে মুড়ি-চিড়ে। ম্যাগি খুব একটা স্বাস্থ্যকর খাবার নয়, তাই বানানোর সুবিধা ও সহজলভ্য হলেও এড়িয়ে চলুন।

বিকেলে ফিরে প্রথমে বেশ খানিকটা চা–স্যুপ৷ রাতে গরম খিচুরি বা ফেনাভাত৷ ডিম বা চিকেন পাওয়া গেলে, তাও খাওয়া যেতে পারে৷ মদ বাদ দিন। ওতে শরীরে চাপ পড়ে। লিভারেও অসুখ ঢোকে।

নাক বন্ধের কারণে ঘুম না এলে ডিকনজেসট্যান্ট ড্রপ দিন নাকে৷ বেশি জামাকাপড় পড়ার জন্য সমস্যা হলে জামা–কাপড় কিছু কমিয়ে গরম জলের ব্যাগ নিয়ে শুতে পারেন৷