Advertisement
E-Paper

সকলের আঙুল তাঁর দিকে, তাঁকে খুঁজছে পুলিশও, গোলপার্কের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু প্রকাশ্যে লাইভ ভিডিয়োয়!

গোলপার্কের ঘটনায় মঙ্গলবার আরও দু’জন গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতদের নাম রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনা এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ। এই বাবুসোনার সঙ্গে ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন পাপ্পু।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৭
সোনা পাপ্পু।

সোনা পাপ্পু। ছবি: সংগৃহীত।

গোলপার্কে গন্ডগোলের ঘটনার পরে দু’দিন কেটে গেলেও এখনও অধরা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। স্থানীয়দের অভিযোগের আঙুল তাঁর দিকেই। এ বার সেই পাপ্পু ফেসবুক লাইভ করে দাবি করলেন, ওই ঘটনার দিন তিনি নিজের বাড়িতে ছিলেন। এই ঘটনায় ধৃতের সঙ্গে তাঁর ছবির প্রসঙ্গে পাপ্পুর দাবি, কারও সঙ্গে কোনও ছবি থাকলেই কিছু প্রমাণ হয় না। সমাজমাধ্যমে তাঁর লাইভ নিয়ে পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিষয়ে তদন্তকারীরা অবগত। গোলপার্কের ঘটনায় যে অভিযোগ হয়েছে, তার মধ্যে পাপ্পুর নামও রয়েছে। তাঁর খোঁজ চালানো হচ্ছে বলেও খবর।

মঙ্গলবার পাপ্পু ফেসবুক লাইভ করেন। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি গাড়ির ভিতরে তিনি বসে রয়েছেন। শুরুতেই তিনি দাবি করেন, লাইভ করা তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু ‘বাধ্য’ হয়েই তা করছেন। কেন, তা-ও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘রবিবারের পর থেকে শুনছি, সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করতে হবে। কারণ, সে না কি কোথায় ঝামেলা করেছে।’’ এর পরেই পাপ্পু দাবি করেন, রবিবার রাতে ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। তাঁর কথায়, ‘‘রবিবার আমার বাড়িতে মাঘী পূর্ণিমার পুজো ছিল। সকাল থেকে পুজোয় বসেছিলাম উপোস করে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুজোয় ছিলাম। আমার বাড়ির ক্যামেরায় (সিসি) আমাকে দেখা গিয়েছে। আমার স্ত্রী লাইভ করছিলেন। সকলে দেখেছেন। সশরীরে বাড়ির পুজোয় থাকলে ঝামেলায় কী ভাবে যাব?’’

গোলপার্কের ঘটনায় মঙ্গলবার ময়দান এলাকা থেকে আরও দু’জন গ্রেফতার হয়েছেন। ধৃতদের নাম রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনা এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ। এফআইআরে তাঁদের নাম ছিল। তবে কার কী ভূমিকা, তা এখনও জানা যায়নি। এই বাবুসোনার সঙ্গে ছবি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন পাপ্পু। সেই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কারও সঙ্গে আমার ছবি থাকলেই আমি দোষী হয়ে গেলাম?’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাকেশ সিংহের ছবি রয়েছে। রাকেশ জেল খাটছে। তাঁর দোষে শুভেন্দুকে কেন গ্রেফতার করা হল না? তাঁকেও গ্রেফতার করা উচিত ছিল।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমার সঙ্গে বাবুসোনার ছবি রয়েছে। একই এলাকার ছেলে। অনেক সময়ে আমার থেকে সাহায্য চাইতে এসেছে। আমি জনপ্রতিনিধি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নীরব মোদীর ছবি রয়েছে। নীরব পালিয়ে গিয়েছে টাকা চুরি করে। ভারতের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে। তা হলে নীরবের জায়গায় মোদীকে গ্রেফতার করা উচিত।’’

গোলপার্কের ঘটনায় পাপ্পুকে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই নিয়ে লাইভে পাল্টা তাঁর দিকে আঙুল তোলেন পাপ্পু। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু বলেছিলেন, আমি বিড়ি কুড়িয়ে খাই। ওঁর বা ওঁর দল বিজেপির দক্ষিণ কলকাতায় সংগঠন নেই। তাই খবর নেই। আমার বাবার তিনটি সোনার দোকান রয়েছে। আমি নিজেও ব্যবসা করি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘আমি নই, তিনি (শুভেন্দু) বিড়ি কুড়িয়ে খান। ফুলেফেঁপে উঠেছেন। তৃণমূলের হাত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁকে হয়তো বার করে দিয়েছেন। আমি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় জানি না। বিজেপি-তে গিয়েছেন চুরির টাকা বাঁচানোর জন্য।’’ এখানেই থামেননি পাপ্পু। তিনি বলেন, ‘‘আমি নাকি মিছিল, সভা আটকাই। আমার নামে থানায় রিপোর্ট করেননি কেন? আপনাদের সংগঠন নেই। দোষ চাপাতে হবে, তাই চাপাচ্ছেন।’’

গত রবিবার কলকাতায় রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকার গোলপার্কে কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই গোলমালের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়ায় বার বার উঠে এসেছে পাপ্পুর দলবলের নাম। সোনা পাপ্পুর দলবলই এলাকায় এসে গন্ডগোল পাকিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। রবিবার রাতে গন্ডগোলের ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের সূত্র বলছে, পাপ্পুর খোঁজও চলছে।

রবিবার রাতের গন্ডগোলে রবীন্দ্র সরোবর থানায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের গাড়িতে হামলার জন্য একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলাও রয়েছে। এর মধ্যে রবিবার রাতেই দশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবারও বেশি রাতের দিকে তল্লাশি চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy